logo
শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০  

গভীর সংকটে থাইল্যান্ড

গভীর সংকটে থাইল্যান্ড
প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচাকে
থাইল্যান্ড এখন কোন পথে হাঁটছে- গণতন্ত্র, নাকি গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতন্ত্র? সাবেক সেনাশাসক প্রায়ুথ চান-ওচা থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এ প্রশ্নটাই উঠেছে বেশ জোরের সঙ্গে। বলা হচ্ছে, টানা ১০ ঘণ্টা পার্লামেন্টে ব্যাপক তর্ক-বিতর্কের পর প্রায়ুথ চান-ওচাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু ভোট শেষে দেখা গেছে, পার্লামেন্ট সদস্যদের ৫০০ জনই প্রায়ুথ চান-ওচার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, সেনাবিরোধী দলগুলোর প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী পেয়েছেন কেবল ২৪৪ ভোট।

২০১৪ সালে এক অভু্যত্থানে ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী পদেই আছেন প্রায়ুথ চান-ওচা। কিন্তু মার্চের নির্বাচনের পর তার নেতৃত্বে সেনাশাসনকে গণতান্ত্রিক রুপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে গত বুধবারের ভোটাভুটির সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত ছিলেন না প্রায়ুথ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরও জনসম্মুখে আসেননি তিনি। কখন জনগণের সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন, সে তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পর বৃহস্পতিবার ফেসবুকে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সকল 'দায়িত্ব' সুষ্ঠুভাবে পালন করার প্রতিশ্রম্নতিও দিয়েছেন প্রায়ুথ।

গত পাঁচ বছরে দেশটির প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। জান্তাবিরোধীদের অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে সেনাশাসনেরই আরেক ধারা চালু করা হচ্ছে। সেনা তত্ত্বাবধানে প্রণয়ন করা নতুন সংবিধান অনুসারে সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছে বিশেষ সুবিধা। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সব শাখার প্রধানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিনেটের সদস্য বনে যাওয়ার বিধান রয়েছে এই সংবিধানে।

এতকিছুর মধ্যেও সরকার চালাতে প্রায়ুথকে বেশ বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষেই প্রায়ুথকে আগে আইন পাস করাতে হবে। কিন্তু সেখানে তার ১৯ দলীয় জোট মাত্র চার আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে, এই দুর্বল সরকার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া প্রায়ুথের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হতে পারে।

সেনাপ্রধান হিসেবে যেভাবে একক সিদ্ধান্তে দেশ চালাতে পারতেন প্রায়ুথ, এখন আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে পার্লামেন্ট গঠিত হওয়ায় সে সুযোগ আর থাকছে না। অতীতে সেনা নিয়োজিত পার্লামেন্টে যেকোনো সিদ্ধান্ত পাস করানো তার পক্ষে যতটা সহজ ছিল, এখন বিরোধীদের সামনে দাঁড়িয়ে তা ততটাই কঠিন হবে।

ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থিতিনান পংসুধিরাক মনে করেন, 'এতদিন একটা স্ট্রংম্যান ভাব ধরে থাকলেও, এখন প্রায়ুথকে আরও বেশি জবাবদিহি ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে এবার তাকে আমরা প্রায়শই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে দেখবো। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তার জোট সরকার টিকবে কতদিন?'

২০১৪ সালে ক্ষমতা দখলের পর সংবিধান বাতিল করে একটি অন্তর্বর্তী সংবিধান প্রণয়ন করে সেনাবাহিনী। সেই সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রায়ুথকে কারও অনুমোদন ছাড়াই আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়। সেই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবে ও অনলাইনে সেনাশাসনের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কিছু আইন প্রণয়নও করেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভা নিয়োগের পর এই অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বটে, কিন্তু এর অধীনে করা আইনগুলো বলবৎ থাকবে।

এমন প্রেক্ষাপটে, দেশটির একদা শক্তিশালী অর্থনীতি আরও নাজুক রূপ নেবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অস্থিতিশীল ও দুর্বল সরকারের নেয়া বিভিন্ন নীতিতে কতটা আস্থা রাখতে পারবেন, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

একদিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিরোধীদের শক্তিশালী অবস্থান, অন্যদিকে এতগুলো দল মিলে নামমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা জাতীয় বাজেটের মতো বড় বড় সিদ্ধান্তকে ফেলতে পারে জটিলতার মুখে। বড় যেসব সরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর জন্য অর্থ ছাড়ও কঠিন হবে।

এমন পরিস্থিতে এখনই দেশটিতে বড় বিনিয়োগের দিকে যেতে চাইছেন না বিনিয়োগকারীরা। সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিবিদ তার্নোন বুনুচ বলছেন, 'দুর্বল ও স্বল্পস্থায়ী সরকারের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যবসানীতিও এক থাকবে কি-না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ পরিস্থিতি প্রভাব ফেলবে প্রবৃদ্ধিতেও।'

২৪ মার্চের নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে নির্বাচিত না হওয়ায় তখন থেকেই উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি বছরের প্রথম চার মাসে কেবল ২.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে তা আরও নিচে নেমে যেতে পারে। সংবাদসূত্র : ডয়চে ভেলে, ডিপিএ, রয়টার্স, এপি
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে