logo
বুধবার ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০  

বোরো সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ছে

ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক

প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে সব মিলিয়ে এ বছর মোট চার লাখ টন বোরো ধান কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে। ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় দেশের কৃষকদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পোষাতে সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি অর্থে ধান ক্রয়ের পাশাপাশি চাল আমদানি নিষিদ্ধ করতে যে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তা ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা যায়। কেননা, চাল আমদানি নিষিদ্ধ হলে দেশীয় ধানের চাহিদা বাড়বে। এতে কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে। জানা গেছে, দেশের খাদ্যগুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৯ লাখ ৬০ হাজার টন। আর এখন গুদামে আছে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য।

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এবার বোরোর উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদিত ধান দেশের চাহিদা মিটিয়েও অনেক উদ্বৃত্ত থাকবে। অন্যদিকে বাজারে ধানের মূল্য অত্যন্ত কম হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না, কৃষকের এমন অসন্তোষের খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। অন্যদিকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে ধানের জমিতে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ মার্চ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধান কমিটির (এফপিএমসি) বৈঠকে চলতি বোরো মৌসুমে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টন ধান-চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এর মধ্যে এক লাখ ৫০ হাজার টন বোরো ধান, ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং এক লাখ ৫০ হাজার টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম থাকবে। প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহমূল্য ২৬ টাকা, প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের দাম ৩৬ টাকা এবং আতপ চালের দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বলাই বাহুল্য, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষি। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর কাতারে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে কৃষি ও কৃষক। কৃষি খাতে দুর্বারগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কৃষিপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পণ্য ধান। ধান উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। যদিও আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অন্যান্য দেশ থেকে অনেক পেছনে, তবুও আমরা উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্য উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিসংক্রান্ত জরিপেও ধান উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানটি দখল করে আছে বাংলাদেশ। সুতরাং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এটাই প্রত্যাশিত।

আমরা লক্ষ্য করি, কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ওপর আমাদের অর্থনীতি দন্ডায়মান হলেও উন্নয়নের নেপথ্যের এই কারিগরদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন ঘটে না। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১ কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয় ২৪ টাকা। সে হিসাবে মণপ্রতি খরচ হয় ৯৬০ টাকা। অথচ কৃষকদের ধান বিক্রি করতে হয় মণপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। বিদ্যমান এ বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ফলপ্রসূ করতে চাইলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা জরুরি।

সর্বোপরি বলতে চাই, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে পুঁজি হারানো কৃষকরা ধান চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। এমনটি ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য ঘাটতিতে পড়তে হবে আমাদের। দেশ হারাবে খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার গৌরব। এ পরিস্থিতি কিছুতেই প্রত্যাশিত নয়। তবে আমরা জানি, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব। গত প্রায় এক দশক ধরে সরকার কৃষিকে ব্যাপক ভর্তুকি দেয়ায় আমাদের কৃষি উৎপাদন বহুলাংশে বেড়েছে। আমরা মনে করি, কৃষিতে ভর্তুকির পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত অপরিহার্য। আবার এটাও ঠিক যে, গুদামের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই সরকারকে ধান-চাল ক্রয় করতে হয়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে যেন কোনো ধরনের অসন্তোষের মধ্যে না পড়েন; এটি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে