logo
মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২২ জুন ২০১৯, ০০:০০  

বাণিজ্য ঘাটতি

রপ্তানি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিন

বাণিজ্য ঘাটতি একটি দেশের অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদই বলা যেতে পারে। আমদানির তুলনায় রপ্তানি আয় কমে গেলেই বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যৎকেন্দ্র নির্মাণ ইত্যাদি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগান দিতেই আমদানি ব্যয় বাড়ছে। অথচ সেই তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়েনি। যার কারণে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনেও ঋণাত্মক অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে উঠে আসা বৈদেশিক বাণিজ্যের এ অবস্থা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি কমে এলেও সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ স্বস্তিকর নয়। জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০ মাস শেষে ইপিজেডসহ (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আবার একই সময়ে সেবা খাতে বেতন-ভাতাবাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৮৬৪ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে ৫৬৭ কোটি ডলার। এ হিসাবে সেবা খাতেও ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯৬ কোটি ডলার, যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৯১ কোটি ডলার। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৩১১ কোটি ডলার, যার প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ১ শতাংশ। পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে যে পরিমাণ ঘাটতি হয়েছে, তা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের চেয়ে অনেক বেশি। যে কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাব ঋণাত্মক (-) রয়েছে। বাণিজ্যে ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ঋণ নিয়েই তা পূরণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি চাপের কারণে ডলারের দামও বাড়ছে। বছরের শুরুর দিন আন্তঃব্যাংক রেটে ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা। এখন ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়। আলোচিত সময়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৩১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এর মধ্যে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ১৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের চেয়ে এফডিআই-ও বেড়েছে ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ আর নিট বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। গত অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় এই কমের হার ৫৭ শতাংশ। এ ছাড়া ১২ জুন তারিখের হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৮০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ২৬১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

উলেস্নখ্য, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক আট শতাংশ। কিন্তু ডিসেম্বর শেষে এ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম অর্জিত হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমার এই প্রভাবও পড়েছে আমদানি খাতে। বিশ্লেষকরা প্রতি অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে অশনিসংকেত উলেস্নখ করে, রপ্তানি ও আমদানিতে ভারসাম্য আনয়নের কথা বলেছেন, যা সংশ্লিষ্টদের আমলে নেয়া কর্তব্য বলেই আমরা মনে করি। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও সার্বিকভাবে আমদানি-রপ্তানি, বিদেশি বিনিয়োগ ইত্যাদির হিসাব-নিকাশ থেকে স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশকে রপ্তানি খাতে পণ্য বাড়াতে হবে যেমন, তেমনি নতুন নতুন বাজারও খুঁজতে হবে। মধ্যম আয়ের দেশের যাত্রাপথে সব বাধা-প্রতিবন্ধকতা ডিঙাতে সরকার তথা সংশ্লিষ্টরা রপ্তানি আয় বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে