logo
  • Thu, 20 Sep, 2018

  যাযাদি ডেস্ক   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

গুজবের বিরুদ্ধে এবার লড়াইয়ে নামছে সরকার

বাংলাদেশে গুজবের প্রবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ সেল তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই সেলের মূল দায়িত্ব হবে গণমাধ্যম এবং ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব গুজব ছড়ানো হয় তার উৎস অনুসন্ধান করা এবং তথ্য যাচাই-বাছাই করে আসল ঘটনা জনসাধারণকে জানিয়ে দেয়া।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ চক্র, বিশেষভাবে সাম্প্রদায়িক চক্র, যুদ্ধাপরাধী চক্র, ক্রমাগতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এটা সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, অবিশ্বাস তৈরি করছে এবং সংঘষের্র উস্কানি দিচ্ছে। এ জন্যই সরকার মনে করছে, গুজবের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সতকর্ করা এবং সচেতন করার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি শিক্ষাথীের্দর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর কোনো কোনোটিতে কয়েকজন ছাত্রকে খুন এবং কিছু ছাত্রীকে ধষর্ণ করা হয় বলে দাবি করা হয়। পরে ওইসব দাবি স্রেফ গুজব বলে জানা যায়।

তথ্যমন্ত্রী জানান, এই সেল গঠিত হবে দক্ষ জনশক্তি দিয়ে। গণমাধ্যমে কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, এই সেল

সেগুলো তা শনাক্ত করবে, গুজবের উৎস অনুসন্ধান করবে, গুজবের বিষয় শনাক্ত করবে এবং এ ব্যাপারে প্রকৃত সত্য সম্পকের্ জনসাধারণকে জানিয়ে দেবে।

এসব গুজবের বিষয়ে প্রয়োজনবোধে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকেও জড়িত করা হবে বলে জানান হাসানুল হক ইনু।

এই গুজববিরোধী সেলকে বতর্মান ক্ষমতাসীন দল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পকের্ হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এরকম কোনো আশঙ্কা নেই।’

তিনি বলেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশন ছড়ায়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী তার দায়িত্ব নেবে না।’

সরকার যাকে গুজব বলবে, ফেসবুক-টুইটার ব্যবহারকারীরা তাকে কেন সত্যি বলে মনে নেবে, এই প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো বিষয়টা নিভর্র করবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ওপর।

তিনি বলেন, ‘কোনো একটি বিষয়ে মিথ্যাচার করা হলে সরকার, কতৃর্পক্ষ বা কোনো সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে গুজব পল্লবিত হয়, সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলেই মানুষ তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

তথ্যমন্ত্রী জানান, আপাতত তথ্য মন্ত্রণালয়ের কমর্কতাের্দর নিয়ে এই সেল গঠিত হবে এবং পরে এতে বিশেষজ্ঞরাও যোগ দেবেন।

ঢাকায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলার সময় ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলম এবং মডেল ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।

পরে নওশাবা আহমেদ জামিনে মুক্তি পেলেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলম এখনো আটক রয়েছেন।

গুজবের জবাব ৩

ঘণ্টায় : তারানা

এদিকে নিবার্চনের আগে গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে রক্ষায় ‘গুজব শনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র’ স্থাপন করে তিন ঘণ্টার মধ্যে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

সেপ্টেম্বরের শেষে এ কেন্দ্র কাজ শুরু করবে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ২৪ ঘণ্টা মনিটর করে প্রয়োজনে সরকারের বক্তব্যও তুলে ধরা হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাযর্ক্রম নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তারানা হালিম বলেন, নিবার্চনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা গুজবের কারখানা হয়ে যায়। এ মাধ্যমের প্রতি আসক্তের কারণে একটি প্রজন্ম যে স্ট্যাটাসই আসুক সত্য বলে ধরে নেয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডিতে (তথ্য অধিদপ্তর), প্রয়োজন হলে নিমকোতে (বাংলাদেশ গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট) বেশ কিছু তরুণ লোকবল আছে তাদের ইনক্লুড করে একটি টিম করব যারা ২৪ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যে সংবাদগুলো গুজব সেগুলো চিহ্নিত করবে এবং সব সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল, রেডিও এবং সব সংবাদ মাধ্যমে তিন ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে স্বপ্রণোদিত হয়ে পিআইডি থেকে প্রেসনোট দেবে যে, এই সংবাদগুলো গুজব, ভিত্তিহীন এবং অসত্য।’

তারানা হালিম আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক একটি সেল আছে এবং তিনশ’রও বেশি পেজ, তারা খুব অ্যাক্টিভ এবং তাদের পেজগুলো প্রবলভাবে স্পন্সরড। নিবার্চনের আগে এর প্রবণতা বেড়ে যাবে। মিথ্যা, অসত্য গুজব এবং প্রচারণার। কাজেই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে বাকরোধ বা কণ্ঠরোধ করা নয়, আমাদের দায়িত্ব কোনটি অসত্য সেটি তুলে ধরা। সে কাজ করার জন্য কেন্দ্রটি গঠন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, সেপ্টেম্বরের শেষদিকে এ কেন্দ্রটি গঠন ও কাজটি শুরু করতে পারব। কোনটি গুজব কোনটি নয়, সেটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার এবং ঘটনাস্থল থেকে জেনে এ কেন্দ্রের মাধ্যমে আপনাদের তথ্য জানাব।’

সচিবালয়ে পিআইডিতে স্থাপিত এই কেন্দ্রের জন্য একটি নম্বর দেয়া থাকবে, সেখানে তথ্য জানাতে পারবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে