logo
রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

বায়ুদূষণ

রোধে পদক্ষেপ নিন

বায়ুদূষণ, শব্দদূষণসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বারবার আলোচনায় এসেছে। এমন খবরও উঠে এসেছে যে, এই সমস্যাগুলো আরও বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, বায়ুদূষণে রোগব্যাধী বাড়ছে। তথ্য মতে, বায়ুদূষণজনিত রোগে দেশে কত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বায়ুদূষণজনিত রোগ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো- এতে বেশি ঝুঁকির শিকার গর্ভবতী মা ও শিশুরা। অটিস্টিক শিশুর জন্ম হওয়ার একটি কারণ দূষিত বায়ু। বাচ্চাদের জন্মকালীন ওজন কম হওয়ার একটি কারণও বায়ুদূষণ। আবার বায়ুদূষণের কারণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। হাঁচি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার। এই ক্যান্সারের বড় কারণও দূষিত বায়ু। এ ছাড়া কিডনি ও হৃদরোগের কারণও হতে পারে বায়ুদূষণ।

আমরা বলতে চাই, এসব তথ্য আমলে নিলে বায়ুদূষণ যে কতটা ভয়ানক তা প্রতীয়মান হয়। ফলে তথ্যগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং তা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন। প্রসঙ্গত বলা দরকার, বাংলাদেশ একটি জনসংখ্যাবহুল দেশ। এমনিতেই বিপুল জনগোষ্ঠীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা একটি বড় রকমের চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসক সংকট বিদ্যমান। আবার যদি বায়ুদূষণ সংক্রান্ত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে তা কতটা উৎকণ্ঠার তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বায়ুদূষণ সংক্রান্ত যে তথ্যগুলো আলোচনায় আসছে তা আমলে নিলে নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। উলেস্নখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধারাবাহিকভাবে দূষণের সময় বা দিন বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত। অথচ দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মার্চ-এপ্রিলের বাতাসও জানুয়ারি-ফেব্রম্নয়ারি মাসের মতো খারাপ থাকছে।

আমরা বলতে চাই, এইভাবে যদি দূষণের মাত্রা বাড়ে এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে তবে তা কতটা ভীতিপ্রদ বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বছরের এই শুষ্ক মৌসুমে বক্ষব্যাধিও বাড়ে বলে জানা গেছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন, কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, শীতের সময় ছাড়া অন্য সময়েও রোগী বাড়ছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার রোগী আসছে বহির্বিভাগে। অথচ পাঁচ বছর আগে গড়ে প্রতিদিন ২০০-৩০০ জন রোগী আসত। বায়ুদূষণের কারণে নানা ধরনের রোগব্যাধি হয়। বক্ষব্যাধির অনেক রোগও বায়ুর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা মনে করি, যখন এমন বিষয় সামনে আসছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে রোগী বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ বায়ুদূষণ- তখন এই বিষয়টিকে সামনে রেখে দূষণের মাত্রা কমাতে করণীয় নির্ধারণ এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। মনে রাখতে হবে, বায়ুদূষণ অকালমৃতু্য ডেকে আনার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখে। ফলে এই বিষয়কে সহজ করে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বছরে বিশ্বব্যাপী ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃতু্য হয় বায়ুদূষণজনিত রোগে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, বায়ুদূষণ সংক্রান্ত যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে, তা আমলে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের এটা গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, বৈশ্বিক বায়ুদূষণের ঝুঁকিবিষয়ক 'দ্য স্টেট অব গেস্নাবাল এয়ার-২০১৯' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে, তার একটি বাংলাদেশ। এ ছাড়া বায়ুদূষণজনিত মৃতু্যর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম। এই তথ্যগুলো বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। এ ছাড়া বলা দরকার, বায়ুদূষণের কারণে বাচ্চাদের স্বল্প ও দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধি হয়। বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার, হৃদরোগ, লিভার ও কিডনিতে জটিলতা বাড়তে পারে। গর্ভবতী মা বায়ুদূষণের শিকার হলে গর্ভের সন্তানের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এর ফলে বাচ্চা আকারে ছোট হতে পারে, ওজন কম হতে পারে, মানসিক ও স্নায়ুগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অটিস্টিক বাচ্চা জন্ম হওয়ার একটি কারণও বায়ুদূষণ। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে দ্রম্নত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে