logo
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

ইতিহাসের পাতা

জেন অ্যাডামস

জেন অ্যাডামস
জেন অ্যাডামস সমাজ সংগঠক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী ও লেখক জন্ম: ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮০৬ মৃতু্য: ২১ মে, ১৯৩৫
শিক্ষা জগৎ ডেস্ক য়

জেন অ্যাডামস ছিলেন একজন সমাজ সংগঠক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী ও লেখক- যিনি প্রথম মার্কিন নারী হিসেবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। তার পুরো নাম লরা জেন অ্যাডামস।

জেন অ্যাডামসের জন্ম ১৮০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেডারভিল, ইলিনইসের এক সমৃদ্ধশালী পরিবারে। জেনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার মা সারা অ্যাডামস মারা যান। জেনের পিতা জন এইচ অ্যাডামস ছিলেন 'দ্যা সেকন্ড ন্যাশনাল ব্যাংক অব ফ্রিপোর্টে'র প্রেসিডেন্ট এবং ১৮৫৪ থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত ইলিনইস স্টেট সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেনের বাবা তাকে উচ্চশিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করতেন। জেন পড়ালেখা করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে।

১৮৮১ সালে ইলিনয়ের রকফোর্ড মহিলা সেমিনারি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং কিছুদিন চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন তবে খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে ছেড়ে দিয়েছিলেন। সাতাশ বছর বয়সে তার বন্ধু এলেন জি স্টারকে নিয়ে ইউরোপ সফরকালে তিনি লন্ডনের ইস্ট এন্ডের 'টয়েনবি হল' প্রর্দশন করার সুযোগ পান। হলটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যবহৃত হতো। এরপর তার ইচ্ছা হলো শিকাগোর সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে একই রকম বাড়ি তৈরী করার। তা ছাড়া ছোটবেলায় ডিকেন্সের লেখা পড়ে তিনি দরিদ্রের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য অনুপ্রাণিত হন।

১৮৮৯ সালে তিনি তার কলেজ সহপাঠী এলেন স্টারের সঙ্গে শিকাগোতে সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলেন "হুল হাউস" যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বপ্রথম ঝবঃঃষবসবহঃ ঐড়ঁংব। হাউসটির নামকরণ করা হয় "চার্লস হুল" এর নামানুসারে, যিনি দালানটি বানিয়েছিলেন ১৮৫৬ সালে। আর এই হুল হাউসটি বানাতে গিয়ে জেন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৫০,০০০ ইউএস ডলারের পুরোটাই খরচ করেন।

বছরের পর বছর ধরে, সংস্থাটি ১০টিরও বেশি বিল্ডিং এর অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। শিশু যত্ন, শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম, একটি আর্ট গ্যালারি, একটি পাবলিক কিচেন এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি সামাজিক গ্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত করে এর সেবামূলক কার্যক্রমকে বৃদ্ধি করা হয়।

১৯০৫ সালে তিনি শিকাগোর শিক্ষা বোর্ডে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীকালে স্কুল পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হন। ১৯০৮ সালে তিনি শিকাগো স্কুল অব সিভিকস অ্যান্ড ফিলান্ট্রোপির প্রতিষ্ঠায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ১৯১০ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্স অব চ্যারিটিস ও কারেকশনসের প্রথম মহিলা সভাপতি হন। শিকাগোর নিজের এলাকায় তিনি মিডওয়াইফ, মাদক সেবন, দুধ সরবরাহ এবং স্যানিটারি অবস্থার বিষয়ে তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯১০ সালে তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর অ্যাডামস উইমেন পিস পার্টির চেয়ারম্যান হন। এমিলি গ্রিন বাল্‌চ এবং অ্যালিস হ্যামিল্টনের পাশাপাশি তিনি ১৯১৫ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অব উইমেনে যোগ দিয়েছিলেন।

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অ্যাডামস ১৯১৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত উইমেন ইন্টারন্যাশনাল লিগ ফর পিস অ্যান্ড ফ্রিডমের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সমাজকল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা এবং প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর কালে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য অবদানের জন্য তাকে নিকোলাস মারি বাটলারের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

জেন অ্যাডামস যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ২১ মে, ১৯৩৫ সালে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে