logo
সোমবার ২০ মে, ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০  

কৌশল পাল্টাচ্ছে দুদক

কৌশল পাল্টাচ্ছে দুদক
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল থেকে কঠোরতা অবলম্বনের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করে রাঘব বোয়ালদের চাপে ফেলে জালে জড়াতে চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্য ?পূরণে এরইমধ্যে কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতি দমনে করণীয় ঠিক করতে এরইমধ্যে বিভিন্ন গ্রম্নপের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে দুদক। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরুণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকগুলোতে উঠে এসেছে নানা মতামত ও দুর্নীতি প্রতিরোধের পরামর্শ। সেসব রেকর্ড করে পর্যালোচনা কৌশল চূড়ান্ত করছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।

দুদক বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের মান যদি বিশ্বমানের হতো তাহলে হয়তো সাজার হার শতভাগে উন্নীত হতো। তাই কমিশন নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংস্থার চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি একটি গভার্নেন্স ইসু্য এবং এর নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত জটিল। দেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদ, আমলা, সুশীল সমাজ, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, এনজিও, ব্যবসায়ীসহ সবার সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিজস্ব সক্ষমতা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই বর্তমান কমিশন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং কর্মপ্রক্রিয়ায় ব্যক্তির ভূমিকাকে গৌণ করে পদ্ধতিগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার আগেও দুর্নীতি দমনে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। তারপরও কেন কমিশন করা হলো? মূলত দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে উন্নত কর্মকৌশল প্রয়োগ করে সমন্বিত এবং পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা এবং সমাজের সর্বস্তরে প্রবহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বর্তমান কমিশন সবচেয়ে বড় সংস্কার করেছে অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্রেডিং সিস্টেম প্রবর্তন করে। এখন কমিশনের যে কেউ ইচ্ছা করলেই নির্ধারিত নম্বরের কম পেলে, অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করতে পারবেন না। একইভাবে সম্পদ পুনরুদ্ধার ইউনিট, গোয়েন্দা ইউনিট, সশস্ত্র ইউনিট, হাজতখানা ইত্যাদি সৃষ্টি করে কমিশনের প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের তদন্তের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য কর্মকর্তাদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কমিশনের মামলায় সাজার হার বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি উন্নীত হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং জনহয়রানি লাঘবের লক্ষ্যে কমিশন ২৮টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে কমিশন প্রণীত বেশকিছু সুপারিশ সরকার বাস্তবায়নও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া শুধু মামলা-মোকদ্দমা করে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণশুনানির আয়োজন করছে। এতে স্থানীয় সরকারি সেবাপ্রত্যাশী জনগণ এবং সেবাপ্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে। জনগণের ক্ষমতায়ন হচ্ছে।

'প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা অনুধাবন করছেন জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। এতে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠ উচ্চকিত হচ্ছে। যা দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশংসিত হচ্ছে।

দুদক বলছে, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জন করে তাদের সঙ্গে নিয়েই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চায় সংস্থাটি। এলক্ষ্যে এরই মধ্যে সাবেক ও বর্তমান মিলে ১০০-রও বেশি সংসদ সদস্যকে তলবের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, আয়কর ফাঁকি, অর্থপাচার, নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা উপাস্থাপনসহ নানা অভিযোগে তাদের তলব করা হচ্ছে। এরইমধ্যে সাবেক ও বর্তমান কয়েকজনকে তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে নদী খননে অনিয়ম, নদী-খাল ভরাট, বনভূমি দখল, অবৈধ ইটভাটা, খাসজমি দখল, স্কুলে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিসহ নানা বিষয়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

একই সঙ্গে সরকারি সেবা সংস্থাগুলো, পিডিবি, ডিপিডিসি, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, পলস্নী বিদু্যৎসহ অন্যান্য সংস্থায় অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ কেন্দ্র ও হটলাইনে (১০৬) পাওয়া অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে