logo
  • Sat, 17 Nov, 2018

  এসএম নজরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ   ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন

ফারুক খানের আসনে শেখ রেহানা?

গোপালগঞ্জ-১ (মকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ)

ফারুক খানের আসনে শেখ রেহানা?
দেশের অন্যান্য জেলার মতো গোপালগঞ্জেও বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের হাওয়া। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুগর্ হিসেবে পরিচিত এ জেলায় পঁাচটি উপজেলা নিয়ে তিনটি সংসদীয় নিবার্চনী আসন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে যতবার জাতীয় নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়েছে ততবারই এসব আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রাথীর্রা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। সে থেকে আসনগুলো বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। দেশের অন্যান্য আসনের তুলনায় রাজনৈতিক কারণে গোপালগঞ্জের আসনগুলো একটু ব্যতিক্রম। কারণ গোপালগঞ্জ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। এলাকার মানুষ মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন আওয়ামী লীগের নিবার্চনী প্রতীক নৌকাকে। সে কারণে মানুষ তার দল আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এবং ভোট দিয়ে নৌকার প্রাথীের্দর নিবাির্চত করে থাকেন। প্রাথীর্র বিচার না করে বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আত্মতৃপ্তিও লাভ করেন এ অঞ্চলের সাধারণ ভোটাররা।

গোপালগঞ্জ-১ আসন (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং মুকসুদপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে এ আসন গঠিত।

বিগত সংসদ নিবার্চনগুলো পযাের্লাচনা করলে দেখা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্রাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আসছেন। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এ আসনে বিএনপি বা অন্য কোনো দল থেকে যে বা যারা ভোটে অংশ নিয়ে থাকেন তারা শুধু নিজ দলের উপস্থিতি রাখার জন্যই নিবার্চন করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরে অথবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিছু ব্যানার-পোস্টার লাগিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়া ছাড়া তাদের কোনো নিবার্চনী প্রচারণাও তেমন একটা দেখা যায় না। আর তাই নিবার্চনী প্রাথির্তা নিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে যেমন কথাবাতার্ হয় বা লবিং হয়ে থাকে এখানে তাও থাকে না। এককথায় উত্তাপবিহীন নিবার্চনই হয়ে থাকে এখানে। তাই এখানকার ভোটাররা নিজেদের আসনের কথা মাথায় না রেখে সারাদেশের রাজনীতি নিয়েই বেশি আলোচনায় মত্ত থাকেন।

তবে এবার এ আসনে আসতে পারে নতুন চমক। আওয়ামী লীগ থেকে একজন প্রাথীর্র নাম বেশি হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। এ আসন থেকে যদি শেখ রেহানাকে প্রাথীর্ করা হয় সেক্ষেত্রে বতর্মান এমপি আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কনের্ল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

আর শেখ রেহানা প্রাথীর্ না হলে আগামী সংসদ নিবার্চনে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বতর্মান সংসদ সদস্য হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কনের্ল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের। তিনি বিগত ৪টি জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নিবাির্চত হয়েছেন। পালন করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব। এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর যোগাযোগ ও সম্পকর্। প্রতি মাসে দু-একবার তিনি তার নিজ নিবার্চনী এলাকায় আসেন। যোগ দেন নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কমর্কাÐে। এসব কারণে তার জনপ্রিয়তা তিনি ধরে রেখেছেন। তাছাড়া তার নিবার্চনী এলাকায় রাস্তাঘাট নিমার্ণ, ব্রিজ-কালভাটর্, স্কুল-কলেজের উন্নয়নসহ বিভিন্ন সেক্টরে করেছেন ব্যাপক উন্নয়ন। সব কিছু বিবেচনায় রেখে আগামী সংসদ নিবার্চনে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে বা তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ হবেন এমনটি মনে করেন এখানকার ভোটার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে নতুন মুখের খবরও শোনা যাচ্ছে এ আসনে। তারা হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের অথর্-সম্পাদক কেএম মাসুদুর রহমান, ব্যারিস্টার আলি আসিফ খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামÐলীর সদস্য মুকুল বোস, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য উম্মে রাজিয়া কাজল।

এ আসনে তরুণ হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন কেএম মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি তার নিবার্চনী এলাকায় বেশ উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। দলের নেতাকমীর্ ও এলাকার ভোটারদের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। বিভিন্ন জনহিতকর কমর্কাÐের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন তিনি। সাধারণ মানুষ মাসুদুর রহমান মাসুদকে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবেই জানেন।

এ ব্যাপারে কেএম মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভাটর্, স্কুল-কলেজে অনুদান, মসজিদ-মাদ্রাসা নিমার্ণ, হতদরিদ্রদের সহায়তাসহ সাবির্ক উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া নিজ শিল্প প্রতিষ্ঠানে এলাকার বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। আশা করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা তার ত্যাগ, শ্রম এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে তাকেই মনোনয়ন দেবেন।

এ আসনে বিএনপি থেকে নিয়ম রক্ষার নিবার্চনে অংশ নিতে বেশ কয়েকজন প্রাথীর্ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য মোহম্মদ সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি সাইফুর রহমান পটু ও গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএইচ খান মঞ্জুর নাম এলাকায় আলোচিত হচ্ছে। তবে এ আসনে বিএনপির সেলিমুজ্জামান সেলিম ছাড়া আর কোনো নেতা মাঠে নেই।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের মিজানুর রহমান তার দল থেকে আগামী নিবার্চনে অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি তার নিবার্চনী এলাকায় জনসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাসদ থেকে মোশায়েদ হোসেন ঢালী এবং জাপা (এরশাদ) থেকে বিভারানী মজুমদার, মুকসুদপুর উপজেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি আজম শরীফ, অ্যাডভোকেট সহীদুল আলম বাবর (আম্মিয়া) নিবার্চনে অংশ নেবেন বলে এলাকার ভোটাররা ধারণা করছেন।

তবে এ আসনে যে দল বা ব্যক্তিই অংশ নেননা কেন এখানে নৌকা মাকার্ই শেষ কথা। নৌকার মাঝি যিনি হবেন, তিনিই নদী পার হতে পারবেন। অথার্ৎ নিবার্চনী বাইচে তিনিই প্রথম হবেন এটাই নিশ্চিত। অন্যরা সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার দৌড়ে অনেক পেছনে থাকবেন বলে মনে করেন এখানকার সাধারণ ভোটাররা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে