logo
শুক্রবার ২৪ মে, ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

বিচ্ছেদের দুই সপ্তাহ বাকি

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটকে 'না' ব্রিটিশ পার্লামেন্টের

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি জরুরি : ইইউ মে'র উচিত সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেয়া : করবিন

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটকে 'না' ব্রিটিশ পার্লামেন্টের
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে'র ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া বাতিল করে দেয়ার পর এবার কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও (নো ডিল ব্রেক্সিট) নাকচ করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। বুধবার পার্লামেন্টে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছিল- '২৯ মার্চের পর সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে রূপরেখা তৈরি না করে এবং কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসাকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে হাউস।' এদিন প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন ৩২১ জন এমপি। আর বিপক্ষে ভোট দেন ২৭৮ জন। সংবাদসূত্র : বিবিসি

ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, বুধবারে ভোটের ফল সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ সরকার চাইলে এখনো কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যে বিকল্পগুলো যুক্তরাজ্যের সামনে ছিল, তার একটি হলো 'নো ডিল ব্রেক্সিট'। অর্থাৎ ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এমনিতেই বেরিয়ে যাবে, কোনো চুক্তি হবে না। সেক্ষেত্রে বিচ্ছেদ হবে হুট করেই, বিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পর্ক কেমন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর কাঠামো কেমন হবে, কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরনই বা কী হবে- সেসব বিষয় অনির্ধারিতই থেকে যাবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসতে (ব্রেক্সিট) আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এক গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে গত নভেম্বরে জোটটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন থেরেসা। সেই ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত জানুয়ারির ভোটাভুটিতে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ব্রিটিশ এমপিরা থেরেসা মে'কে ইইউ'র সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ দেন। গত সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর থেরেসা দাবি করেন, পরিকল্পনায় 'আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক' পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'হাউস অব কমন্সে' থেরেসার সেই সংশোধিত পরিকল্পনাটি নিয়ে আবারও ভোটাভুটি হলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এ অবস্থায় চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট পরিস্থিতি ঠেকাতে বুধবার আরও একটি ভোটাভুটি করে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। রায় আসে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ফের ভোটাভুটিতে যাওয়ার কথা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের; যেখানে এমপিরা ঠিক করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরও সময় চাওয়া হবে কিনা।

মঙ্গলবার থেরেসার সংশোধিত প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা 'এখন আগের চেয়ে আরও বেশি জরুরি'। বুধবার চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এখন আর্টিক্যাল ফিফটি এর সময়সীমা বাড়িয়ে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার ব্যাপারে ভোটাভুটি হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসার আইনি প্রক্রিয়াই হলো আর্টিক্যাল ফিফটি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে,আর্টিক্যাল ফিফটির মেয়াদ বাড়ানোর আগে তাদেরকে 'একটি নির্ভরযোগ্য পর্যালোচনা'য় যেতে হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন বলেন, এখন থেরেসা মে'র উচিত সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেয়া। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটকে আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। করবিন জানিয়েছেন, বিকল্প ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উপস্থাপন করে যাবে তার দল। তবে লেবার পার্টি ব্রেক্সিট প্রশ্নে আরেকটি গণভোটকে সমর্থন জানাবে কিনা, সে ব্যাপারে কিছু উলেস্নখ করেননি তিনি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে