logo
  • Wed, 14 Nov, 2018

  বিনোদন রিপোটর্   ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

চার শিল্পীকে প্রধানমন্ত্রীর ৯০ লাখ টাকা

চার শিল্পীকে প্রধানমন্ত্রীর ৯০ লাখ টাকা
গণভবনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র (বঁায়ে) ও কুদ্দুস বয়াতি
প্রবীর মিত্র, রেহানা জলি, নূতন ও কুদ্দুস বয়াতি-এই চার শিল্পীর অসহায়ত্ব আর চিকিৎসার বিষয় বিবেচনা করে তাদের পাশে এসে দঁাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে এই চার শিল্পীকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের ৯০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। শিল্পীদের পাশাপাশি অনুদানপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

প্রবীর মিত্র, রেহানা জলি, কুদ্দুস বয়াতি ও নূতনÑএই চার শিল্পী একসময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন শুটিং স্পট ও গানের মঞ্চে। বয়সের কারণে এখন আর কেউ তাদের ডাকেন না। তা ছাড়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে চরিত্রাভিনেতাদের গুরুত্ব অনেকখানি কমিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের অনেককেই এখন বেকার জীবন যাপন করতে হচ্ছে। অনেকে আবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সপ্তাহখানেক আগে চলচ্চিত্রের গুণী অভিনয়শিল্পী প্রবীর মিত্র ও রেহানা জলির বতর্মান অবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিকে শিল্পী ঐক্যজোট নামের একটি সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রবীর মিত্র, রেহানা জলি ও নূতনের বতর্মান অবস্থার কথা উল্লেখ করে সাহায্যের আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর শিল্পীদের অসহায়ত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রæত পদক্ষেপ নেয়। তারই প্রক্রিয়া হিসেবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে চলচ্চিত্র ও গানের এই গুণী শিল্পীদের হাতে অথর্ সাহায্য তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এত দ্রæত অথর্ সাহায্য পেয়ে ভীষণ খুশি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিল্পীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার শিল্পীর মধ্যে প্রবীর মিত্র ও রেহানা জলিকে ২৫ লাখ টাকা করে এবং নূতন ও কুদ্দুস বয়াতিকে দিয়েছেন ২০ লাখ টাকা করে। অনুদান গ্রহণের সময় শিল্পী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নিমার্তা জি এম সৈকত।

অনুদানপ্রাপ্তির পর প্রবীর মিত্র বলেন, ‘অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা ভেবেছেন। গণভবনে গিয়ে দেখেছি, অনেক মানুষ তার সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন। এত ব্যস্ততার পরও আমাদের হাতে সঞ্চয়পত্র তুলে দিলেন হাসিমুখে। হাসিমুখে যিনি শিল্পীদের ভালোবাসতে জানেন, তঁার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। সঞ্চয়পত্র হাতে তুলে দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, ‘যে টাকা প্রতি মাসে আপনি পাবেন, সেটা দিয়ে খুব ভালো চিকিৎসা হয়ে যাবে।’

এক বছর আগে রেহানা জলির শরীরে ফুসফুসের প্রদাহ ধরা পড়ে। এরপর মেরুদÐের হাড়ের সমস্যাও ধরা পড়ে। মেরুদÐের হাড়ের সমস্যার পরপরই চিকিৎসক রেহানা জলিকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার পরামশর্ দেন। এদিকে পঁাচ মাস আগে ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। তা এখনো প্রাথমিক পযাের্য় আছে বলে জানান রেহানা জলি। শুরুর দিকে ফুসফুস ও হাড়ের চিকিৎসায় মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এত খরচ দেখে তিন মাস ধরে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পাওয়ার পর আবার নতুন করে চিকিৎসা শুরু করবেন। রেহানা জলি বলেন, ‘আমার জীবনে সবচেয়ে বড় উপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করলেন। কারণ, অথার্ভাবে আমার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার কারণে চিকিৎসা শুরু করতে পারব। সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারব।’

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুস্থ রোগী কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুদানের এই টাকা গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচাযর্ অধ্যাপক চিকিৎসক কনক কান্তি বড়ুয়া। জানা গেছে, অনুদানের এই টাকা হাসপাতালে দুস্থ ও অসহায় রোগীদের সাহায্যে ব্যয় করা হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে