logo
  • Fri, 20 Jul, 2018

  ঢাবি প্রতিনিধি   ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
নিরাপদ ক্যাম্পাস ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীর্রা। মানববন্ধনে প্রায় ৬০০ শিক্ষাথীর্ অংশ নেন। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় Ñযাযাদি
নিরাপদ ক্যাম্পাস ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীর্রা। মানববন্ধনে প্রায় ছয়শ শিক্ষাথীর্ অংশ নেন। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষাথীর্রা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যেসব হামলা হয়েছে আমরা সব হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, শহীদ মিনারে একটি ছাত্র সংগঠন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর যে নৃশংস হামলা করেছে, তার বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনে শিক্ষাথীর্রা বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকাডর্ প্রদশর্ন করেন। যেখানে লেখা ছিল-‘হাতুড়ির জ্ঞান পেরেকের ওপর, ছাত্রের ওপর নয়’; ‘আমার ক্যাম্পাসে আমি নিরাপদ তো?’; ‘ছাত্রের দায় নেবেন না কেন?’; ‘ছাত্র হয়রানি বন্ধ কর’; ‘আমাদের ক্যাম্পাস আমাদের ঘর’; ‘এখানে কেন আমরা পর’ ইত্যাদি ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে শিক্ষাথীের্দর এই আন্দোলনকে সমথর্ন করে আসছি। কারণ এই আন্দোলন একটি যৌক্তিক আন্দোলন। কিন্তু আমরা তখনি শিক্ষাথীের্দর পাশে এসে দঁাড়িয়েছি, যখন কেবল শিক্ষাথীর্রা নিযার্তনের শিকার হচ্ছে। আজকে অনেক শিক্ষকের শিক্ষাথীের্দর পাশে এসে দঁাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু তারাও নানা ভয়ের কারণে আসতে পারছেন না। এখানে একটি বিষয় বলা দরকার, যারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিচার না করে উল্টো যারা নিযার্তন-নিপীড়ন ও হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এটা কেমন বিচার? আমরা ছাত্রদের মুক্তিরও দাবি করছি।’

মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘রাষ্ট্র যেভাবে হুকুম দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিক সেভাবেই কাজ করছে। যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সরকার বলছে যৌক্তিক, ঠিক তখনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বলছে যৌক্তিক। এটা কেমন প্রশাসন। শিক্ষাথীের্দর ওপর হামলার বিচার করতে প্রশাসন তৎপর নয়। তারা রাষ্ট্রের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত। যেসব শিক্ষাথীর্ আজ নিপীড়নের শিকার তারাই আবার রিমান্ডে নিযার্তন ভোগ করছে। আমরা গ্রেপ্তার সব শিক্ষাথীর্র নিঃশতর্ মুক্তির দাবি করছি।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন– গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, আন্তজাির্তক সম্পকর্ বিভাগের শিক্ষক তামজীম উদ্দিন খান, অথর্নীতি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ড. রুশাদ ফরিদীসহ আরও অনেকে।

মশিউরের মুক্তির দাবিতে

ক্লাসরুমে তালা

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহŸায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বষের্র ছাত্র মশিউর রহমানের মুক্তির দাবিতে ক্লাসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিভাগীয় শিক্ষাথীর্রা।

বুধবার ক্লাস শুরুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় তলার ক্লাসরুমে শিক্ষাথীর্রা তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষাথীর্রা জানিয়েছেন, মশিউরের মুক্তি না হওয়া পযর্ন্ত তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বজর্ন করবেন।

সকাল নয়টা থেকে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষাথীর্রা। বিভাগের দ্বিতীয় বষের্র ছাত্র ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহŸায়ক মশিউর রহমানের ওপর হামলার বিচার, মিথ্যা মামলায় আটক দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নিযার্তনের প্রতিবাদে এ কমর্সূচি পালন করছেন তারা। এ সময় তাদের বিভিন্ন ¯েøাগান দিতে দেখা যায়। ‘মশিউর জেলে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘মশিউরকে ক্লাসে ফিরিয়ে দাও, দিতে হবে বলে’ সেøাগান দিচ্ছেন তারা।

বিভাগের শিক্ষাথীর্ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মশিউরকে ছাত্রলীগ আটক করে তাকে নিযার্তন করে। তার কাছ থেকে জোরপূবর্ক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এরপর তাকে থানায় দেয়। এখন তাকে উপাচাযের্র বাসভবনে হামলার মামলায় রিমান্ডের নামে নিযার্তন করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। মশিউর ছাড়া আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বজর্ন করলাম। আমরা অবিলম্বে তার নিঃশতর্ মুক্তি চাই।’

কমর্সূচিতে বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ অনেকের। শিক্ষাথীর্রা বলেন, ‘ওই শিক্ষক কোটাধারী। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে এ আন্দোলনের বিপক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।’

গত বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বজের্নর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন বিভাগের শিক্ষাথীর্রা। শিক্ষাথীের্দর এ আন্দোলনে শিক্ষকদেরও সমথর্ন রয়েছে। জানা গেছে, তারাও মশিউরের মুক্তি চান।

আন্দোলন দমনের নিষেধাজ্ঞা

প্রত্যাহারের দাবি

আন্দোলন দমনের জন্য আরোপিত সব অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে তারা।

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির। তিনি বলেন, নানা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষণশীল করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। একই সঙ্গে হলগুলোতে শিক্ষাথীের্দর সভা সমাবেশ করার জন্য প্রভোস্টের অনুমতি নেয়ার যে সিদ্ধান্ত সেটিও বাতিল করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্র নিপীড়নের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে সারাদেশের মানুষ মিডিয়ার মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাথীের্দর নিপীড়নের খবর সম্পকের্ অবগত সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু জানে না, শোনেনি। এ ধরনের বক্তব্য শুধু দায়িত্বহীনতাই নয় তা সন্ত্রাসী হামলায় সহযোগিতার নামান্তর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহŸায়ক আলমগীর সুজনসহ অনেকে ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near 'WHERE news_id=3149' at line 3