logo
  • শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  ফজলুল হক খান   ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

বতর্মান সরকারের সফলতা

গ্রামীণ অথর্নীতিতে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিশীলতা রাখতে সরকার নানা রকম কমর্সূচি গ্রহণ করেছে। এসব কমর্সূচির মধ্যে অতি দারিদ্র্য ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, টেস্ট রিলিফ ছাড়াও রয়েছে একটি বাড়ি-একটি খামার, আশ্রয়ণ, গৃহায়ন, আদশর্ গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, ঘরে ফেরা প্রভৃতি কমর্সূচি। এসব কমর্সূচির বাইরেও রয়েছে বয়স্ক ভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তদের ভাতা প্রভৃতি। দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্তে¡ও মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। এই জন্য সরকার দরিদ্র মানুষকে অধিকতর উৎপাদনশীল কাজে উৎসাহ যোগানোর জন্য ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করেছে।

হিটলারের সহচর গোয়েবলসের একটি তত্ত¡ ‘একটা মিথ্যা কথা দশবার বললে কিংবা একটা মিথ্যা দশজনে একসাথে বললে মানুষ সেটাকে সত্য বলে ধরে নেয়’। বিএনপি-জামায়াত গোয়েবলসের এই তত্ত¡টি খুব ভালোভাবে রপ্ত করতে পেরেছে। তারা একটা মিথ্যাকে যেভাবে মানুষের কাছে সত্য বলে উপস্থাপন করত এবং মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অজর্ন করতে পারে আওয়ামী লীগ সেটা পারে না। বরং আওয়ামী লীগ সত্যটাকেও সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। এটাই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ব্যথর্তা। আওয়ামী লীগের অনেকেই হয়তো এটা বিশ্বাস করবেন না, তাই অতি পুরনো একটি উদাহরণ উপস্থাপন করতে চাই। সেই ইতিহাসটা হয়তো বা কাজে লাগবে না কিন্তু অভিজ্ঞতাটা ভবিষ্যতের জন্য লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তির কথা বলছি। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের ৯৯.৫% মানুষ চুক্তিটি পড়েনি কিন্তু এটাকে গোলামী চুক্তি হিসেবে বিশ্বাস করেছিল শুধু বিএপি-জামায়াতের অপপ্রচারের কারণে। প্রতিবার নিবার্চনের আগে বিএনপি-জামায়াত এটাকে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পযর্ন্ত আওয়ামী লীগকে এ অপবাদ বয়ে বেড়াতে হয়েছে। অথচ চুক্তিটি যারা পড়েছেন তারা নিশ্চয় জানেন, চুক্তির ১২টি অনুচ্ছেদের মধ্যে কোথাও কোনো অপমানজনক কথা ছিল না। বরং বাংলাদেশকে একটা উচ্চ মযার্দাসম্পন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের আগস্টে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যে সামরিক ও মৈত্রী চুক্তি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তিটিও ছিল অনুরূপ। ভাষাগতও কোনো তফাৎ ছিল না শুধু ঝযধষষ এবং ডরষষ-এর ব্যবহার ছাড়া। এমন একটা চুক্তি করা সম্ভব হয়েছিল শুধু বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রনায়কের কারণে। অথচ আওয়ামী লীগকে গোলামী চুক্তির অপবাদের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে দীঘর্ ২৫ বছর। আমার আলোচনার বিষয় মৈত্রী চুক্তি নিয়ে নয়। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ আগামী দিনের জন্য সতকর্ হবে এবং সরকারের সাফল্যগুলোকে প্রচারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেবে এই আশাবাদ নিয়েই আজকের এ লেখার অবতারণা। আমি প্রথমে সরকারের সাফল্যগুলো পযার্য়ক্রমে আলোচনা করছি।

অথৈর্নতিক উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন। এর প্রভাব সামাজিক জীবনেও রয়েছে। সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১.২ শতাংশ। বাংলাদেশ এর বিপরীতে অজর্ন করেছে ১.৭৫ শতাংশ। সহ¯্রাব্দ লক্ষ্য মাত্রায় ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার অধেের্ক নামিয়ে আনার কথা। সেখানে ২০১২ সালেই বাংলাদেশ এই লক্ষ্যমাত্রা অজর্ন করেছে। দারিদ্র্য হ্রাসের এই হার অব্যাহত রয়েছে। এখন বাংলাদেশের সামনের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য হ্রাসের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।

বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ মানবোন্নয়ন সূচক এগিয়েছে।

গ্রামীণ অথর্নীতিতে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিশীলতা রাখতে সরকার নানা রকম কমর্সূচি গ্রহণ করেছে। এসব কমর্সূচির মধ্যে অতি দারিদ্র্য ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, টেস্ট রিলিফ ছাড়াও রয়েছে একটি বাড়ি-একটি খামার, আশ্রয়ণ, গৃহায়ন, আদশর্ গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, ঘরে ফেরা প্রভৃতি কমর্সূচি। এসব কমর্সূচির বাইরেও রয়েছে বয়স্ক ভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তদের ভাতা প্রভৃতি। দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্তে¡ও মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। এই জন্য সরকার দরিদ্র মানুষকে অধিকতর উৎপাদনশীল কাজে উৎসাহ যোগানোর জন্য ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করেছে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিজেদের দক্ষতা ব্যবহার করে বিনিয়োগের বিভিন্ন এলাকা শনাক্ত করেছে। সরকার মনে করে দরিদ্র মানুষ যথেষ্ট সৃজনশীল। তাদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানো গেলে তাতে যেমন দারিদ্র্যের হার হ্রাস পাবে, তেমনি মানবসম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঞ্চারিত হবে অধিকতর গতিশীলতা। তাই সরকার সামাজিক সুরক্ষা কমর্সূচি আরও বেগবান করার জন্য নিয়েছে সুস্পষ্ট সুরক্ষা ও সমন্বিত উদ্যোগ। এর মধ্যে কমর্সংস্থান সৃষ্টি অন্যতম। কমর্সংস্থানের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার জন্য পল্লীকমর্ সহায়ক ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত ক্ষুদ্রঋণ ও তহবিল গতিবৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পল্লী উন্নয়ন বোডর্, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, বিসিক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যমান ঘূণার্য়মান ক্ষুদ্রঋণের তহবিলের সঞ্চালন গতিবৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি অথর্বছরে বয়স্ক ভাতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বয়স্করা উপকৃত হয়েছেন। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলাদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য বিধবা ও দুস্থ নারীর জীবন থেকে দূর হয়েছে দুঃসহ দারিদ্র্যের অন্ধকার। সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন কমর্কাÐ জোরদার করা হয়েছে, যাতে বেকার শ্রমিকদের কমর্সংস্থান হয়।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্। শ্রমশক্তি প্রায় অধের্ক জোগান দেয় এই খাত। কৃষি কমর্ই হচ্ছে সামাজিক কমর্কাÐের মূল কেন্দ্র। খাদ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা সৃষ্টি করে কৃষি খাত। কাজেই এই খাতের উৎপাদনশীলতা ছাড়া উন্নয়ন প্রায় অসম্ভব। অপার কমর্সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের মতো গুরুত্বপূণর্ বিষয়গুলো এই খাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কৃষিই হচ্ছে গ্রামীণ এলাকায় ভোক্তাদের চাহিদাভিত্তিক মালামালের উৎস। এই খাত সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ খাত। কারণ খাদ্য স্বয়ংসম্পূণর্তা অজের্নর পেছনে এই খাতটি মুখ্য চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করে।

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কৃষি খাতের সাবির্ক উন্নয়নের দিকে সরকার সবাির্ধক গুরুত্ব দিয়েছে। সরকার ক্ষুদ্রসেচ সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নত বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণসহ প্রভৃতি কাযর্ক্রমের ওপর জোর দিয়েছে। ইতোমধ্যে পরমাণু ও জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণাক্ত সহিষ্ণু শস্যের বীজ উদ্ভাবন করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে যাতে শস্যের ফলন পাওয়া যায় এমন ধরনের বীজ বিতরণ কাযর্ক্রম সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। কৃষকরা পুরনো আমলের কৃষি উৎপাদন পদ্ধতির ব্যবস্থার পাশাপাশি চালু করেছে অত্যন্ত টেকসই আধুনিক পদ্ধতি। কৃষি গবেষণালব্ধ ফলাফল, কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি এবং কৃষিসেবা কৃষকদের দোরগোড়ায় পেঁৗছাতে সারাদেশে ২৩৫টি কৃষকসেবা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এক কথায় বলা যায়, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সরকার কৃষি উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের সেবা প্রদানে অনেক বেশি উদ্যোগ এবং সব কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ বিশেষ করে সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শূন্য শুল্ক হারের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে। সেচযন্ত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ওপর ২০ শতাংশ হারে ছাড় প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের আকস্মিক বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারা দেশে খাদ্য উৎপাদন ভালো হয়েছে। অজির্ত হয়েছে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। পাটের উৎপাদিত জেনোটিক তথ্য কাজে লাগিয়ে স্বল্পদৈঘর্্য ও নি¤œতাপমাত্রা সহিষ্ণু তোষা পাটের দুটি এবং দেশি পাটের একটি অগ্রগতি লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কৃষি খাতে বিশেষ অবদান রাখা এবং গবেষণা কাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য প্রতিবছর বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সরকারের বিভিন্নমুখী উদ্যোগের ফলেই খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূণর্ হয়েছে দেশ। কৃষি খাত আগের তুলনায় হয়েছে টেকসই। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎপাদনশীল দেশ।

শিল্পোন্নয়নের হৃৎপিÐ হচ্ছে বিদ্যুৎ। অথার্ৎ সামাজিক উন্নয়নে এর ভ‚মিকা অপরিহাযর্। সেবা খাতসহ দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নের জন্য সবোর্চ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বতর্মানে মোট জনগণের ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। চলতি বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার মেগাওয়াট। সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পেঁৗছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট, সত্যিই বিস্ময়কর।

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল এটা সবারই ধারণা রয়েছে। অথর্নীতির ঘোর অন্ধকার সময়ে বঙ্গবন্ধু অন্তভুির্ক্তমূলক রাষ্ট্রীয় দশর্ন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন ‘দিন বদলের সনদ’ যাতে তিনি ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প উপস্থাপন করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। জনগণ ‘দিন বদলের সনদ’-এর অকুণ্ঠ সমথর্ন জানায়। এই জন্য তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন এবং নীতি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারের সৃজনশীল উদ্যোগের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় সবোর্চ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে।

টেকসই অথৈর্নতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহার। সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ধরেছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত, আত্মপ্রত্যয়ী ও বিজ্ঞানমনস্ক জনগোষ্ঠী। তাই শেখ হাসিনা সরকার যুগোপযোগী ও কমর্মুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবতের্নর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রণয়ন করেছে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ ২০১০। এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন, যাতে নেতৃত্বদানের উপযোগী, মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, ধমের্র প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কার মুক্ত, অসম্প্রদায়িক এবং কমর্কুশল নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে।

সরকার সাবর্জনীন প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রতি সম্পূণর্ শ্রদ্ধাশীল। এই জন্য সরকারের উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং উপবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়টি শিক্ষার সব স্তরে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারি কলেজে আইসিটি শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কলেজগুলোতে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন কলেজে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার স্তরে জেন্ডার বৈষম্য বিলোপের জন্য মেয়ে শিক্ষাথীের্দর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক থেকে ¯œাতকোত্তর পযার্য় পযর্ন্ত ছাত্রী উপবৃত্তি প্রদান, বেতন মওকুফের সুবিধা সম্প্রসারণ, বই ক্রয়ের সুবিধা সৃষ্টি, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফি প্রদানের ব্যবস্থাকরণ ইত্যাদি। তা ছাড়া রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান। এক কথায় বলা যায় প্রধানমন্ত্রী, সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরতœ শেখ হাসিনা মানব সম্পদ উন্নয়নের যে কমর্যজ্ঞ শুরু করেছেন, তা সম্পূণর্ হলে বাংলাদেশ পেঁৗছে যাবে উন্নত দেশের কাতারে।

১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তি। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা পরিবতের্নর সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশের সংবিধানে সন্নিবেশিত সীমানাসংক্রান্ত বিধান সংশোধনের জন্য সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদের পরিবতের্নর (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪ গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও এই সীমান্ত চুক্তি কাযর্কর করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই কাযর্কর করা হয়েছে বাংলাদেশের সীমানা চুক্তি। প্রধানমন্ত্রীর এটাই হচ্ছে বিরাট ক‚টনৈতিক সাফল্য। এই চুক্তিটি কাযর্কর হওয়ার ফলে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। একই সঙ্গে তিন বিঘা করিডোর সাবর্ক্ষণিকভাবে খুলে দিয়েছে ভারত। এর ফলে সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী নিয়ে যে, সমস্যা ছিল তার সমাধান হয়েছে।

সমুদ্রের সীমানা নিধার্রণ খুবই জটিল বিষয়। এই সমস্যারও সমাধান করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে সমুদ্রের এক লাখ এগারো হাজার বগর্ কিলোমিটার এলাকার ওপর বাংলাদেশের পূণর্ কতৃর্ত্ব অজির্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ভূখÐের সাবের্ভৗমত্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূণর্।

বিগত প্রায় ১০ বছরে বতর্মান সরকারের সাফল্য অনেক। এ সাফল্যগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, প্রেস মিডিয়া, বিলবোডর্ স্থাপনের মাধ্যমে সরকার প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রচারণার পরিধি আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারের সাফল্যগুলো তুলে ধরার জন্য তৃণমূল পযাের্য়র নেতাকমীের্দর কাজে লাগানো উচিত।

ফজলুল হক খান: প্রাবন্ধিক, গীতিকার ও কলাম লেখক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে