logo
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

পাঠক-মত

মাদককে না বলি, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ি

মাদককে না বলি, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ি
বিশ্বায়নের যে কয়টি উপসর্গ ঘৃণিত ও কলঙ্কিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম, সব অপরাধের জনক মাদক। এটি চুরি, ডাকাতি, খুন ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধের নেপথ্যের অন্যতম কারণ। ছিনতাই কিংবা খুনের ঘটনা মাদকাসক্ত লোকের মাধ্যমে ঘটছে- এমন নজির বহু রয়েছে। মাদক নির্মূল না করতে পারলে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে। কেননা অধিকাংশ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পেছনে রয়েছে মাদকের কালো থাবা। মাদকাসক্তদের মধ্যে ছাত্র, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, রিকশাচালক ও অন্যান্য পেশার মানুষও রয়েছে। বাদ যাচ্ছে না নারীরাও। এক সমীক্ষায় জানা যায়, শতকরা ৮০ ভাগ মাদকাসক্তের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে, আমাদের মূল চালিকাশক্তি তরুণদের একটি বিরাট অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে; যা দেশের প্রগতি ও সমৃদ্ধির অন্তরায়। মাদকাসক্তি বলতে মাদকদ্রব্যের প্রতি নেশাকে বোঝায়। যেসব দ্রব্য সেবন করলে আসক্তির সৃষ্টি হয়, জ্ঞানার্জনের স্পৃহা ও স্মৃতিশক্তি কমে যায় সেগুলো মাদকদ্রব্য। ব্যাপক অর্থে, যে দ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উলেস্নখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং ওই দ্রব্যের প্রতি নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি দ্রব্যটি গ্রহণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকে এমন দ্রব্যকে মাদকদ্রব্য বলে। ব্যক্তির এ অবস্থানকে বলে মাদকাসক্তি। মাদকদ্রব্য আসলে কি কি তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নাম বলা সম্ভব নয়। মানুষ নেশার জন্য যা ব্যবহার করে তাই মাদকদ্রব্য। সেটি হতে পারে ইনজেকশন, ধূমপান বা যে কোনো মাধ্যম। বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- সিগারেট, বিড়ি, তামাক, তাড়ি, গাঁজা, হিরোইন, কোকেন, ইয়াবা, আফিম, মারিজুয়ানা, ফেনসিডিল, চরস, ভাং, মরফিন, মদ, বিয়ার, কেটামিন ইত্যাদি। মাদকের সঙ্গে অপরাধ ও অপরাধীর একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত মাদকসেবীরা মাদক সংগ্রহের জন্য অর্থের ওপর নির্ভর করে। আর এই অর্থ জোগাড় করতেই ছিনতাই এমনকি খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না তারা। কিছু গবেষণায় দেখে গেছে, মাদকদ্রব্যের ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে অপরাধ করার সাহস বেড়ে যায়। বায়োলজিক্যাল তাত্ত্বিক ও গবেষকরা এটিকে 'মাদকের প্রতিক্রিয়া' বা 'ফার্মোকোলোজিকাল ইফেক্ট' বলে অভিহিত করেছেন। এর ফলে একজন ব্যক্তি যখন মাদক ব্যবহার করেন তখন মাদকের প্রতিক্রিয়ায় তার ভেতর সাহস বেড়ে যায় এবং সে তখন অপরাধ করতে ভয় পায় না। আর এ কারণে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই, নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা, মাকে জবাই করা, নেশাখোর বাবা মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার ক্রোধে নিজ সন্তানকে খুন, কিংবা আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো সব অমানবিক ঘটনা। খোদ রাজধানীতেই মাদকসেবী মেয়ের হাতে পুলিশ অফিসার বাবা ও মা খুনের ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়। অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন- ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্যের কারণে অপরাধ বাড়ছে। তাই অপরাধ হ্রাস করতে হলে অবশ্যই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে। অন্যথায় দিন দিন অপরাধ বাড়তে থাকবে। একজন মানুষ মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, অবরুদ্ধ হয়ে যায় বিবেক, যার ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির দ্বারা যে কোনো ধরনের অপরাধ মুহূর্তের মধ্যেই সংঘটিত হয়ে যায় কোনো অনুশোচনা ছাড়াই। স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা, গুলি বা ছুরিকাঘাতে হত্যা করা কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার আধিক্যের পেছনেও মাদকাসক্তির ভূমিকা অন্যতম। দেশে এখন মাদকসেবীর সংখ্যা ৭০ লাখেরও অধিক। ২০১৭ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ইয়াবার ব্যবহার ৮০ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। ২০১২ সালে মোট মাদকসেবীর মধ্যে ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা হয়েছে ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ছিল ৪৬ লাখ, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৭০ লাখ। ৭০ লাখের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি বয়সের মাদকসেবী আছে ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৭০ ভাগের বয়সই ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ভৌগোলিকভাবে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের কারণে আমাদের দেশে নানাভাবে মাদক প্রবেশ করে থাকে। অত্যন্ত লাভজনক এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র। নানা কৌশলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসছে তারা। রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল কোথাও বাদ যাচ্ছে না এ রমরমা ব্যবসা। পাশাপাশি হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকও পাওয়া যায় হাতের নাগালে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড,র্ যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য মামলা, আসামি ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যর এক তথ্যে জানা যায়, ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৫১.৫০৬ কেজি হেরোইন, ০.৭৫ কেজি কোকেন, ৭.২৭৭ কেজি আফিম, ৬০২৯৫.১২৪ কেজি গাঁজা, ৭ লাখ ১৫ হাজার ৫২৯ বোতল ফেনসিডিল, ৫৩৯.৯৫ লিটার ফেনসিডিল, ১০ লাখ ৫ হাজার ৭১৯ বোতল বিদেশি মদ, ৭৩৬.১৮ লিটার বিদেশি মদ, ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি এবং আসামির সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন। মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার আমদানি, সরবরাহ ও বেচাকেনার জন্য নিরাপদ হিসেবে নারী ও শিশুদের বেছে নিচ্ছে। সস্তা শ্রম আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়ানোর সহজ উপায় হিসেবে শিশুদের 'কুরিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এদের মধ্যে ছিন্নমূল পথশিশুদের সংখ্যাই বেশি। পেটের জালা বা দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাতে অনেকসময় এসব অসাধুচক্রের খপ্পরে পড়ে যায় তারা। মাদক বহন করতে গিয়ে একসময় নিজেরাই মাদকাসক্ত হয়ে যায়। আবার অনেকে মাদকাসক্তি থেকে আসছে ব্যবসায়। রাজধানীসহ সারা দেশে এখন অনেক শিশু ফেনসিডিল, অ্যালকোহল, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথেডিনের মতো মাদকদ্রব্যের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও মাদকপাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরো ২০০২-০৩ সালে এক গবেষণায় বলেছে, পথশিশুদের ৪৪ শতাংশ মাদকাসক্ত। আইসিডিডিআরবি সর্বশেষ ২০১১ সালের এক গবেষণায় ৫১ শতাংশ পথশিশুর মাদকাসক্তের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যানুযায়ী, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ৮ শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করে। এটি কয়েক বছর আগের গবেষণা তাদের। অনেকেই পর্দার আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বহনকারী এবং মাদকসেবী কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত রাঘব-বোয়ালরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। মাদক সংশ্লিষ্ট চুনোপুঁটি থেকে রাঘব-বোয়াল পর্যন্ত প্রত্যেকের ব্যাপারেই আইন প্রয়োগে কঠোরতা দেখাতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগই মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সহায়ক হতে পারে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগের তুলনায় এখন মেয়েদের মধ্যেও মাদক গ্রহণের প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জাতির জন্য এক ভয়াবহ অশনি সংকেত। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ১৬ ভাগই নারী। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন নামিদামি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নারী আসক্তদের ৯০ ভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। বাদ-বাকি ৩৫-৪৫ বছরের মধ্যে। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা পাঁচজন নারী। তাদের মধ্যে ছাত্রী, গৃহিণী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী রয়েছেন। পারিবারিক অশান্তি, অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি উদাসীনতা, সন্তানদের প্রয়োজনের অধিক অর্থের জোগান দেওয়া, আধুনিকতার নামে অশ্লীলতা, কৌতূহল, অসৎ সঙ্গ, অপসংস্কৃতি, মানসিক হতাশা, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা, সহপাঠীর প্ররোচনায় এবং প্রেম বিচ্ছেদের কারণে মাদকাসক্ত হচ্ছেন তারা।

ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) বলেছে- মাদক গ্রহণের ফলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও এই ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর ফাঁদ। এ ফাঁদে একবার জড়ালে স্বাস্থ্যহানি ঘটে, সৃজনীশক্তি শেষ হয়ে যায়। সিগারেট থেকে নেশা শুরু করলেও মাদকের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে শুরু হয়। অনেক কিশোর-কিশোরী কৌতূহল বা আনন্দের বসে কিংবা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাদকসেবন করে থাকে। মাদকের নেশায় একপর্যায়ে তারা মদে আসক্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ কোনো পার্টিতে, অনুষ্ঠানে, বন্ধু-বান্ধবীর জন্মদিনে মদ পান করে। এছাড়া মাদকাসক্তির নানাবিধ কারণ রয়েছে- মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, স্মার্ট হওয়া সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা, বেকারত্ব, পারিবারিক কলহ, ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব, কর্মবিমুখতা ও ভ্রান্ত জীবনদর্শন, অপসংস্কৃতি, ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়া, পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা উত্তীর্ণ না হতে পারা ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে- পৃথিবীতে প্রতি ৮ সেকেন্ডে শুধু ধূমপানজনিত কারণে একজন ব্যক্তির মৃতু্য হচ্ছে। মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসসংক্রান্ত সমস্যা, ফুসফুস ও গলায় ক্যান্সার হতে পারে। মদ বা অ্যালকোহল আসক্ত হয়ে পড়লে ব্যক্তির ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা কমে যায়। যারা বহুদিন ধরে সিগারেট বা তামাক সেবন করে তাদের ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হয়। অর্থিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেশার টাকা জোগাতে গিয়ে সংসারে অভাব ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তির চলাফেরায় অসংলগ্নতা প্রকাশ পায়, মনোযোগের ক্ষমতা হ্রাস পায়, ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, বস্নাড প্রেসার বৃদ্ধি পায়, চামড়ায় ফুসকুড়ি দেখা যায়, স্বাস্থ্যের অবনতি দেখা যায়, খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখা দেয়, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কমে যায়, যৌন অনুভূতি কমে যায়, মস্তিষ্কে কোষের ক্ষয়ক্ষতি হয়। মাদকের নেশা এমনই এক নেশা যা একটি সুন্দর জীবনকে নষ্ট করে দেয়। তরুণরাই দেশ, জাতি ও সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র, জাতির আগামীদিনের কর্ণধার। কিন্তু তারাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তাহলে দেশ কি করে সমৃদ্ধির দিকে এগোবে! মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্ত হয়ে পড়া ছেলে মেয়েরা আর কেউ নয়, আমাদের ভাই বোন, আত্মীয়স্বজন এবং সমাজেরই অংশ। মাদকাসক্তি যেহেতু কোনো অপরাধ নয়, একটি রোগ। সেহেতু তারা অপরাধী নয়, রোগী। ভুল সঙ্গের ফাঁদে পড়ে মাদকে আসক্ত হয়ে যাওয়া এই ছেলেমেয়েদের আমরা এ মরণনেশা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান করা তো দূরের কথা, উল্টো তাদের সঙ্গে কথাবার্তায় আচরণে বুঝিয়ে দিই যে, এরা নিকৃষ্ট ব্যক্তি, সমাজে এদের স্থান নেই, এদের প্রতি শুধুই ঘৃণা। ফলে আসক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা মানুষও নিজেদের সংশোধন করতে সক্ষম হয় না। হয়ে ওঠে আরও বেপরোয়া আরও উচ্ছৃঙ্খল। এটি যেহেতু সামাজিক ব্যাধি তাই এ সমস্যা সমাধানের উপায় আমাদেরই বের করতে হবে। মাদক নিরাময়ে চাই পরিবারের আন্তরিকতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা। সন্তান তার পরিবারের পরিবেশ দ্বারা অনেক প্রভাবিত হয়। তাই পারিবারিক পরিবেশ হতে হবে ধূমপানমুক্ত। পিতামাতাকে অবশ্যই তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তাদের কার্যকলাপ ও তারা কাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, কোথায় যায় এসব ব্যাপারে খোঁজখবর রাখতে হবে। সর্বোপরি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। যদি দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবারের কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, তাকে সেই অবস্থা থেকে বের করে আনার সর্বাত্মক প্রয়াস চালাতে হবে। প্রয়োজনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। মাদক এক ভয়াবহ ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক ব্যবসা, চোরাচালানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে নিয়মিত সভা-সমিতি, সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, ছাত্রদের কাছে শিক্ষক আদর্শস্বরূপ। শিক্ষকদের আদেশ-উপদেশ তারা রাখে। সাংস্কৃতিক-বিনোদন ও খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টিসহ স্কুল-কলেজের মাঠগুলোকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া অপরিহার্য। আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষ্টি-কালচার চর্চার প্রতিবন্ধক হিসেবে সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক বিরাজ করছে। আসুন, মাদকের ভয়াবহতা রোধে আজই শপথ গ্রহণ করি। এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আওয়াজ তুলি- 'মাদককে না বলি, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ি'।

মারুফ হোসেন

শিক্ষার্থী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে