logo
রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

মিন্নির পক্ষে লড়বেন দেড়শ' আইনজীবী

আত্মহত্যার হুমকি মোজাম্মেল হকের

মিন্নির পক্ষে লড়বেন দেড়শ' আইনজীবী

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে আইনি লড়াই করবেন দেড়শ আইনজীবী। শনিবার একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে। মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে প্রথমেই ঘোষণা দিয়েছেন ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। তিনিসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির ৪০ জন আইনজীবী ঢাকা থেকে বরগুনা আদালতে শুনানির জন্য যাবেন। এছাড়া অন্যান্য সংস্থার আইনজীবীরাও যাবেন বলে জানা গেছে। মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (বস্নাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নিজেরা করি, এএলআরডিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও প্রায় একশ আইনজীবী বরগুনায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বস্নাস্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেডআই খান পান্না জানান, মিন্নিকে আইনি সহায়তার জন্য তার সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রায় শতাধিক আইনজীবী বরগুনায় যাবেন। জেডআই খান পান্না বলেন, 'এরই মধ্যে আমাদের আইনজীবীরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।' তিনি বলেন, 'একজন স্বঘোষিত ঘুষ দাতা ডিআইজি মিজানকে জেলেগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিতে পারেন। অথচ ২০-২২ বছরের একটি মেয়েকে রিমান্ডের জন্য থানায় দিয়ে দিলেন আদালত। কীভাবে সম্ভব হলো। তদন্তের নামে যা খুশি তাই তো হতে পারে না।' মিন্নিকে থানায় রিমান্ডে দেয়া অবশ্যই ভুল হয়েছে বলেও উলেস্নখ করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বলতে পারতেন। মিন্নির মামলার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'প্রয়োজনে মামলাটি হাইকোর্টে নিয়ে আসব। এর সঙ্গে জড়িত সকলকে তলব করাব।' আরেক আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, 'ঢাকা থেকে আমরা ৪০ জন আইনজীবী বরগুনায় যাব। এখন যেহেতু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি হয়ে গেছে। এ মামলার পরবর্তী তারিখ ৩১ জুলাই। ওই দিন আমরা যাব।' তিনি বলেন, 'যেহেতু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি হয়ে গেছে। তাকে তো কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন গিয়ে তো লাভ হবে না। এ কারণে ৩১ জুলাই যাব।' মিন্নির বাবার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তড়িঘড়ি করে মিন্নির জবানবন্দি নেয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'মিন্নির দেয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে ৩১ জুলাই আদালতে আবেদন করব।' এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে ছিলেন মিন্নি। তিন দিন রিমান্ডে থাকার পর শুক্রবার আদালত মিন্নির জবানবন্দি নেয়। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসী নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিন্নি আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উলেস্নখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মিন্নি ছিলেন এই মামলার প্রধান সাক্ষী। রিফাত হত্যা মামলায় নয়ন বন্ড গ্রেপ্তার হলেও পরে 'বন্দুকযুদ্ধে' তার মৃতু্য হয়। গত ১৩ জুলাই রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রিফাতকে হত্যায় পুত্রবধূ মিন্নির হাত রয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান রিফাতের বাবা। এর তিন দিনের মাথায় মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ জুন বরগুনা পুলিশ লাইনে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানায় রিফাত হত্যাকান্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে। মিন্নির বাবার হুমকি এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেছেন, 'দেশবাসী শুনে রাখেন, আমার মেয়ের কিছু হলে আমি আত্মহত্যা করমু। আমার মেয়েকে চাপ দিয়ে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। মিন্নি নির্দোষ, রিফাত হত্যার পেছনে শুরু হয়েছে নোংরা রাজনীতি। প্রশাসনের লোকেরা শোনেন, আপনারা সঠিক তদন্ত করেন তাহলে রিফাত হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।' শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, 'সারাদেশের মানুষ দেখেছেন আমার মেয়ে কীভাবে তার স্বামীকে রক্ষার জন্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল আমার মেয়েকে ফাঁসিয়ে খুনিদের আড়াল করতে চাইছে।' তবে বরগুনা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন জানান, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে জোর-জবরদস্তির কিছু নেই। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিন্নি। এছাড়া মামলায় আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন পুলিশের নজরে রয়েছে।



 





রিফাত ফরাজীর

 জবানবন্দি



রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আরেক আসামি রিফাত ফরাজী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ৪টার দিকে রিফাত ফরাজীকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জবানবন্দি নেয়া শেষ হয়।

রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তারের পর তিন দফায় ২১ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

এ মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৪ জন রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় শনিবার পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত সাতজনসহ ১৫ জনকে জীবিত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের মৃত্যু হয়েছে।

এখনো মামলার ৩ নম্বর আসামি রিশান ফরাজী রিমান্ডে রয়েছেন।



 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে