logo
শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  মো. বাহারুল ইসলাম মোলস্না ও মো. শাহ আলম কসবা থেকে ফিরে   ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

আহত শতাধিক, ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন, তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী চালক বরখাস্ত

দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬

দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬
সোমবার রাত পৌনে তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবিতে দুর্ঘটনায় কবলিত ট্রেনকে ঘিরে মানুষের ভিড় -ফোকাস বাংলা
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত এবং শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ কুমিলস্নার সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে চান্দখোলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাত পৌনে তিনটা থেকে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বগি অপসারণের পর বেলা পৌনে ১১টায় রেল চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাজারগাঁওয়ের আবদুল জলিলের ছেলে মজিবুর রহমান-(৫৫), একই জেলার মাইনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী (৩২), হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বুলস্না গ্রামের ইয়াছির আরাফাত (১২), হবিগঞ্জ জেলার গোয়াইনঘাট এলাকার রিপন মিয়া (২২), অজ্ঞাতনামা মহিলা (৪১), হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার তিরেরগাঁওয়ের মৃত আবদুল হাশেমের ছেলে সুজন আহমেদ (২৪), মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার গাজীপুরের মুসলিম মিয়ার স্ত্রী জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাজার গাঁওয়ের মুজিবুর রহমানের স্ত্রী কুলসুম বেগম (৩০), হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মদনমোড়ক গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে মো. আলআমিন (৩০), হবিগঞ্জ জেলার পৌর এলাকার আলী মোহাম্মদ ইউছুফ (৩২), চাঁদপুর জেলার বিলস্নাল মিয়ার স্ত্রী ফারজানা বেগম (৪১), বানিয়াচংয়ের সোহেল মিয়ার কন্যা আদিবা (২), হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট এলাকার আবদুস সালামের স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৪৮), নোয়াখালী জেলার মাইজদির শংকর হরিজনের ছেলে রনি হরিজন (৩৫) হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বড়বাজার এলাকার সোহেল মিয়ার শিশুকন্যা সোহা মনি (৪) ও চাঁদপুর জেলার জাহাঙ্গীরের কন্যা মরিয়ম বেগম (৪)।

মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, সিলেট থেকে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে ঢুকছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে আউটারে থাকার সিগন্যাল দেয়া হয়। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে মূল লাইনে ঢুকে পড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের তিনটি বগিতে ধাক্কা দেয়। এতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রেন দুর্ঘটনার সাথে সাথেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, তূর্ণার চালক তথা লোকো মাস্টারকে ট্রেন থামানোর জন্য আউটার ও হোম দুই স্থানেই লাল বাতি সংকেত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক ট্রেন দাঁড় করাননি বলেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় বিকট শব্দে ও যাত্রীদের আহাজারি শুনতে পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ,র্ যাব ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাতে থাকেন।

তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুল আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধারকাজ তদারকি শুরু করেন।

সকাল ১০টায় রেলওয়ে মন্ত্রাণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন এবং সকাল সাড়ে ১০টায় রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী চান্দখলা গ্রামের আবু তাহের জানান, 'ঘুমে ছিলাম। বিকট শব্দে আমার বিল্ডিং কেঁপে উঠে। আমিসহ এলাকাবাসী দ্রম্নত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করি। ৭টি পিকআপ ভ্যানে করে হতাহতদের হাসপাতালে পাঠাই। অনেকেরই হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।' একই গ্রামের জহির মিয়া জানান, 'ঘুম থেকে লোকজনের আহাজারি শুনে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নিই। ঘটনার ভয়াবহতা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।'

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রায় দুইশত ফুট রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদয়ন ট্রেনের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এর মধ্যে দুটি বগির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এদিকে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ে মন্ত্রণায়ল থেকে একটি, রেলপথ বিভাগ থেকে তিনটি এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রেলমন্ত্রী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তৃর্ণা নিশীথার চালকের সিগন্যাল অমান্য করার জন্যই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পৃথক পাঁটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে এবং আহত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিগুলোকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি সিগন্যাল অমান্য করে লাইনে ঢুকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ধাক্কা দিয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আহতের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শামসুজ্জামান বলেছেন, নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ কুমিলস্নার সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৪১ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে শুভ (৪৫), জেলার আখাউড়া উপজেলার গোলখার গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে বোরহান (১৭), চাঁদপুর জেলার তিরাশি গ্রামের মঈন উদ্দিনের কন্যা মহিমা (৪), সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার ফুল মিয়ার ছেলে রুবেল (৩৫), হবিগঞ্জ জেলার বুলস্না গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে আলমগীর (৪০), হবিগঞ্জ জেলার বুলস্না গ্রামের আদম আলীর ছেলে মুখলেছ (৪৩), কুমিলস্না জেলার দাউদকান্দি উপজেলার আব্দুল হাশেমের ছেলে বোরহান (৪০), সিলেট জেলার নবীনগঞ্জ উপজেলার আতিক মিয়ার কন্যা আফসা (১৪), এই এলাকার আনোয়ার হোসেনের কন্যা আসমা (২৪), হবিগঞ্জ জেলার বানিয়ারা গ্রামের আলফু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৩২), সিলেট জেলার আনোয়ার হোসেনের ছেলে রাহুল (১), হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজন (২৮), একই এলাকার মনির (৪০), মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মুসলিম মিয়ার ছেলে ইমন (১৮), হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সাধন রায়ের ছেলে সুব্রত রায় (৪৫), হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার চুনু মিয়ার কন্যা আনোয়ারা (৩৩), একই এলাকার মঈন উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার দত্তখলা গ্রামের আমান মিয়ার কন্যা বৃষ্টি (১৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাকাইল গ্রামের মুরতুজ আলীর ছেলে সাহাবউদ্দিন (৫০), হবিগঞ্জ জেলার সৈয়দপুর গ্রামের কেজু মিয়ার ছেলে রায়হান (২০), সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার আসরফ আলীর ছেলে আক্তার আলী (৬০), নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মাইদুলস্নার ছেলে সৈকত (৩৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার নোয়াব মিয়ার ছেলে লিটন (৪২), নোয়াখালী জেলার সোনাপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে অলিউলস্নাহ (৩৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার জহিরুল ইসলামের কন্যা মিতু (২৫), আখাউড়া উপজেলার আবুল হোসেনের কন্যা সরাইয়া (৬৫), নোয়াখালী জেলার মাইজদী এলাকার সুরাইয়া বেগম (৩০), হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট এলাকার সহিদ মিয়ার ছেলে জনি (২৪), একই জেলার বানিয়াচং উপজেলার মুসা মিয়ার কন্যা মীম (৭), মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মরহুম মুসলিম মিয়ার কন্যা সুমি (২১), হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সোহেল মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩০), একই এলাকার রফিক উলস্নাহর কন্যা রেণু-(২৫), চাঁদপুর জেলার সাতরাশি এলাকার রহিমা বেগম (৪৫), হবিগঞ্জ জেলার আসকিব মিয়ার ছেলে ধলা মিয়া (৬৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দোলোয়ার মিয়ার স্ত্রী শাহিদা (৪০), হবিগঞ্জ জেলার খালিশপুর গ্রামের মনজব আলীর ছেলে রাকিব (২৮), হবিগঞ্জ জেলার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে হাসান আলী (৭০), হবিগঞ্জ জেলার নারায়নপুরের মৃত সোনাউলস্নাহর ছেলে আবুল কালাম (৫২), কুমিলস্না জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আসবর আলীর ছেলে আবুল কাশেম (৪০) ও গাজীপুর জেলার মৃত মুসলিম মিয়ার ছেলে ইমন (১৮)।

হাসপাতালে আহত অলিউলস্নাহ (৩৬) জানান, তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। তিনি নোয়াখালীতে টেইলারিংয়ের কাজ করেন। সোমবার রাতে তিনি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে হবিগঞ্জ শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে আহত হন। তিনি বলেন, তিনি ট্রেনে দাঁড়ানো ছিলেন। হঠাৎ করে একটি আওয়াজ শুনতে পান। এর পর তিনি ট্রেনের ভেতর পড়ে যান। আর কিছু মনে নেই।

হাসপাতালে আহত বোরহান উদ্দিন জানান, তিনি কুমিলস্না ভিক্টোরিয়া কলেজে মাস্টার্সে পড়েন। তিনি বলেন, তিনি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল থেকে কুমিলস্না যাচ্ছিলেন। ট্রেন তিনি দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি গভীর রাতে কসবার মন্দভাগ এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। সাথে সাথে তিনি ট্রেনের মধ্যে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সমাজসেবা কর্মকর্তা শারমীন রহমান চৌধুরী জানান, তারা আহত রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করছেন। কোনো রোগী যাতে ওষুধের জন্য কষ্ট না করেন সেদিকে তারা খেয়াল রাখছেন। তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ মজুত রয়েছে।

এ ব্যাপারে ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, তিনি গভীর রাতে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখেন। ভোর রাত সাড়ে চারটা থেকে আহত রোগীরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ হাসপাতালে মোট ৪১ জন রোগী ভর্তি হন। এদের বেশীর ভাগেরই হাত-পা ভাঙা এবং মাথায় আঘাত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, রোগীরা আসতে থাকার আগেই তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সার্জারি ওয়ার্ড, অর্থোপেডিক ওয়ার্ড প্রস্তুতসহ রোগীদের ভর্তির সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকগণ ছাড়াও জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ১২ জন চিকিৎসক এসে চিকিৎসা কাজে অংশ নেন।

ডা. শওকত হোসেন আরও বলেন, হাসপাতালে দুটি লাশ আছে। এদের মৃতই আনা হয়েছিল। এরা হচ্ছেন নোয়াখালী জেলার মাইজদীর শংকর হরিজনের ছেলে রনি হরিজন (৩৫) এবং হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বড়বাজার এলাকার সোহেল মিয়ার শিশুকন্যা সোহা মনি (৪)। তাদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহআলম জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করেছেন। এছাড়া জেলায় পাঁচটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মেডিকেল টিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে, একটি মেডিকেল টিম কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে, একটি মেডিকেল টিম আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে এবং একটি মেডিকেল টিম সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫৫ জন রোগী জেলা সদর হাসপাতাল, কুমিলস্না মেডিকেল কলেজ, কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ও আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প থেকেই নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও

প্রধানমন্ত্রীর শোক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা পৃথক শোকবার্তায় হতাহত লোকজনের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিহত লোকজনের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

পৃথক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের সব ধরনের সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে