logo
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই, ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০  

কৃষিপ্রধান দেশে অবহেলিত কৃষক ও কৃষি

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। মানবজাতির আদিমতম পেশা হচ্ছে কৃষি। দেশের খাদ্য জোগান দেন কৃষকরা। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৯.১% এবং কৃষি খাতের মাধ্যমে ৪৮.১% মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। মানুষের জীবন ধারণের জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন অপরিহার্য। কৃষি ও কৃষক আমাদের প্রত্যেকেরই মানুষের শেকড়ের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে মিশে আছে। কিন্তু শেকড়কে আমরা ভুলে যাই অতি সহজে। আমাদের অধিকাংশ মানুষের বাপ-দাদার পেশাও কৃষি। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে এ দেশের কৃষকসমাজ। কৃষক শ্রম দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, আপন সন্তানের মতো লালন-পালন করে ফসল ফলান। শস্যের যত্ন করেন, সার কীটনাশক দেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজের ইচ্ছামতো যত্ন নেন। কখনো ঝড়-বৃষ্টি বা তীব্র রৌদ্র কোনো কিছু কষ্ট মনে না করে মাঠে কাজ করেন আমাদের দেশের কৃষকরা। তবুও ভালোবাসা আর কষ্টমিশ্রিত কৃষকরা স্বপ্ন দেখেন ফসল নিয়ে। কৃষক শব্দটির সঙ্গে কষ্টের অনেক মিল। কিন্তু যখন কোনো ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, তখন কৃষকদের কি অবস্থা হচ্ছে! আপনি একটু ভাবেন তো? এবার ধানের দাম একেবারেই নেই। প্রতিমণ ধানের দাম থেকে প্রতি শ্রমিকের মজুরির দামই বেশি। বীজতলা থেকে শুরু করে প্রতিমণ ধান ঘরে তুলতে প্রায় হাজার টাকার উপরে খরচ হয়। কিন্তু ধান বিক্রি করছেন তার অর্ধেক দামে। এতে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়া উচিত। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষকের কষ্ট সারা জীবন। আমরা কখনো ভাবি না আমাদের জীবনে তাদের কত অবদান রয়েছে। একজন কৃষক জমিতে ফসল ফলান, অনেক শ্রম ও ঘাম ঝরে তার। চূড়ান্ত ফল মেলে ফসল প্রাপ্তিতে, কিন্তু সেই দামও যদি সঠিকভাবে না পান। কৃষক যে ফসল ফলাচ্ছেন আমরা কি তার ন্যায্যমূল্য দিচ্ছি! কিন্তু মাঝখানে মহাজনরা কৃষকের ফসলের কম মূল্য দিয়ে ক্রয় করে শহরে বেশি দামে বিক্রি করছে। এমনটি চলতে থাকলে আমাদের উন্নয়ন হবে কী করে। কষ্ট করছেন আমাদের কৃষকরা, সুখ মিলছে মহাজনের। সেটা আবার কোনো বিনিয়োগ, অবদান ও কষ্ট ছাড়াই! এর ফলে কী হচ্ছে? উৎপাদনকারী কৃষকদের ঠকানো হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন ন্যায্যমূল্যও দেয়া হচ্ছে না। এমনটি চলতে থাকলে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় মনের দুঃখে পাকা ধানে আগুন দিয়েছেন। এই কৃষির ওপর চলে কৃষকের জীবন তার পরিবার, সারা বছরে খরচ, এমনকি কৃষকের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাসহ প্রভৃতি বিষয়। এতে যদি কৃষক সঠিক দাম না পায় তা হলে তার পরিবারকে নিয়ে পথে বসতে হবে। জীবন-জীবিকার জন্য এ দেশের জনগণ ও অর্থনীতি মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষি উৎপাদনে বিপদগ্রস্ত ঘটলে দেশের সামাজিক অর্থনীতি তথা বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে। কৃষকের উন্নতি মানে আমাদের দেশের উন্নতি। কৃষকের ক্ষতি মানে দেশের ও

আমাদের ক্ষতি।

ইমরান হোসাইন

শিক্ষার্থী, ইসলামিয়া সরকারি কলেজ

সিরাজগঞ্জ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে