logo
শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

আবারও সেপটিক ট্যাঙ্কে মৃতু্য

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

সেপটিক ট্যাঙ্কে মৃতু্যর ঘটনা ঘটছেই। একের পর এক যখন এমন মৃতু্যর ঘটনা ঘটছে, তখন তা আমলে নেয়ার বিকল্প থাকতে পারে না। উলেস্নখ্য, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাঙ্কের শাটার খোলার জন্য শুরুতে একজন নেমেছিলেন, তার সাড়া না পেয়ে আরেকজন নেমে পড়েন সেপটিক ট্যাঙ্কে- এরপর ঘটনার গুরুত্ব না বুঝে এভাবে একের পর এক ছয়জন সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে মারা পড়লেন। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃতু্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায়।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এবারে যে ঘটনাটি ঘটল তার ভয়াবহতা কতটা বেশি- সেটি অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি, একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাগুলো আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য বলেই প্রতীয়মান হয়। বলাই বাহুল্য, দেশে প্রায়ই সেপটিক ট্যাঙ্কে মৃতু্যর ঘটনা ঘটছে এবং মৃতু্যর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এবারের ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, নিখিল চন্দ্র মহন্ত নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। এক সপ্তাহ আগে টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়। বুধবার সকাল ৯টার দিকে মিস্ত্রিরা ট্যাঙ্কের ভেতরের শাটার খুলতে যান। প্রথমে মিস্ত্রির একজন সহকারী ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে নিচে নেমে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিটেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রধান মিস্ত্রি ট্যাঙ্কে নামেন। তিনি ট্যাঙ্কের ভেতর পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন সহকারীকে। তবে তিনি সহকারীকে উদ্ধার করতে পারেননি। নিজেও ঢলে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে নেমে তৃতীয় ব্যক্তিও ট্যাঙ্ক থেকে উঠে আসতে পারেননি। এরপর আরও চারজন নামেন। মাত্র একজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ছয়জন ট্যাঙ্কের ভেতর মারা যান। এ ক্ষেত্রে উলেস্নখ্য, আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্যাঙ্কের মুখ এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে। ভেতরে ঢোকার আগে ট্যাঙ্কের ঢাকনা দীর্ঘ সময় ধরে খুলে রাখা উচিত ছিল।

আমরা বলতে চাই, বিভিন্ন সময়েই সেপটিক ট্যাঙ্কে সচেতনতার অভাবে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে বলেও জানা যায়। বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা সম্ভব। কেননা বদ্ধ ট্যাঙ্কে যে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকে- এ ধারণা না থাকা, ট্যাঙ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত না করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা না নেয়ার জন্য এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে এর আগেও পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে। আমরা মনে করি সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যক্রম গ্রহণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, এটা আমলে নেয়া দরকার, কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যেতে পারে। যেমন সেপটিক ট্যাঙ্ক খোলার পরপরই ভেতরে না ঢোকা, নিজে ঢোকার আগে মোমবাতি বা লণ্ঠন জ্বালিয়ে ট্যাঙ্কে ঢোকানো- যেন আলো নিভে গেলে বোঝা যায় ট্যাঙ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব রয়েছে- আমরা মনে করি, এরকম কিছু বিষয়ে সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া সেফটিক ট্যাঙ্কে শ্রমিক নামার আগে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় কিনা সেটাও সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখতে পারে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে