logo
মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬

  বিশেষ সংবাদদাতা   ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করতে না পারলে ব্যবস্থা

সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নাঈমুল আবরারের অপমৃতু্যর ঘটনায় প্রথম আলোর গাফিলতি ছিল

জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করতে না পারলে ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু -ফোকাস বাংলা
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) বা প্রশাসনবিরোধী চলমান আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। তা না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা নাই বার্তা নাই ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। তার স্পষ্ট কথা, যারা দুনীতির অভিযোগ আনছে তাদেরই কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং তথ্য দিতে হবে। তারা যদি প্রমাণ করতে পারে নিশ্চয়ই তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত অসুস্থ-অসচ্ছল, দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান করা হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী রেসিডেন্সিয়াল

\হমডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের অপমৃতু্যর ঘটনায় প্রথম আলোর গাফিলতি ছিল মন্তব্য করে বলেন, প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কীভাবে ঘটায়? তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই? যারা অনুষ্ঠান আয়োজন করে, তাদের একটা দায়িত্ব থাকে। বাচ্চাটা মারা গেছে, এরপরও ঘটনাটা চাপা দিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। আয়োজকরা এটাকে নেগলেক্ট করেছে। ধানমন্ডিতে এতগুলো হাসপাতাল, তবুও তাকে মহাখালীতে নিয়ে গেল। ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে পড়াশোনা করছে। তাদের নিরাপত্তা না দেখা তো গর্হিত অপরাধ। এটা তো বরদাশত করা যায় না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযোগকারীদের দুর্নীতি প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি হবার কথা, অভিযোগকারীকেও সেই সাজা পেতে হবে। সেই ব্যবস্থা তারা কিন্তু নেবেন। ওই টাকা নিয়ে কোথায় রাখা হলো, খুঁজে বের করতে হবে। মুখে বললে তো হবে না। সুনির্দিষ্টভাবে তারা জানে বলেই তো অভিযোগ করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে যখন জানে তখন যে অভিযোগটা করবে তাকেই প্রমাণ দিতে হবে। আর প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযোগকারীর শাস্তি হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, জাহাঙ্গীরনগরে যারা অভিযোগ আনছে, যারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তৃতা দিচ্ছে তাদের ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দিনের পর দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ?উন্নয়নকাজ শুরু হলেই আন্দোলন কেন? লক্ষণীয় হলো যখন উন্নয়নের কোনো কাজ দেওয়া হয়, যখনই সেখানে একটা প্রজেক্ট দেয়া হয়, তখনই এই আন্দোলন ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কেন? তাহলে যারা আন্দোলন করেন তাদেরও ভাগ-বাঁটোয়ারার ব্যাপার আছে, নাকি ভাগে কম পড়ছে, তার প্রশ্ন সেখানেও আছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি জানি আমি খুব রূঢ় হচ্ছি কিন্তু বাস্তবে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, এটা কী ধরনের কথা? হয়তো প্রজেক্ট পাস হয়ে গেছে, কিন্তু টাকা ছাড় হয়নি। তার আগেই দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন, কী কারণে? কার ভাগে কম পড়ল যে এই আন্দোলন?'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের সমালোচনা করে বলেন, এভাবে ছেলেমেয়েদের জীবন নষ্ট করার কি অধিকার আছে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে, অভিযোগ থাকলে বলুক আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু একজনকে ভিসি বানানো হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর এর সঙ্গে একদল শিক্ষকও জড়িত। আরও কিছু কিছু আছে, এটাকে আরও উসকানি দেয়। শিক্ষকরা ছাত্রদের ব্যবহার করে এটা কোন ধরনের কথা? এখানে কি কোনো ডিসিপ্নিন থাকবে না? কোনো আইন থাকবে না? আইন প্রয়োগ হবে না? এই বিষয়গুলো মনে হয় একটু দেখা দরকার।

অভিযোগকারীদের প্রসঙ্গ উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারবে না। দুর্নীতি দুর্নীতি করে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে। ক্লাস চলতে দেবে না, ইউনিভার্সিটি চলতে দেবে না। আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুর, এটাও তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।

ছাত্র-শিক্ষকরা এই ধরনের কর্মকান্ড কেন ঘটাবে প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রত্যেকটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা তারা খরচ করে তাদের পড়ার জন্য? খরচ তো সরকারের পক্ষ থেকে করেন। স্বায়ত্তশাসন তাদের আছে। কিন্তু প্রতি বছর বাজেটে তারা টাকা দেন। বাজেটে তারা টাকা দেবেন আর সরকার সেখানে কিছুই করতে পারবে না, আর এভাবে দিনের পর দিন তারা ক্লাস বন্ধ করে থাকবে এটা হয় না। দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা ইউনিভার্সিটিতে থাকবে কেন? এ ধরনের কাজ যারা করবে সাথে সাথে তাদের এক্সপেল করে দেওয়া উচিত। তারা কিসের জন্য এভাবে করবে?

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পরও বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, বুয়েটের সমস্যাটা কি সেটা তো বুঝতে পারছেন না। তারা সবই করেছেন। তারপরও এই আন্দোলন কিসের জন্য? বুয়েটে আবরার হত্যা ঘটল, তারা সাথে সাথে তার ব্যবস্থা নিয়েছেন। সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছাত্ররা আন্দোলনের আগেই যখন খবর এসেছে তখনই কিন্তু তারা অ্যাকশন নিয়েছেন। এখন তাহলে আন্দোলন কিসের জন্য?

এ সময় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোলস্না জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) চেয়ারম্যান আবেদ খান, মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তথ্য সচিব মো. আবদুল মালেক।

উলেস্নখ্য অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ আন্দোলন করছে। মূলত গত প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা উপায়ে উপাচার্যবিরোধী প্রচারণা ও আন্দোলন চলছে।

অন্যদিকে ১ নভেম্বর বিকালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে দৈনিক প্রথম আলোর মাসিক পত্রিকা 'কিশোর আলো'র অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাঈমুল আবরার মারা যায়। ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে