logo
  • Thu, 20 Sep, 2018

  অনলাইন ডেস্ক    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

আয়বৈষম্য বাড়ছে

নিরসনের ক্ষেত্র তৈরি হোক

বাংলাদেশ অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, স্বাধীনতা লাভের দীঘির্দন পর এসে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে অনেকদূর এগিয়ে এসেছে। এ জন্য দেশকে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এরপর আয়বৈষম্য দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসছে। আয়বৈষম্যের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে একটি উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে পরিণত হবে, বিশেষজ্ঞদের ধারণা এমনটি। চিন্তার কথা যে, গরিব শ্রেণি যদি আরও গরিব হয়ে পড়ে তাহলে আয়ের এই টাকা যাচ্ছে কোথায়Ñ এমন প্রশ্নও অমূলক নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনেও উদ্বেগজনক এই তথ্য উঠে এসেছে। মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্স এর মতে, গত পঁাচ বছরে ১৭ শতাংশ হারে বাংলাদেশে ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে। ওয়াল্ডর্ আলট্রা ওয়েলথ রিপোটর্-২০১৮ শীষর্ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ‘আশ্চযর্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে চিন্তার যথেষ্ট অবকাশ আছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ নিজেদের শিল্প-ব্যবসায় উদ্যোগী করতে চায় একটা নিরাপদ পরিবেশ, অন্তত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিশেষভাবে সামগ্রিক অপরাধমুক্ত পরিবেশের। মারামারি, খুনোখুনি, নারী নিযার্তন, শিশু-কিশোর-কিশোরী-তরুণী নিযার্তন রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর হাতে দমন, ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থাপনা, সাবির্কভাবে সুস্থ বিনোদনের সমাজ কায়েম ও অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ। পুলিশসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করা, বিচার ব্যবস্থার সুষ্ঠুকরণ, অপহরণ, গুম, খুন, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে হত্যাকাÐ বন্ধÑ এসবই সুষ্ঠু অথৈর্নতিক কাযর্ক্রম পরিচালনার পূবর্শতর্ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ‘সুশাসন নিশ্চিত’ এবং ‘দারিদ্র্যের হার কমছে’ এমন তথ্য উচ্চারণ করা হলেও চিন্তার বিষয় হচ্ছে, যখন ‘আয়বৈষম্য, সম্পদবৈষম্য ও ভোগবৈষম্য’ বিষয়টি আন্তজাির্তক পযাের্য়ও আলোচনায় উঠে আসে তখন সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক হতে পারে না।

অথর্নীতিশাস্ত্রে আয়বৈষম্য পরিমাপের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পরিমাপক হলো, জিনি সহগ, যেটার মান ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতায় পরিচালিত এক জরিপেও উঠে এসেছিল। জিনি সহগের মান বাড়লে তা মহাবিপদ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয় যে, দেশে আয়বৈষম্য বেড়েই যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে একটি উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। যেসব দেশের জিনি সহগ শূন্য দশমিক ৫ পেরিয়ে যায়, সেসব দেশকে উন্নয়ন তত্তে¡ উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বলাই বাহুল্য, বাংলাদেশও এর কাছাকাছি পেঁৗছে গেছে। বতর্মান সরকারের দুই মেয়াদের ১০ বছরে দারিদ্র্য কমেছে যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের মাথাপিছু গড় আয়ও বেড়েছে এই সময়ে। পাশাপাশি আয়বৈষম্যও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার দঁাড়ায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশে, এ হার ২০১০ সালে ছিল ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এটা সুসংবাদ। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আয়বৈষম্য না বাড়লে এ হার আরও দ্রæত কমে যেত।

বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬ অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে দেশে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের আয় প্রায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। তাদের মাসিক আয় দঁাড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকায়। বিপরীতে একই সময় সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে ৫৯ শতাংশ। তাদের মাসিক আয় দঁাড়িয়েছে ৭৩৩ টাকায়, যা ২০১০ সালে ১ হাজার ৭৯১ টাকা ছিল। সরকার ‘দরিদ্রবান্ধব’ হিসেবে নানা কমর্সূচি চালু করলেও আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপের। সরকারের নানামুখী উদ্যোগে জাতীয় প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় বাড়লেও আয়বৈষম্য ক্রমেই ঊধ্বর্মুখী কেন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করি। দেশকে দ্রæত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে হলে দ্রæত ‘বৈষম্য নিরসনকারী প্রবৃদ্ধি কৌশল’ গ্রহণ করার বিকল্প থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি উন্নয়নের পথের প্রতিবন্ধকতাগুলো শনাক্ত করে তা নিরসনে রাষ্ট্রের নীতিনিধার্রকদের কতর্ব্য হওয়া দরকার কাযর্কর উদ্যোগ নিশ্চিত করা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে