logo
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তি প্যাকেজ এই উদ্যোগ ইতিবাচক

বলা হয়ে থাকে মাছে-ভাতে বাঙালি। বাঙালির খাদ্য তালিকায় নানা ধরনের মাছ থাকে। বিশেষ করে অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশন করা বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু মাছ। ফলে খাদ্য তালিকায় মাছের জুড়ি মেলা ভার। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, ৬১টি জেলার ৪৬৪টি উপজেলায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়নের একটি করে পুকুর বা জলাশয়ে মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি প্যাকেজ সম্প্রসারণ করে মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ানো হবে। প্রথমে ৩ হাজার পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০০টি। এসব পুকুরে নতুন করে পাবদা-চিংড়ি ও টেংরা চাষ করা হবে।

প্রতি ইউনিয়নে একটি করে জলাশয় নির্বাচন করবেন চেয়ারম্যানের অধীনে গঠিত কমিটি। পুকুর বা জলাশয়ের মালিককে ৩৫ হাজার টাকার উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। উপকরণের মধ্যে থাকবে ১০ হাজার টাকার মাছের পোনা, ১০ হাজার টাকার মাছের খাবারসহ বাকি টাকা পুকুর প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

উলেস্নখ্য, মৎস্যসম্পদ (মাছ, আবরণযুক্ত জলজপ্রাণী ও শামুক) উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (ইইইউ) ওয়ার্ল্ড ইন ফিগার নামের একটি হালনাগাদ প্রকাশনায় এই তথ্য দেয়া হয়েছে। মৎস্যসম্পদ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটি মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ৬২.২ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ২২ লাখ টন। দ্বিতীয় ইন্দোনেশিয়া, দেশটির উৎপাদন ১ কোটি ২৮ লাখ টন। তৃতীয় অবস্থানে ভারতের উৎপাদন ১ কোটি ১৬ লাখ টন। এরপর রয়েছে ভিয়েতনাম ৭১ লাখ টন, যুক্তরাষ্ট্র ৫৫ লাখ টন, রাশিয়া ৫১ লাখ টন ও পেরু ৪৩ লাখ টন। অষ্টম স্থানে থাকা বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ উৎপাদনের পরিমাণ ৪১ লাখ টন। নবমে থাকা জাপান ৩৮ লাখ টন এবং নরওয়ে উৎপাদন করেছে ৩৭ লাখ টন মৎস্যসম্পদ। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম স্থানে থাকা দেশগুলো হলো মিয়ানমার, চিলি, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, মিসর, মালয়েশিয়া, মরক্কো ও ব্রাজিল।

পরিসংখ্যান বু্যরোর হিসাবে, বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্যসম্পদের অবদান এখন ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া প্রাকৃতিক উৎস থেকে দেশে ২০১৭ সালে ১০ লাখ ৪৮ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়।

আশার কথা, প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম থেকে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। আমরা মনে করি, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ সাফল্য লাভ করলেও বাজারে মাছের লাগাম ছাড়া দাম। স্বাভাবিক নিয়মে মাছের উৎপাদন ও সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমার কথা। অথচ বাজারে উল্টো চিত্রই চোখে পড়ে। নদী, জলাশয়ে ও খালে-বিলে প্রাকৃতিক মাছ কমে যাওয়ায় এখন অধিকমাত্রায় মাছের চাষ হচ্ছে। এর ফলে মাছের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

মৎস্য চাষকে উৎসাহিত করার জন্য চাষ পদ্ধতির আধুনিকায়ন জরুরি। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই কেবল পারে মৎস্য উৎপাদনে আরও সমৃদ্ধি লাভ করতে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে