logo
মঙ্গলবার ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

বেড়াতে বের হয়ে ওদের আর ফেরা হলো না

বেড়াতে বের হয়ে ওদের আর ফেরা হলো না
নতুন কেনা গাড়ি নিয়ে বেড়াতে বের হয়ে আর ফেরা হলো না ৫ বন্ধুর। খুলনার রূপসা ব্রিজ এলাকায় রোববার রাতে সড়ক দুঘর্টনায় নিহত হন তারা। নিহত সবার বাড়ি গোপালগঞ্জ। তারা স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।

রোববার সদর থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি সাদিকুল আলমের সদ্য কেনা প্রাইভেট কারে খুলনায় বেড়াতে যান পঁাচ বন্ধু। রাত পৌনে ১২টার দিকে খুলনা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ফেরার পথে রূপসা ব্রিজের কাছে লবণচরা হরিণটানা এলাকায় পেঁৗছালে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির মুখোমুখি সংঘষর্ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পঁাচ বন্ধু। সাদিকুলই ছিলেন চালকের আসনে।

নিহত পঁাচজন হলেন সদর উপজেলার সবুজবাগের ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে গোপালগঞ্জর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক বাবু (২৬), সদর উপজেলার সবুজবাগের মৃত আলাউদ্দিন সিকদারের ছেলে ও সদর থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি সাদিকুল আলম (৩২), থানাপাড়ার গাজী মিজানুর রহমান হিটুর ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের ছাত্র উপবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক গাজী ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসব (২৫), গেটপাড়ার রসুলপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ (২৪), চঁাদমারি রোডে অহিদ গাজীর ছেলে ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অনিমুল ইসলাম (২৪)। সাদিকুল ছাড়া সবাই স্থানীয় কলেজের শিক্ষাথীর্ ছিলেন।

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পঁাচ নেতার লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পঁাচ নেতার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। সোমবার বাদ জোহর গোপালগঞ্জ শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে নিহত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের জানাজা শেষে তাদের শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শহরের থানাপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দুঘর্টনায় নিহত গাজী ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসবের বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় গোটা পরিবার। উৎসব জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গাজী মিজানুর রহমানের ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার গাজী হাফিজুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, ‘এই মমাির্ন্তক মৃত্যু গোপালগঞ্জবাসীকে মমার্হত করেছে। এই মৃত্যুতে গোপালগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে পঁাচটি ছেলে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, তাদের সোনালি স্বপ্ন ছিল। তাদের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ পঁাচজন ভবিষ্যৎ মেধাবী নেতা হারাল।’

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কমর্কতার্ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পঁাচ বন্ধু একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে খুলনায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। গাড়িটি খুলনা মহানগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে গোপালগঞ্জ ফেরার পথে দুঘর্টনার শিকার হয়। তিনি বলেন, খেজুরবাগান অতিক্রম করার সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গাড়ির সামনে এসে পড়ে। তাকে বঁাচাতে গিয়ে মোংলা থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়িটির সংঘষর্ হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে