logo
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

হংকংয়ে বিপজ্জনক অস্থিরতা সহ্য করা হবে না :চীন

বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণ করতে হবে :ক্যারি লাম সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ইইউয়ের

হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের প্রতি ফের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। সোমবার হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের একদিন পর মঙ্গলবার একজন চীনা কূটনীতিক এবং অঞ্চলটির চীনপন্থি রাজনীতিক এমন হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদসূত্র : বিবিসি, সিএনএন

চীনপন্থি রাজনীতিক ও হংকং আইন পরিষদের সাবেক প্রধান জেসপার সাং বলেন, হংকংয়ের বিক্ষোভকে 'নিয়ন্ত্রণহীন' পরিস্থিতিতে রূপান্তর করা হবে। আর বেইজিং তা চেয়ে চেয়ে দেখবে? এমনটা কখনোই হবে না। পরিস্থিতি দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, যা সহ্য করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সোমবার হংকংয়ের বিক্ষোভে সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং। লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি হংকং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুব চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই অস্থিরতা থামানোর মতো পর্যাপ্ত সমাধান ও ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।'

এদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, গত মাসে বিক্ষোভকারীদের মুখোশ ব্যবহারে হংকংয়ের হাইকোর্ট যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা এখতিয়ার বহির্ভূত। হংকংয়ের যে কোনো সাংবাধানিক আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার কেবল বেইজিংয়ের রয়েছে। নতুন করে চীনের এই ঘোষণা হংকংয়ে বিক্ষোভ উসকে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল, হংকংয়ের বিচার ব্যবস্থায় চীনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

বাইরে পুলিশ, ভেতরে ২০০ শিক্ষার্থী

বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার হংকংয়ের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। চীন নিয়ন্ত্রিত শহরটির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানালেও অনেক শিক্ষার্থী তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তুমুল সংঘাতের পর থেকেই পুলিশ ওই ক্যাম্পাসটি ঘিরে রাখে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নির্বাচন ও সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ও তীর ছুঁড়ছে। গত জুনে প্রত্যার্পণ বিল বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর গত দুদিন শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান ছিল সবচেয়ে সহিংস।

তবে ভেতরে থাকা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছয়শর মতো এরই মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার সকালে ১৮ বছরের নিচের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসটি ছাড়ে; তাদের সঙ্গে মাধ্যমিক স্কুলের অধ্যক্ষসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ ক'জন কর্মকর্তাও ছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে। তবে ১৮ বছরের বেশি বয়সী বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাধানোর অভিযোগ আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণ হলে এ অভিযোগে একেকজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণ

করতে হবে : ক্যারি লাম

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম মঙ্গলবার বলেছেন, 'তিনদিনের অচলাবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নেয়া বিক্ষোভকারীদের অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে।' তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। এ অস্থিরতার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইলে তাদেরকে অবশ্যই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, 'বিক্ষোভকারীরা পুরোপুরি সহযোগিতা করলে কেবলমাত্র এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এক্ষেত্রে দাঙ্গাকারীদের প্রথমেই অস্ত্র পরিত্যাগ করে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে পুলিশের নির্দেশনা মানতে হবে।'

সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের

আহ্বান ইইউয়ের

এদিকে, হংকংয়ের বিদ্যমান অস্থিরতায় সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন আহ্বান জানানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে বলেন, যেকোনো সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, 'সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টায় সব গঠনমূলক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপগুলো অবশ্যই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। হংকংয়ের বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারগুলোর সুরক্ষা অবশ্যই বহাল রাখতে হবে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে