logo
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৮ মার্চ ২০২০, ০০:০০  

গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি

দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে কোনো রকম প্রতিকারহীনভাবে। বিশেষ করে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির বিষয় স্পষ্ট দিক হলো স্থানীয় প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত ব্যর্থতা।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কলেজছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ঢাকার শ্যামপুর থেকে তিনজন ও জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝিরঘাট থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষকদের ফাঁসি চেয়ে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মানববন্ধনে ছাত্রীরা বলেন, আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কোনো বিচার হয়নি। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে মেয়েদের নিরাপত্তা দেবে কে? আমরা ধর্ষকদের ফাঁসি চাই। ধর্ষকদের ফাঁসি দিলেই কমে যাবে ধর্ষণ। আমরা তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।

আমরা কোনোভাবেই সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি না। এটা আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। আমরা এই ধরনের উদ্বেগজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মনে রাখতে হবে সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার কারণেই যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হয়রানি বাড়ছেই। অপরাধ করে নিষ্কৃতি পাওয়ার একটি সংস্কৃতি দেশে চালু রয়েছে। যদিও সরকার এ ব্যাপারে বেশ কঠোর। এর পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ও একটা কারণ। সব ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা মিডিয়ায় আসে না। প্রকৃতপক্ষে ঘটনার ভয়াবহতা অনেক বেশি। রক্ষণশীল সমাজ হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা, মামলা করে হয়রানি এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অসংখ্য ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে। ফলে অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে না। উপরন্তু অপরাধে উৎসাহিত হচ্ছে।

\হএটা সত্য, সমাজের একশ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা ভাবতে বিস্ময় জাগে, কোনোভাবেই আমাদের সমাজ যেন আলোর দিকে অগ্রসর হতে পারছে না, কেবল অন্ধকারে খাবি খাচ্ছে। অবক্ষয় যেমন আমাদের সমাজকে দিন দিন গ্রাস করছে। সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কারণেই মূলত এমনটি হচ্ছে। রাষ্ট্রের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। যারা সমাজকে, রাষ্ট্রকে পদে পদে কলুষিত করছে, সমাজকে ভারসাম্যহীন ও দূষিত করে তুলছে, সমাজের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, বিপন্ন করছে ছাত্রীদের জীবন- তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাই, পরিকল্পিত ও বিন্যস্ত সমাজ। নীতিবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি- যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। সামাজিক সুস্থতা আনয়নের পাশাপাশি নতুন সমাজ নির্মাণের জন্য এ ধরনের অপরাধ ও অবক্ষয়কে প্রতিরোধ করতে হবে এবং যে কোনো মূল্যে। এ জন্য ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন- যার কোনো বিকল্প নেই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে