logo
রোববার ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ৭ মাঘ ১৪২৫

  যাযাদি রিপোটর্   ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

প্রাথমিকের শিক্ষকরা হতাশায়, সঙ্গে ক্ষোভ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে ২০১৪ সালের ৯ মাচর্। কিন্তু এখন পযর্ন্ত তারা দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো আথির্ক সুবিধা পাচ্ছেন না। আথির্ক সুবিধা দূরের কথা, দীঘর্ প্রায় ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি। ২০০৯ সালের যে মামলার কারণে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ ছিল, ২০১৪ সালে তার সুরাহা হলেও চালু হয়নি পদোন্নতি। কারণ ওই বছরই প্রধান শিক্ষকের পদমযার্দা দ্বিতীয় শ্রেণি করায় প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পদোন্নতির দায়িত্ব চলে যায় বাংলাদেশ পাবলিক সাভির্স কমিশনের (পিএসসি) অধীনে। কিন্তু পিএসসির এ বিষয়ে নীতিমালা না থাকা এবং বিষয়টি দ্রæত সুরাহার উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষোভ হতাশায় নিমজ্জিত সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার প্রধান শিক্ষক।

প্রায় একদশক পযর্ন্ত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় ২০ হাজারেরও বেশি স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদ বছরের পর বছর শূন্য পড়ে থাকে। কোনো ধরনের আথির্ক সুবিধা ছাড়াই সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সবের্শষ গত বছর ২৩ মে ভারপ্রাপ্ত এসব প্রধান শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব পালনের নিদের্শ দিয়ে চিঠি দেয়া হয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু চিঠিতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রধান শিক্ষক পদের কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা তারা পাবেন না। সহকারী শিক্ষক হিসেবেই তারা যে বেতন ভাতা পান, তাই বজায় থাকবে। শুধু তাই নয়, পরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তারা কোনো ধরনের অগ্রাধিকার পাবেন না। চিঠিতে আরও জানানো হয়, নিধাির্রত তারিখের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত এসব প্রধান শিক্ষক বদলিকৃত স্কুলে যোগদান না করলে তাদের চাকরিও থাকবে না। ফলে চাকরি রক্ষাথের্ তারা নতুন স্কুলে যোগ দিতে বাধ্য হন।

কোনো ধরনের আথির্ক সুবিধা ছাড়া এবং বাধ্যতামূলক বদলিকরণের মাধ্যমে তাদের প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। তারপরও চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয় যে, অন্তত এর মাধ্যমে দীঘির্দন বন্ধ থাকা পদোন্নতির জট খুলবে।

কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা জেনেছি যখন থেকে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তখন থেকে আমাদের মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা করে বকেয়া বিল দেয়া হবে। তা ছাড়া আমাদেরকে নিয়মিত করারও কাযর্ক্রম শুরু হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও বতর্মান উপদেষ্টা আবুল বাশার বলেন, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান তাদের এ বিষয়ে জানিয়েছেন গত বছর।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা একসময় ছিলেন তৃতীয় শ্রেণীর কমর্চারী। সামাজিকভাবে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যথেষ্ট সম্মানের অধিকারী হলেও চাকরির প্রটোকলে তিনি ছিলেন একজন তৃতীয় শ্রেণির কমর্চারী। বিষয়টি শিক্ষকদের কাছে ছিল খুবই বেদনার। যেকোনো সরকারি অফিসের তৃতীয় শ্রেণির একজন কমর্চারীর চেয়ে অনেক বেশি এবং গুরুত্বপূণর্ দাপ্তরিক এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন প্রধান শিক্ষককে। কিন্তু তা সত্তে¡ও প্রধান শিক্ষকের পদটি তৃতীয় শ্রেণির হওয়ায় দীঘির্দন এ নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন হাজার হাজার শিক্ষক। দীঘর্ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে তাদের পদমযার্দা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও আবার দীঘির্দনের জন্য চাপা পড়ে যায় বিষয়টি।

অবশেষে ২০১৪ সালে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমযার্দা দেয়া হয়। কিন্তু এখনো তারা শুধু নামেই দ্বিতীয় শ্রেণির পদমযার্দার অধিকারী। বতর্মানে দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কমর্চারীরা বেতন পান দশম গ্রেডে। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। বিষয়টি শিক্ষকদের কাছে এতই বেদনার যে, সম্প্রতি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীণর্ কয়েক হাজার প্রাথীের্ক থানা প্রাথমিক শিক্ষা কমর্কতার্, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দ্বিতীয় শ্রেণির কিছু পদের জন্য নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে যারা প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তারা ছাড়া অন্যরা দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। ফলে ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে শিক্ষকদের মধ্যে।

বতর্মানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫ ভাগ শূন্যপদ পূরণ করার নিয়ম সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। বাকি ৩৫ ভাগ পদ পূরণ করা হয় সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের দীঘির্দনের জটিলতার কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছর ২৩ মে থেকে সহকারী শিক্ষক যারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে চিঠি দেয়া শুরু করে। ২৩ মের আগ পযর্ন্ত পুরনো ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০ হাজারের কিছু বেশি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল। এর মধ্যে ১৬ হাজারের বেশি পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে