logo
রোববার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫

  যাযাদি রিপোটর্   ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার রায়ে বিজয় দেখছে আওয়ামী লীগ: বিএনপির মূল্যায়ন ভিন্ন

কোন দিকে যাচ্ছে রাজনীতি!

আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিএনপি ক্ষমতা পোক্ত করতে চেয়েছিল। রাজনৈতিক পযের্বক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান মনে করেন দুই দলের মধ্যে যে গভীর তিক্ততা তৈরি হয়েছে সেটি কাটবে কিনা সন্দেহ আছে।

দেশে যে কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাÐ দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে বৈরিতা আরও তীব্র করে তুলেছে, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল তার অন্যতম।

এ ঘটনা সম্পকের্ প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের সহযোগীরাই এই হামলার পেছনে ছিল, পুরো শীষর্ নেতৃত্বকে শেষ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল সেদিন। সে কারণেই তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্তে বারবার বাধা সৃষ্টি করেছে। রায়েও সে কথারই প্রতিফলন ছিল।

দেশে ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রে উত্তরণের কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে এত বড় হত্যাকাÐ কখনো হয়নি। সেটির লক্ষ্য যে শেখ হাসিনাই ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, ১৪ বছর আগের সেই লোমহষর্ক ঘটনার মামলার রায়ের প্রভাব কী হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে? হলেও কতটা হবে?

রাজনৈতিক পযের্বক্ষক দিলারা চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে তার মতে এই রায় বাড়তি কোনো প্রভাব ফেলবে না । কারণ তার মতে, তারেক রহমানসহ বিএনপির শীষর্ নেতৃত্ব এরই মধ্যে বিভিন্ন মামলায় দÐিত হয়েছেন।

দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘আমার তো মনে হয় না এ রায় নতুন কিছু যোগ করবে। আগের রায়গুলোর মতো বিএনপি এবারও দেখানোর চেষ্টা করবে যে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিএনপি ক্ষমতা পোক্ত করতে চেয়েছিল। রাজনৈতিক পযের্বক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান মনে করেন দুই দলের মধ্যে যে গভীর তিক্ততা তৈরি হয়েছে সেটি কাটবে কিনা সন্দেহ আছে।

তিনি বলেন, একটা দল যদি আরেকটি রাজনৈতিক দলের মূল উৎপাটন করতে চায় এবং তা হত্যাকাÐের মধ্য দিয়ে, সে রাজনৈতিক দল তো সেটা ভুলে যাবে না।

এ মামলায় মূল চরিত্র ছিলেন তারেক রহমান। গত ১১ বছর ধরে তিনি নিবার্সনে লন্ডনে আছেন। তারেক রহমান সহসা দেশে ফিরবেন সে রকম কোনো সম্ভাবনাও নেই। এ মামলার রায় সেটি আরও জটিল হয়েছে। তারেক রহমানকে আদালত কী সাজা দেবে সেটি নিয়ে অনেক জল্পনা ছিল। শেষ পযর্ন্ত যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে তার।

তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করেন, বিএনপিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে না। যারা বিএনপির সাপোটার্র তারা তাকে সাপোটর্ করেই যাবে। যারা আওয়ামী লীগের সাপোটার্র তারা তাদের কথাই বলে যাবে।

তবে দিলারা চৌধুরী বলেন, এ রায় থেকে আওয়ামী লীগ বাড়তি কোনো সুবিধা নিতে পারবে কিনা তা নিভর্র করবে আগামী দিনগুলোতে তাদের ভ‚মিকার ওপর। ‘তারা যদি এ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে তাহলে কিছুই বদলাবে না। কিন্তু তারা যদি এটা নিয়ে রাজনীতি না করে, তাহলে তাদের লাভ হবে।’

তবে এ রায়কে একটি ‘নৈতিক বিজয়’ মনে করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। তারা মনে করেন, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল দলটির অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়া। তার বিচার হয়েছে। রায় নিয়ে ‘দৃশ্যত’ খানিকটা উষ্মা দলের তরফে প্রকাশ করা হলেও শাসক দল মনে করছে, শুধু দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নয়, আইনের শাসন প্রশ্নে সরকারের ভাবমূতির্ও এতে উজ্জ্বল হবে। তাদের ধারণা, এ রায়ের ফলে আওয়ামী লীগকে নিমূর্ল করে দেয়ার জন্য বিএনপির যে অংশ তৎপর থেকেছে সব সময়, তারা এখন সংকটে পড়বে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিমÐলীর দুই সদস্য, দুই সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ ধারণা পাওয়া গেছে। এই পঁাচজনের মধ্যে দুজন বাদে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।

এ রায়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এর ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। শুধু আওয়ামী লীগের ওপর এ হামলা হয়নি। এর ফলে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। আর এর বিচার হওয়ার প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির পরাজয় হলো।’

আবদুর রাজ্জাক মনে করেন, এর ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূতির্ উজ্জ্বল হলো। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের হত্যাকাÐের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং এ ২১ আগস্টের বিচারের কোনোটিই বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনালে করেন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রচলিত আইন মেনে, যথাযথ প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করে বিচার করেছে। তাই এখানে কোনো ব্যত্যয় হয়েছে সেই প্রশ্ন তোলা অসম্ভব হবে। আর এর ফলে সঙ্গত কারণেই সরকারের ভাবমূতির্ উজ্জ্বল হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘এই রায় আমাদের এক নৈতিক বিজয়। আইনের শাসনেরও বিজয়। যারা আইনের শাসন নেই বলে চিৎকার করেন তাদের দিকে এ রায় প্রশ্ন ছুড়ে দেবে।’

মহিবুল হাসান বলেন, বিএনপির ভেতরে যারা সজ্জন ব্যক্তি আছেন তারা নিশ্চয়ই চাইবেন না একজন খুনি তাদের দলীয় প্রধান হিসেবে থাকুক। তাদের দায়িত্ব আছে, দলকে কলঙ্কমুক্ত করা। আর তারা যদি তা না করে, তবে তাদের এ জন্য মূল্য দিতে হবে। বৈরিতার রাজনীতি বেশিদিন টেকে না, এ বিশ্বাস এখন তাদের করা উচিত।’

তবে এই রায়ের ফলে বিএনপির নেতৃত্ব এখনকার দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে দেবে, এমনটা মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শান্তনু মজুমদার। আওয়ামী লীগের ধমির্নরপেক্ষতার বিষয় নিয়ে লন্ডনে পিএইচডি করা এই শিক্ষক মনে করেন, এই রায় আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত তাৎপযর্পূণর্। এই রায়ের সঙ্গে দলটির আবেগের বিষয় জড়িত ছিল। তবে শুধু তাই নয়, এর একটি ঐতিহাসিক ভ‚মিকা আছে।

শান্তনু মজুমদার বলেন, ২১ আগস্ট শুধু আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা নয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের মতাদশির্ক দ্বন্দ্বের একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা। দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়াই ছিল এ লক্ষ্য। আর সেদিন শেখ হাসিনা নিহত হলে আওয়ামী লীগকে দ্বিখÐিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকত।

অধ্যাপক মজুমদার মনে করেন, তাৎপযর্পূণর্ দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা হয়তো সম্ভব হতো না কিন্তু দলটি বড় ধাক্কা খেত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ২১ আগস্টের খুনের দায়ে দÐিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী কোনো নৈতিকতায় ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন?

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে যারা গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলেন, যারা আইনের শাসনের কথা বলেন, কথায় কথায় নৈতিকতার কথা বলেন, খুনিদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য করবেন, এই জাতীয় ঐক্যে জনগণ কোনো দিনও বিশ্বাস করবে না, সমথর্ন করবে না। তিনি আরও বলেন, ‘২১ আগস্টের খুনিরা, মাস্টারমাইন্ড-প্ল্যানার যাবজ্জীবন কারাদÐে দÐিত। তিনি (তারেক রহমান) যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সেই দলের সঙ্গে কোনো নৈতিকতায় ঐক্য করেন? এই খুনি দলের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী আপনারা তথাকথিত জাতীয় ঐক্য করছেন?’

শান্তনু মজুমদার মনে করেন, ঐক্য প্রক্রিয়ায় পুরোধা ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতির প্রতীক। এই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য যারা আছে তাদের জন্য অসুবিধা না হলেও অন্তত কামাল হোসেনের জন্য অসুবিধা হবে খুনের জন্য দÐপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির দলের সঙ্গে একযোগে কাজ করা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে