logo
বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোটর্   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

ডাকসু নিবার্চন

ছাত্রলীগের আশ্বাসে আস্থা নেই অন্যদের

ছাত্রলীগের আশ্বাসে আস্থা নেই অন্যদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নিবার্চন সফল করতে শতর্হীন সহযোগিতা ও উদারতা দেখানোর আশ্বাস দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। তাদের এ আশ্বাসে অনাস্থা জানিয়েছে বিরোধী সব ছাত্রসংগঠন। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীনদের এ আশ্বাস ‘লোক দেখানো’।

সোমবার ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব ছাত্রসংগঠনের প্রতি শতর্হীন সহযোগিতার আশ্বাস জানিয়ে ডাকসু নিবার্চনে তাদের অংশগ্রহণের আহŸান জানানো হয়।

বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন জোটের আশ্বাসে আস্থা রাখতে না পারলেও একে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘যেহেতু তারা এ ধরনের একটি আশ্বাস দিয়েছে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে তাদের সহাবস্থান ও সহযোগিতার আশ্বাস সাধারণত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। কয়েক দিন আগেও ক্যাম্পাসে আমাদের এক নেতার ওপর তঁারা হামলা চালিয়েছে। তাই এ ধরনের আশ্বাসে আস্থা রাখা যাচ্ছে না।’

বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো বলছে, ছাত্রলীগ ও তাদের মিত্রদের এ আশ্বাস ‘লোক দেখানো’। পঁাচটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের মোচার্

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ডাকসু নিবার্চন সামনে রেখে ছাত্রলীগ তাদের গত ১০ বছরের ছাত্রস্বাথির্বরোধী কমর্কাÐকে ধামাচাপা দিতে এ ধরনের লোক দেখানো আশ্বাস দিচ্ছে। হলগুলোয় তাদের দখলদারি এখনো বজায় আছে। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতিও বহাল আছে। এ অবস্থায় এই ধরনের আশ্বাস স্রেফ লোক দেখানো বুলি ছাড়া কিছু নয়।’

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘শতর্হীন সহযোগিতার এ আশ্বাস স্রেফ লোক দেখানো। যদি তা না হতো, তাহলে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সঙ্গে তারাও একমত পোষণ করত। আমরা হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র এবং নিবার্চনী প্রচারণায় ক্লাস ক্যাম্পেইনের সুযোগ দাবি করেছি। দুটি দাবিই যৌক্তিক। কিন্তু ছাত্রলীগই এর বিরোধিতা করেছে। ফলে, তাদের এসব কথা আসলে বলার জন্য বলা। এতে আস্থা রাখারও কিছু নেই।’

গত সোমবার সকালে দীঘর্ ২৮ বছর পর হতে যাওয়া ডাকসু ও হল সংসদ নিবার্চনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ডাকসুর সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি মেনে হবে নিবার্চন। বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার দাবি থাকলেও ভোটকেন্দ্র হচ্ছে হলেই।

তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে ওইদিন বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে ছাত্রদল, বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর দুই মোচার্ প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য এবং নিবার্চনে অংশগ্রহণে আগ্রহী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র ও সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা

সাধারণ শিক্ষাথীের্দর

এদিকে ডাকসু নিবার্চনে তফসিল ঘোষণার পর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষাথীের্দর মুখে মুখে নিবার্চনের আলাপ। কী হবে বা হতে যাচ্ছে- এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়ে দিয়েছেন, নিবার্চনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষাথীর্রাও প্রত্যাশা করছেন সুন্দর ও নিবির্ঘœ নিবার্চনের।

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে একসঙ্গে বেশ কিছু শিক্ষাথীর্ আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে ডাকসু নিবার্চনের ভাবনা নিয়ে। প্রায় সব শিক্ষাথীর্ই সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা করেন। বলেন শিক্ষাথীর্বান্ধব প্রাথীর্র পক্ষে তাদের অবস্থানের কথাও।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বষের্র শিক্ষাথীর্ নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৯০ এরপর ২০১৯ সালে এসে নিবার্চন হচ্ছে। তাই প্রত্যাশা অনেক। তবে সাধারণ ছাত্রদের কথা ভাববে এমন নেতৃত্বই চাই ডাকসুতে, যারা দল-মত নিবিের্শষে আধিকার আদায়ে শিক্ষাথীের্দর পক্ষে থাকবেন’।

ইংরেজি বিভাগের অমিত কুমার বিশ্বাস অবশ্য ভোটটাই ভালোয় ভালোয় হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশায় বুক বঁাধছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও তফসিল ঘোষণা করে নিবার্চন হয়নি। তো নিবার্চন না হওয়া পযর্ন্ত আসলে কিছু বলতে পারছি না। তবে প্রত্যাশা করছি সুন্দর নিবার্চন হবে’।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষাথীর্ নুসরাত আকতার ভাবছেন ভিন্নভাবে। তিনি বলছেন, ‘চলমান রাজনীতি একটি বড় ভূমিকা রাখবে ডাকসুতে। নিবার্চন সুষ্ঠু হলে সবাই ব্যক্তি ইমেজ ও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করবে এবং সেভাবেই ভোট দেবে’।

একই রকম ভাবনা আন্তজাির্তক সম্পকর্ বিভাগের শিক্ষাথীর্ আকবর হোসেনের। তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে চাই, জানি না দিতে পারব কি-না। একাডেমিক ভবনগুলোতে কেন্দ্র হলে ভালো হতো। নিবার্চন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বুঝতে পারব।’
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে