logo
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৫

  বিনোদন রিপোর্ট   ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

প্রদর্শিত হবে ৩৯ দেশের ১৭৯টি চলচ্চিত্র

ছোটদের বড় উৎসব আজ শুরু

ছোটদের বড় উৎসব আজ শুরু
বাংলাদেশের 'চান্দপুরি' চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে শিশুদের বিনোদনের ক্ষেত্র। শিশুদের নিয়ে নাটক সিনেমা নির্মাণের হারও কমে গেছে অনেকটা। সরকারি অনুদানে নামমাত্র কিংবা হাতেগোনা দুয়েকটি চলচ্চিত্র ছাড়া নির্মাণ হচ্ছে না শিশুতোষ চলচ্চিত্র। কিন্তু শিশুরা যেন মুখিয়ে থাকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিনোদন ও মেধার বাড়তি বিকাশ ঘটাতে। শিশুদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। আজই পর্দা উঠছে এই উৎসবের। রাজধানীর শাহবাগের বেগম সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে আজ বিকালে এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন উৎসব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার।

'ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন' সেস্নাগানের এই চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশসহ ৩৯টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্রে সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের ১৩তম আসরটি। রাজধানীর পাঁচটি ভেনু্যতে প্রদর্শিত হবে এসব চলচ্চিত্র। শিশু-কিশোরসহ তাদের অভিভাবকরা বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন এ উৎসব। ঢাকায় মূল উৎসব কেন্দ্র হবে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন। এখানে ২৫ জানুয়ারি প্রদর্শিত হবে 'ফাদার' (বাংলাদেশ), 'অ্যা ট্রিপ টু মাই ফ্রেন্ড'স হোম' (ভারত), 'বোজি' (জামার্নি), 'হাউ টু চিয়ার্স আপ লনলিনেস' (ইউক্রেন), 'ইট'স ক্লোড আপ দেয়ার' (ফ্রান্স), 'ম্যারাডোনা'স লেগ' (জার্মানি), 'ওয়ান টু থ্রি' (সিঙ্গাপুর), 'দি সেভেন চাইনিজ ব্রাদারস' (স্পেন), 'অ্যা লিটল গিফট ফর ইউ' (ম্যাক্সিকো), 'মুজবালাক' (কাজাকিস্তান), 'মাই লিটল প্রিন্স' (আজারবাইজান), 'গুড গার্ল' (ফিনল্যান্ড), 'স্যাম'স ড্রিম' (ফ্রান্স), 'ইয়াতি অভিযান' (ভারত) চলচ্চিত্র। ২৭ জানুয়ারি প্রদর্শিত হবে 'দি ডাস্টবিন কানেকশন' (বাংলাদেশ), 'কালার অফ চাইল্ড' (বাংলাদেশ), 'আই অ্যাম নট মাই ফাদার' (কাতার), 'আই অ্যাম এ ট্রি' (ইরান), 'দি বোবোট' (ইউক্রেন), 'নো মুনস্টারস এলাউড' (যুক্তরাষ্ট্র), 'ইন পাসিং' (কানাডা), 'লাভ আইল্যান্ড' (কোরিয়া), 'এ ফুল মুন নাইট' (আর্জেন্টিনা), 'লা নরিয়া' (স্পেন), 'সুইট ড্রিমস' (চীন), বস্নু অ্যান্ড কোর্ট (কানাডা), 'টুমোরো' (বাংলাদেশ)। ২৮ জানুয়ারি প্রদর্শিত হবে 'চান্দপুরি' (বাংলাদেশ), 'পিকুস ড্রিম' (ভারত), 'ব্রিফ চ্যালেঞ্জ' (ব্রাজিল), 'ডে এক্স' (জার্মানি), 'ট্রপি হান্টার' (যুক্তরাষ্ট্য), 'প্রিমিসিবল ভেলোসিটি' (বাংলাদেশ)। ২৯ জানুয়ারি প্রদর্শিত হবে 'গ্যালারি এক্সপিরিয়েন্স' (যুক্তরাষ্ট্র), 'কিলিং টাইম' (ফ্রান্স), 'রাইজিং' (নেপাল), 'ডোবিই' (ভারত), 'মাদার' (নেপাল), 'হেয়ার মাই ভিলেজ' (ইরান), দি ব্রান্ড নিউ ফ্রেন্ডশিপ' (বাংলাদেশ)। ৩১ জানুয়ারি প্রদর্শিত হবে 'কাউনডাউন টু চেউস' (জার্মানি), 'গস্নাস সেইলিং' (ফ্রান্স), 'হার' (ইন্দোনেশিয়া) ও 'এ চাইল্ড টিচার' (নেপাল) চলচ্চিত্র। এছাড়াও জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ সেন্টার ও গ্যেটে ইনস্টিটিউটে একই সময় প্রদর্শিত ভিন্ন ভিন্ন চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি কর্মশালা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা, দুপুর ২টা, বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪টি প্রদর্শনী হবে। উৎসবে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তিনটি দ্বিতল বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

'ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন' প্রতিপাদ্যে ১৩তম আসরটির আয়োজক চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ। এ সম্পর্কে চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, 'এ উৎসবটি শিশুদের জন্য বাংলাদেশের সবেচেয়ে বড় উৎসব। শুধু তাই নয়, এটি বিশ্বেরও অন্যতম বৃহৎ শিশুতোষ চলচ্চিত্র উৎসব। এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিচিত্র বিষয়ের চলচ্চিত্র দেখার দুর্লভ সুযোগ পাবে শিশুরা।'

জানা গেছে, এবারের উৎসবে মোট চারটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সিনেমাটোগ্রাফির ওপর নিহাল কুরাইশি, ডিরেকশনের ওপর পিপলু আর খান, 'সাউন্ড ইন ফিল্ম'-এর ওপর নাহিদ মাসুদ এবং 'স্টোরি টেলিং'বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করবেন অমিতাভ রেজা। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অন্তরঙ্গ আড্ডায় উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা ও রণাঙ্গনের আলোকচিত্রী হারুন হাবীব ও প্রথম বাংলাদেশী নারী ফিফা রেফারি জয়া চাকমা।

এবারে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশী শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগ। এ বিভাগে জমা পড়া ৪৮টি চলচ্চিত্রের মধ্যে নির্বাচিত ১৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে পাঁচটি সেরা চলচ্চিত্রকে দেওয়া হবে বিশেষ পুরস্কার। আর পুরস্কার হিসেবে থাকছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রণোদনা। পুরস্কারের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ডের সবাই শিশু-কিশোর। ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে 'ইয়ং বাংলাদেশী ট্যালেন্ট' বিভাগ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে