logo
সোমবার ২৫ মার্চ, ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

দুদককে ঘিরে প্রতারকচক্র

আইনি কঠোরতা ও নজরদারি জরুরি

দুর্নীতি প্রতিরোধে একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘিরে প্রতারকচক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে দুদকের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিচয় দিয়ে এই প্রতারকচক্র সরকারি বড় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান করছেন আবার অর্থের বিনিময়ে অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি দিচ্ছেন- এমনই কয়েকটি তথ্য রয়েছে দুদক কার্যালয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে কমিশনের গ্রেপ্তার অভিযান শক্তিশালী হওয়ার পর থেকে ওই প্রতারকচক্র দুদকের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যেই এমন অনেক ভুয়া কর্মকর্তা দুদকের জালে ধরা পড়ছে। পাশাপাশি চলতি মাসে অবৈধ সম্পদসহ নানা দুর্নীতির ভুয়া আদেশের বেশকিছু অভিযোগ কমিশনের নজরে এসেছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুদককে ঘিরে প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেই প্রতীয়মান হয়।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুদককে ঘিরে প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার ঘটনা নতুন নয়। গত ফেব্রম্নয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে দুজনকে আটক করের্ যাব। তখন আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ীর্ যাব জানিয়েছিল এ ধরনের ১০টি চক্র রয়েছে। তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এ জাতীয় ঘটনার কথা জানা গেলেও বস্তুতর্ যাবের হাতে প্রতারকচক্রের সদস্যরা আটক হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দুদক বিষয়টি অবগত এবং প্রতারকচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিটও সক্রিয় রয়েছে। আরও আতঙ্কের যে, দুদকের কর্মকর্তা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতারক বা প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। এরা কমিশনের মামলা অথবা কমিশনের কাল্পনিক মামলা অথবা কাল্পনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি অথবা অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে। পাশাপাশি কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় বিভিন্ন অনৈতিক তদবিরও করছে। যখন খোদ দুদকের পরিচয় দিয়ে এমন অপরাধ করে আসছে প্রতারকচক্র, তখন সঙ্গত কারণেই বিষয়টিকে খাটো করে দেখার সুযোগ থাকে না।

জানা যায়, এ জাতীয় অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের গোয়েন্দা তৎপরতায় গত বছরের ৭ নভেম্বর দুদকের একটি বিশেষ দল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ফয়সল রানা ওরফে মো. ফয়েজ উদ্দিন নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় মামলাও করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৪ জানুয়ারি নয়া পল্টন এলাকা থেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী হাসান মুন্না ওরফে রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভুয়া দুদক কর্মকর্তা নাজমা (আসল নাম রাজু মিয়া) এবং ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে সিরাজুল ইসলাম ওরফে হাজি জহিরুল হুদা ওরফে প্রশান্ত ওরফে সুশান্ত ওরফে মনিরুজ্জামান মিয়া ওরফে শহিদুল ইসলামকে (প্রকৃত নাম আনিসুর রহমান বাবুল)। বিষয়টি থেকে সহজেই শনাক্ত করা যায়, প্রতারকচক্র একাধিক নামে প্রতারণা করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এরা কাল্পনিক অভিযোগ বা কমিশনের বিবেচনাধীন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ও নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি ব্যক্তিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও তথ্য রয়েছে দুদকে। আমরা মনে করি, বিষয়টি অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় যে সংস্থাটি দুর্নীতি প্রতিরোধে সক্রিয়, সে সংস্থা ঘিরে প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়ে উঠবে এটা শুধু পরিতাপের নয় আশঙ্কা জাগানিয়াও বটে।

সর্বোপরি বলতে চাই, সরকার যেহেতু দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সুতরাং যে বা যারা এ ধরনের কাজে সক্রিয় তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি নিশ্চিত না হলে সমাজ-রাষ্ট্র থেকে অপরাধ নির্মূল হতে পারে না। ইতোমধ্যে দুদকের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে। অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, দেশবাসী দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে স্বস্তি নিয়ে বাঁচতে চায়। আর এটি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। পাশাপাশি জনসচেতনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবার সহযোগিতায় দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি নির্মূল হোক এটাই প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে