logo
বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

বিক্ষোভকারীদের আলটিমেটাম

ইমরানেই আস্থা পাক বাহিনীর

পদত্যাগ করবেন না প্রধানমন্ত্রী বাড়াবাড়ি করলে কঠোর ব্যবস্থা বিক্ষোভকারীদের হুমকিতে ইমরানের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার

ইমরানেই আস্থা পাক বাহিনীর
ইমরান খান মাওলানা ফজলুর রহমান
তুমুল আন্দোলনের মুখে ইমরান খান সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে বিচ্ছিন্ন গুটি কয়েক দলের আস্ফালন বলেও মন্তব্য তাদের। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ইমরানও পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা উল্টো বেশি বাড়াবাড়ি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তবে যেকোনো মূল্যে ইমরানকে কুরসি থেকে টেনে নামানোর লক্ষ্যে অটল বিক্ষোভকারীরা দুইদিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, ডন

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর শনিবার বলেন, 'সেনাবাহিনী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা সরকারের সমর্থনে কাজ করে যাবো। কোনো নির্দিষ্ট দলের আন্দোলনে আমরা পক্ষ নেবো না। নির্বাচনে সেনা সদস্যরা আইনি দায়িত্ব পালন করেছে। যারা আন্দোলন করছে, তাদের উচিত নির্বাচনের মাধ্যমে এসে দেশের হয়ে কথা বলা।'

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কার্যত অচল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। একদিকে পুলিশি বলয়, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের রাজপথ ঘেরাও। সব মিলিয়ে ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় বেকায়দায় পড়েছে তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি। বিক্ষোভকারীরা বলছে, 'দুই দিনের সময় দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে। তিনি যদি এর মধ্যে পদ না ছাড়েন, তবে এর পরিণতি খুব খারাপ হবে। আজ হোক, কাল হোক, দাবি মানতেই হবে। তাকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে।'

ইমরান খানকে উৎখাতে গত বুধবার লাহোর থেকে শুরু হয় 'আজাদি মার্চ'। এর নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জমিয়ত-ই-ইসলাম (জেইউআই) পার্টির আমির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। আজাদি মার্চের মিছিলে শামিল হন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) নেতারাও। ইমরান খান সরকারকে উৎখাতের সংকল্প নিয়ে এই 'মহামিছিল' বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছায়। মিছিলে হাজার হাজার জনতা যোগ দিয়েছে।

শনিবার কয়েক হাজার মানুষের জমায়েতে পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল) সভাপতি শেহবাজ শরিফ বলেন, 'এই ভুয়া সরকারকে উৎখাতের সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা ইমরান খানকে শান্তিতে থাকতে দেব না।' এছাড়া জেইউআই পার্টির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, 'ভোট কারচুপি করেই পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান। এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত। না হলে আমরাই তাকে উৎখাত করবো।' তিনি আরও বলেন, 'ইমরান খানের সরকার সেনাবাহিনীর ওপর ভর করে টিকে আছে।'

বিক্ষোভকারীদের হুমকিতে নিরাপত্তা জোরদার

এদিকে, পদত্যাগ না করলে বিরোধীদলীয় বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে 'গ্রেপ্তার' করবে বলে হুমকি দিয়েছেন জেইউআই-এফের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তার এই হুমকির পর রোববার ইসলামাবাদে ইমরান খানের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত বছরের নির্বাচনে জালিয়াতি করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগ এনে ইমরান খানকে পদত্যাগের দাবিতে গত দুই দিন ধরে ইসলামাবাদে টানা বিক্ষোভ করছে বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা দেশটির বিরোধী দল জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান হুমকি দিয়ে বলেন, দুদিনের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগে যদি ইমরান খান পদত্যাগ না করেন, তাহলে বিরোধীদলীয় বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করবেন। মাওলানা রহমানের এই হুমকির পর ইসলামাবাদে ইমরান খানের বানি গালার বাসভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত আছে। রাজধানী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন ও স্থাপনা সুরক্ষায় এলিট ফোর্স ও প্যারামিলিটারি রেঞ্জার্স সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি দপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় এরই মধ্যে সমুদ্র পথে ব্যবহৃত বড় কন্টেইনার এনে রাখা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পার্লামেন্ট ভবনসহ স্পর্শকাতর বেশ কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে। মাওলানা ফজলুর রহমানের হুমকির পর ইসলামাবাদের বানি গালাতে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশের রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সড়কই একেবারে বন্ধ করে দেয়া হয়নি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাট্টাক বলেন, বিক্ষোভের আয়োজক জমিয়ত-ই-ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজুলর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হবে। কারণ ফজলুর রহমান বলেছেন, তিনি ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করবেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে