logo
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

পুনর্গঠন বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

কাশ্মীর দ্বিখন্ডিত হচ্ছে অক্টোবরে

আগামী ৩১ অক্টোবর বলস্নভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে যাত্রা শুরু হবে বিশেষ মর্যাদা ফেরাতে আদালতের দ্বারস্থ ন্যাশনাল কনফারেন্স

কাশ্মীর দ্বিখন্ডিত হচ্ছে অক্টোবরে
আগে এখন
যাযাদি ডেস্ক

বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করতে আনা একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। শুক্রবার কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন, ২০১৯ নামে এই বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। এর আগে গত সপ্তাহে ভারতের পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই এই বিল পাস হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই আইন অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ওইদিনটিতে ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বলস্নভভাই প্যাটেলের ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী পালন করবে ক্ষমতাসীন বিজেপি। সংবাদসূত্র : এনডিটিভি, ইনডিয়ান এক্সপ্রেস

অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন আর পর্যটকদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশের পর গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে ওইদিনই রাজ্যসভায় বিলের প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেদিনই রাজ্যসভায় পাস হয় এই বিল। বুধবার পাস হয় লোকসভায়। আর শুক্রবার রাষ্ট্রপতির সম্মতির মধ্যদিয়ে আইনে পরিণত হয় ওই বিল।

এই আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে পুদুচেরির মতো আইনসভা থাকবে। তবে লাদাখ হবে চন্ডিগড়ের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এই অঞ্চলের কোনো আইনসভা থাকবে না। দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থাকবে কেন্দ্রের অধীনে।

জম্মু-কাশ্মীর আইনসভার ২৪টি আসন পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের অভ্যন্তরে পড়ায় তা শূন্য অবস্থায় থাকবে। বর্তমানে এই আইনসভার কার্যকর আসন সংখ্যা ৮৭টি। এর মধ্যে চারটি আসন পড়েছে লাদাখ অঞ্চলে। এই আসনগুলো এখন আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হবে। পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী, ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কাশ্মীরের থাকবে পাঁচ আসন আর লাদাখের থাকবে একটি আসন।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পর আপাতত দুই জায়গায় দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (উপ-রাজ্যপাল) কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। যদিও জম্মু ও কাশ্মীর খুব বেশিদিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থাকবে না বলে কাশ্মীরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি শিগগিরই সেখানে বিধানসভার নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রম্নতিও দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'তার সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে কাশ্মীরে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। সেখানে শিল্পায়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতো হবে না। সেখানে বিধানসভা থাকবে, নির্বাচন হবে, মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, থাকবে মন্ত্রিসভাও। ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এই অনুচ্ছেদ স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। এই বিচ্ছিন্নতা ও সন্ত্রাসবাদের কারণে গত তিন দশকে কাশ্মীর অঞ্চলে ৪২ হাজার নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।' জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেন 'জম্মু-কাশ্মীরের জনগণই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। সেখানে আগের মতো মুখ্যমন্ত্রীও থাকবে। ওই অঞ্চলে একবার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে এলেই জম্মু-কাশ্মীর আবারো পুরোদস্তুর রাজ্য হয়ে যাবে।'

মর্যাদা ফেরাতে আদালতের

দ্বারস্থ ন্যাশনাল কনফারেন্স

এদিকে, ভারতীয় সংবিধান প্রদত্ত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুলস্নার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স। দলটির দাবি, সরকারের এই পদক্ষেপ 'বেআইনি'।

উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে আগাম সতর্কতা নেয় কেন্দ্র। জম্মু-কাশ্মীরে প্রচুর সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ওমর আবদুলস্নাহ এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ছাড়া কয়েকশ রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই ওমর আবদুলস্নাহ আভাস দিয়েছিলেন যে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে তার দল। ন্যাশনাল কনফারেন্সের দুই এমপি আকবর লোন এবং হাসনাইন মাসুদি শীর্ষ আদালতে শনিবার এই পিটিশন দায়ের করেছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে