logo
সোমবার ২৫ মার্চ, ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

  শহীদুল ইসলাম ঢাকা   ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

পাঠক মত

পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প প্রয়োজন

পর্যটনই একমাত্র শিল্প যেটা কি না জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা সরাসরি বিপর্যস্ত। পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য চাই সুন্দর, দূষণমুক্ত, গুণগত মানসম্পন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ। দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন রক্ষা ও সৃষ্টি দু-ই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

অন্যদিকে সুন্দর ও দূষণমুক্ত জলবায়ু পর্যটন শিল্পের অন্যতম উপাদান। যেমন- সমুদ্র সৈকত, ঋতু এবং সবুজ অরণ্য প্রভৃতি। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি পর্যটকদের ভ্রমণস্থান, গমন ও গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা যখন পরিবেশ দূষণ ও বিপর্যয় ঘটতে সাহায্য করে তখন পর্যটন-নির্ভর ছোট-বড় দেশগুলো অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতায় পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনে পর্যটন নির্ভর যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিসর, কেনিয়া ও শ্রীলংকা অন্যতম। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাতে ও পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ এ হিসেবের আওতায় না এলেও সিডর বিধ্বস্ত সুন্দরবন আমাদের পর্যটন অর্থনীতিতে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্যের ওপর চরম আঘাত হেনেছে।

পর্যটনের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এক সম্মেলনের আয়োজন করে। ওই সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার জন্য এক আন্তর্জাতিক খসড়া প্রস্তাব অনুমোদিত হয় যা এজেন্ডা ২১ নামে পরিচিত। এ এজেন্ডায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অবদানের কথা গুরুত্বসহকারে দেখানো হয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয়ে সারাবিশ্বে দারিদ্র্যতা, ক্ষুধা, রোগ, অশিক্ষা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজেন্ডা ২১ বাস্তবায়নে উলেস্নখিত সমস্যার তড়িৎ সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

উলেস্নখ্য, সুইজারল্যান্ডের ডেভোস সম্মেলনে শ্রীলংকা নিজেদের 'পৃথিবীর ফুসফুস' বলে ঘোষণা দিয়েছিল। এ ঘোষণা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য জলবায়ু বিপর্যস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দারুণভাবে উৎসাহিত করবে বলে প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য আরো বেশি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও প্রণয়ন করা জরুরি বলেই আমাদের বিশ্বাস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। জলবায়ু ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি বিভাগকে একসঙ্গে এ বিষয়ে উদার হয়ে কাজ করতে হবে। জ্বালানি, রাষ্ট্রীয় কাঠামো, শিল্প, যানবাহন, নির্মাণ, গৃহস্থালি কাজকর্ম, পানি নিষ্কাশন, কৃষি, সর্বোপরি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সর্বত্রই জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে