logo
  • Sat, 17 Nov, 2018

  যাযাদি রিপোটর্   ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

নতুন চ্যালেঞ্জ আসন বণ্টন

স্থবির ২০ দলীয় জোটে আশা-নিরাশার দোলাচল

জোটের নেতারা মনে করছেন, জোট ‘সক্রিয়’ থাকলেও ‘কমর্সূচি’ নেই। তাদের কাছে এ মুহূতের্ ঐক্যফ্রন্টের কাযর্কারিতাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে

স্থবির ২০ দলীয় জোটে আশা-নিরাশার দোলাচল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কাযার্লয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় Ñফোকাস বাংলা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের কাযর্ক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। জোটের নেতারা মনে করছেন, জোট ‘সক্রিয়’ থাকলেও ‘কমর্সূচি’ নেই। তাদের কাছে এ মুহূতের্ ঐক্যফ্রন্টের কাযর্কারিতাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জোটে এখন চলছে আশা-নিরাশার দোলাচল।

জোটের নেতারা বলছেন, তাদের কাছে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুষ্ঠু নিবার্চন এ মুহূতের্ গুরুত্বপূণর্ ইস্যু। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতিতে ২০ দলীয় জোটের পূণর্ সমথর্ন রয়েছে। ঐক্যফ্রন্টে পুরো জোটের প্রতিনিধি বিএনপি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়ার পর থেকে ২০ দলীয় জোটের শরিকরা বিএনপি ও সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অনেকটা গৌণ হয়ে পড়ে। অনেক দিন ধরে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটটি কাগজ-কলমে থাকলেও মাঠে তারা সেভাবে সক্রিয় নয়। মাঝে মধ্যে জোটের বৈঠক হলেও রাজনীতির মাঠে সক্রিয়ভাবে জোটের দলগুলোকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। উপরন্তু নানা ইস্যুতে জোটে ভাঙন ধরতেও দেখা গেছে। নানা ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জোটটি। পাশাপাশি জোটের ভেতরও নানা মেরুকরণের কথা শোনা যায়।

প্রথমদিকে ২০ দলকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠনের কাজ শুরু হলে শরিক দলের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পযাের্য় ন্যাপ ও এনডিপি জোট থেকে বের হয়ে যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা গণমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্যও দিয়েছেন অন্যতম শরিক এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ।

জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বাড়াতে জোটের রাজনীতির বড় একটি প্রভাব অনেক দিন ধরেই। স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে জোটের রাজনীতির প্রভাব দেখেছে বাংলাদেশে। বিএনপির বতর্মান জোট রাজনীতির বড় ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৯৯ সালে। এই জোট নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে যেমন সাফল্য পেয়েছে তেমনি আন্দোলনে ব্যথর্তাও দেখেছে। জোট নিয়ে সাফল্যের পাশাপাশি বিব্রতও হতে হয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলটিকে।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়েও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় বিএনপিকে। ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে জামায়াতকে নিয়ে শতর্ জুড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপি কৌশলে ওই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করেন, ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির সম্পকের্র কোনো অবনতি হয়নি। ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট আলাদা অবস্থানে থেকেই রাজনীতি করছে। কিন্তু এই দুই জোটের দাবি-দাওয়া প্রায় অভিন্ন। তিনি বলেন, বিএনপি ভোটে যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি। ২০ দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের কমর্সূচিতেও তাদের অনেকেই যাচ্ছেন। বিএনপিও তাদের সময়ে সময়ে সবকিছু অবহিত করছে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গত ২২ সেপ্টেম্বর সমাবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর সরকারবিরোধী জোটের যাত্রা সমাবেশে বলা হয়েছিল, যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাখা হবে না। বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা থেকে বলা হয়েছিল, ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হলে বিএনপিকে জামায়াত ছেড়ে আসতে হবে। বিএনপি বলেছে, তারা এককভাবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আলাদা থাকবে এবং আলাদাভাবে কমর্সূচি পালন করবে। শেষ পযর্ন্ত ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট বিষয়টি মেনে নেয়। তবে শেষ পযর্ন্ত বি. চৌধুরীরা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বড় দল বিএনপি। ওই ফ্রন্টে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দলগুলোর অংশগ্রহণ নেই, প্রত্যক্ষ কোনো ভ‚মিকাও নেই। তারপরও পরোক্ষ ভ‚মিকা রয়েছে বলে মনে করেন জোট নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের বতর্মান সব কমর্সূচির প্রতি জোটের নৈতিক সমথের্নর কথা সবাইকে জানাতেই ৬ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়াদীর্ উদ্যানে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে জোটের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বতর্মানে ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে কারণে আলাদা কোনো কমর্সূচি দেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ জাতীয় পাটির্র (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পাথর্ বলেন, এখন জোটের পক্ষ থেকে আলাদা কমর্সূচি দিলে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ধাবিত হতে পারে। এখন ফোকাস ঐক্যফ্রন্টের দিকে। তিনি বলেন, ‘আমরা ডি-ফোকাস হচ্ছি না, ফোকাস ডাইভাটর্ করেছি।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির্র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, জোট কাযর্কর আছে। কিন্তু জোটগত কমর্সূচি নেই বললেই চলে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়ার বাস্তবতায় সব দলের প্রতিনিধি বিএনপি। ফ্রন্টের সব কমর্সূচিতে বিএনপির সঙ্গে তারাও সক্রিয়।

বিএনপি ও জোটের রাজনীতি

১৯৯৯ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে বিএনপি। বছরের শুরুতে এইচ এম এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম ও ইসলামী ঐক্যজোটের তখনকার চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের চেষ্টা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এক পযাের্য় এইচ এম এরশাদ এই প্রক্রিয়া থেকে সরে এলে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পাটির্র একাংশকে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠিত হয়।

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নিদর্লীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা চারদলীয় জোট কলেবরে বেড়ে ১৮ দলীয় জোট হয়। বিএনপি ছাড়া সে সময় জোটের শরিক দলগুলো ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির্ (বিজেপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটির্ (এলডিপি), কল্যাণ পাটির্, জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির্ (জাগপা), ন্যাশনাল পিপলস পাটির্ (এনপিপি), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পাটির্ (এনডিপি), লেবার পাটির্, ইসলামিক পাটির্, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, পিপলস লীগ ও ডেমোক্রেটিক লীগ।

পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পাটির্ (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দলের একাংশ এই জোটে যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

জোট গঠন প্রক্রিয়ার শুরুতেই এরশাদ সরে যাওয়ার বিষয়টির মতো গত কয়েক বছরে জোটের শরিকদের মধ্যে নানা টানাপড়েন লেগেই ছিল। জোটের দলগুলোর কমর্কাÐের জন্য দলের ভেতরে-বাইরে দুই ক্ষেত্রেই সমালোচনা শুনতে হয়েছে বিএনপিকে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীষর্ নেতাদের সাজা পাওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনায় পড়লেও জামায়াতকে ছাড়েনি বিএনপি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের রাজনীতির নানা মেরুকরণের বিবেচনায় জামায়াতকে এখনো সঙ্গী করে রেখেছে বিএনপির নেতৃত্ব।

২০ দলীয় জোট গঠনের দুই বছরের মাথায় ভাঙনের মুখে পড়ে। শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বাধীন এনপিপি জোট ছাড়েন। তবে এনপিপির সে সময়ের মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নিজেকে দলটির চেয়ারম্যান ঘোষণা করে জোটে সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন। একই অবস্থা তৈরি হয় এনডিপিকে নিয়ে। দলটির সেক্রেটারি আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে একটি অংশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও থেকে যায় চেয়ারম্যান গোলাম মুত্তর্জার নেতৃত্বাধীন অংশ। ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও আজহারুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে দলটির আরেক অংশ জোটের সঙ্গে থেকে যায়।

২০১৬ সালে জটিলতা তৈরি হয় ইসলামী ঐক্যজোটকে নিয়ে। জোটের চেয়ারম?্যান আবদুল লতিফ নেজামী জোট ছেড়ে যান। তবে ঐক্যজোটেই ভাঙন ধরে। ঐক্যজোটের সিনিয়র সহসভাপতি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাটির্র সভাপতি আবদুর রকিব নিজেকে ইসলামী ঐক্যজোটের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বলেন, ইসলামী ঐক্যজোট ২০ দলীয় জোটের সঙ্গেই আছে।

জোটের ভেতরে থাকা ছোট নামসবর্স্ব দলগুলোর ভেতর নানা দ্ব›েদ্ব জোট ভাঙার চেষ্টা হলেও শেষ পযর্ন্ত ও দলগুলোই ভেঙে গেছে। একটি অংশ শেষ পযর্ন্ত জোটের সঙ্গে থেকে গেছে।

সবশেষ গত ১৬ অক্টোবর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পকর্ ছিন্ন করে দিয়েছে ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির্ (ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পাটির্ (এনডিপি)। সেখানে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি জোটের শরিকদের কোনো রকম মূল্যায়ন করেনি।

বিএনপির আরেক চ্যালেঞ্জ আসন বণ্টন

নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের কারণে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে নীতিনিধার্রক ও জোটের নেতাদের মধ্যেও সংশয়ের তৈরি করেছে। জোটের নেতারা বলছেন, এই মুহূতের্ আসন ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলতে চান না তঁারা। তবে জোটের শরিকদের নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তৈরি আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিবার্চনের তফসিল ঘোষণা এবং নিবার্চনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের আগে তারা আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। এর ভেতরেও জোটের ভেতরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চিন্তা রয়ে গেছে। সম্প্রতি ন্যাপ ও এনডিপির জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ নিবার্চনে আসন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে নিবার্চন কমিশনে নিবন্ধিত দলগুলো হলোÑ বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির্ (বিজেপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির্ (জাগপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটির্ (এলডিপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির্, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। বাকি দলগুলোর নিবন্ধনই নেই। তাদের দলীয় সামথর্্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। এর বাইরে নিবন্ধিত কয়েকটি দলেরও সামথর্্য নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই নিবার্চনে গেলে জোটের পক্ষ থেকে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই জোটের প্রধান শরিক বিএনপির ওপর চাপ তৈরি করে ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তৎপর তারা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে