logo
রোববার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

ইতিহাসের পাতা

চার্লস ডারউইন

চার্লস ডারউইন
চার্লস ডারউইন প্রকৃতিবিদ, ভূতাত্ত্বিক এবং জীববিজ্ঞানী জন্ম: ১২ ফেব্রম্নয়ারি, ১৮০৯ মৃতু্য: ১৯ এপ্রিল, ১৮৮২
শিক্ষা জগৎ ডেস্ক য়

চার্লস রবার্ট ডারউইন ছিলেন উনিশ শতকের একজন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ, ভূতাত্ত্বিক এবং জীববিজ্ঞানী। তিনিই প্রথম প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিবর্তনবাদের ধারণা দেন। তার 'বিবর্তনবাদ ও প্রাকৃতিক নির্বাচন' সংক্রান্ত মতবাদ দিয়ে চারপাশের জীবন ও জগৎ সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষের ধারণাটাই পুরোপুরি পালটে দিয়েছেন।

১৮০৯ সালের ১২ ফেবরুয়ারি ইংল্যান্ডে তার জন্ম হয়। তার পিতা ছিলেন চিকিৎসক এবং ফিন্যান্সার রবার্ট ডারউইন এবং মাতা সুসানাহ ডারউইন।

শৈশবকাল থেকেই প্রকৃতির প্রতি ডারউইনের গভীর আগ্রহ ছিল। যার কারণে পরে তিনি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নে মনোযোগী ছিলেন না বরং তিনি সামদ্রিক অমেরুদন্ডী প্রাণী নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন। অতঃপর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তার মধ্যকার প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের আগ্রহ তীব্রভাবে জাগ্রত হয়। তিনি একজন ভূতাত্ত্বিক হিসাবে এইচএমএস বিগল জাহাজে ভ্রমণ করার সুযোগ পান। ২৭ ডিসেম্বর ১৮৩১-এ শুরু হয়ে এ সমুদ্রযাত্রা প্রায় পাঁচ বছর চলে। তার পাঁচ বছরব্যাপী যাত্রা তাকে একজন ভূতাত্ত্বিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। যাত্রার বর্ণনা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডারউইন একটি বই লেখেন যার নাম 'দ্য ভয়েজ অফ দ্য বিগ?ল'। বিগলের ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হলে তা তাকে জনপ্রিয় লেখকের খ্যাতি এনে দেয়।

সমুদ্রযাত্রায় ডারউইন বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ব্রাজিল, চিলি, অস্ট্রেলিয়া, ফকল্যান্ড দ্বীপ ও গ্যালাপাগোস প্রভৃতি দ্বীপগুলো ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণকালে তার সংগৃহীত বন্যপ্রাণী ও ফসিলের ভৌগোলিক বণ্টন দেখে কৌতূহলী হয়ে ডারউইন প্রজাতির ট্রান্সমিউটেশান নিয়ে অনুসন্ধান করেন এবং ১৮৩৮ সালে তার প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদটি তার মনে দানা বেঁধে উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন প্রজাতির ফিঙ্গে পাখি (ঋরহপয) এবং কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য দেখে।

তিনি তার তত্ত্বটি লিখছিলেন যখন ১৮৫৮ সালে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস তাকে একই ধরনের চিন্তাভাবনা সংবলিত একটি প্রবন্ধ পাঠান, যার ফলে অনতিবিলম্বে তাদের উভয়ের তত্ত্ব যৌথভাবে প্রকাশিত হয়। ডারউইনের তত্ত্ব কিছু পরিবর্তিত হয়ে প্রকৃতিতে বহুল বৈচিত্র্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।

১৮৫৯ সালে তার বহুল আলোচিত বই 'অন দ্যা অরিজিন অব স্পেসিস' (প্রজাতির উৎপত্তি) প্রকাশিত হয়।

এছাড়া তার অন্যান্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে 'দ্যা এক্সপ্রেশন অব ইমোশনস ইন ম্যান অ্যান্ড অ্যানিমালস (মানুষ ও প্রাণীগুলোর আবেগীয় অভিব্যক্তি)', 'দ্যা ডিসেন্ট অব ম্যান, অ্যান্ড সিলেকশন ইন রিলেশন টু সেক্স (মানুষের ক্রমোন্নয়ন ও লৈঙ্গিক নির্বাচন)', 'দ্যা পাওয়ার অব মুভমেন্ট ইন প্যান্টস' এবং 'দ্যা ফর্মেশন অব ভেজেটেবল মৌল্ড থ্রম্ন দ্যা অ্যাকশন অব ওয়ার্মস'।

তার প্রাপ্ত উলেস্নখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- এফআরএস (১৮৩৯), রয়েল মেডেল (১৮৫৩), ওলাস্টন মেডেল (১৮৫৯), কপলে মেডেল (১৮৬৪) ইত্যাদি।

তিনি ইংল্যান্ডে ১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল, ৭৩ বছর বয়সে মৃতু্যবরণ করেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে