logo
শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ২২ মে ২০১৯, ০০:০০  

ইসলামি আইনে ধর্ষণের সাজা

ইসলামি আইনে ধর্ষণের সাজা
ইসলামি আইন শাস্ত্রে ধর্ষকের শাস্তি ব্যভিচারকারীর শাস্তির অনুরূপ। আর ব্যভিচার সুস্পষ্ট হারাম এবং শিরক ও হত্যার পর বৃহত্তম অপরাধ। কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, 'আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।' সুরা আল ইসরা: ৩২

হাদিস দ্বারা ধর্ষণের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। যেমন- ১. হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুলস্নাহ (সা.)-এর যুগে এক মহিলাকে ধর্ষণ করা হলে হজরত রাসূলুলস্নাহ (সা.) ধর্ষিতাকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে কুরআন-হাদিস অনুযায়ী সুনির্ধারিত শাস্তি দেন।' -ইবনে মাজাহ: ২৫৯৮

ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। ব্যভিচারী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে মৃতু্যদন্ড কার্যকর করার নির্দেশনা রয়েছে। আর যদি অবিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে একশ' দোররা মারার কথা বলা হয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই শাস্তি।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ' করে বেত্রাঘাত করো। আলস্নাহর বিধান কার্যকর করণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আলস্নাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।' সুরা নুর: ২

এদিকে ধর্ষণের ক্ষেত্রে একপক্ষে ব্যভিচার সংঘটিত হয়। আর অন্যপক্ষ হয় নির্যাতিত। তাই নির্যাতিতের কোনো শাস্তি নেই।

কেবল অত্যাচারী ধর্ষকের শাস্তি হবে।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় সংঘটিত হয়। ১. ব্যভিচার, ২. বলপ্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন। প্রথমটির জন্য পূর্বোক্ত ব্যভিচারের শাস্তি পাবে। পরেরটির জন্য ইসলামি আইনজ্ঞদের এক অংশ বলেন, মুহারাবার শাস্তি হবে। মুহারাবা হলো পথে কিংবা অন্যত্র অস্ত্র দেখিয়ে বা অস্ত্র ছাড়া ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি করা। এতে কেবল সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে, আবার কেবল হত্যা করা হতে পারে। আবার দুটোই হতে পারে।

আর মুহারাবার শাস্তি আলস্নাহতায়ালা এভাবে উলেস্নখ করেছেন, 'যারা আলস্নাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো- তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।' সুরা মায়িদা: ৩৩

এদিকে ব্যভিচার প্রমাণের জন্য ইসলামে দুটোর যে কোনোটি জরুরি। প্রথমত. ৪ জন সাক্ষী, দ্বিতীয়ত. ধর্ষকের স্বীকারোক্তি।

হাদিসে এসেছে- একবার বনি আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি হজরত আবু বকর রাদিয়ালস্নাহু আনহুর নিকট এসে বলল, আমি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। আবু বকর রাদিয়ালস্নাহু আনহু জিজ্ঞাস করলেন, তুমি এ কথা আর কাউকে বলেছ? সে উত্তর দিল না। তখন আবু বকর রাদিয়ালস্নাহু আনহু বললেন, তুমি আলস্নাহর কাছে মাফ চাও এবং গোপনীয়তা রক্ষা করো। আলস্নাহ তোমার দোষ গোপন রাখবেন এবং তোমার তওবা কবুল করবেন। এ কথায় আশ্বস্ত না হয়ে সে হজরত ওমর রাদিয়ালস্নাহু আনহুর নিকট গেলেন এবং পূর্বের মতো বললেন। ওমর রাদিয়ালস্নাহু আনহু তাকে আবু রাদিয়ালস্নাহু আনহুর মতো বললেন। কিন্তু সে কিছুতেই আশ্বস্ত হতে পারল না।

অগত্যা সে রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামের নিকট এসে বলল, আমার দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হয়েছে। রাসুল মুখ ফিরিয়ে নিলেন। যখন সে তার কথার ওপর জিদ ধরে রইল, তখন রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম তার পরিবারের লোকদের ডাকলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, ?এ কি পাগল? এখনো কি পাগলামি করছে? তারা উত্তর দিল না, হে আলস্নাহর রাসুল!, সে সম্পূর্ণ সুস্থ। রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহত না অবিবাহিত? সে উত্তর দিল, আমি বিবাহিত। তখন রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃতু্যদন্ড (রজম) দিলেন।' (মুয়াত্তা)

এক মহিলা সাহাবি রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামের নিকট এসে বললেন, আমি জিনা (ব্যভিচার) করেছি। জিনার কারণে গর্ভবতী হয়েছি। রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম তাকে বললেন, তুমি চলে যাও। সন্তান হলে এবং তার দুধ পান করানোর সময় অতিবাহিত হলে এসো। যখন তার সন্তানের দুধ পানের মেয়াদ শেষ হলো, তখন সে রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামের দরবারে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, তোমার এ সন্তানকে কারও দায়িত্বে দিয়ে দাও। যখন সে সন্তানকে অন্য একজনের দায়িত্বে রেখে এলো, তখন তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দেয়া হলো। তার জন্য বুকসমান গভীর এক গর্ত খোঁড়া হলো এবং তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো। তারপর রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম তার জানাজার নামাজ পড়ালেন।

হজরত ওমর আরজ করলেন, হে আলস্নাহর রাসুল! আপনি তার জানাজা নামাজ পড়ালেন? এ তো ব্যভিচারিণী। তিনি বললেন, এ মহিলা এমন তওবা করেছে তা যদি পৃথিবীবাসীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় তবে তা সবার জন্য যথেষ্ট হবে। এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে যে, সে (আলস্নাহর ভয়ে) নিজের জীবন দিয়ে দিল। (মুয়াত্তা) নাসাঈ'র হাদিসে এসেছে, রাসুল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম তাকে পাথর নিক্ষেপ করতে এলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সজোরে একটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। তখন তিনি গাধার ওপর সওয়ার ছিলেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে