logo
বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সরকারি হস্তক্ষেপে খালেদা জামিনবঞ্চিত: ফখরুল

সরকারি হস্তক্ষেপে খালেদা জামিনবঞ্চিত: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পেছানোর সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে বিক্ষুব্ধ বিএনপি। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে ৪ ডিসেম্বর বুধবার রাতেই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে তা বদলে দেয়া হয়েছে।

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস, মীর সরফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ, হেলেন জেরিন খান, সেলিম রেজা হাবিব, আনোয়ার হোসেইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তে সমস্ত জাতি শুধু হতাশই হয়নি, বিক্ষুব্ধ হয়েছে। বিএনপি উদ্বিগ্ন-বিক্ষুব্ধ। তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দুইবার বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং ৭৩ বছর বয়সে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নেতাকে জামিন না দেয়াটা প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধেই শুধু নয়, একটা অমানবিক আচরণ তার প্রতি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতিতে গোটা জাতি আজ উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তিটা অবশ্যই জরুরি। তার সুচিকিৎসা না হলে যেকোনো সময়ে প্রাণহানিও ঘটতে পারে। তাই বিএনপির স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যে ক্রমাবনতি এবং চিকিৎসা না হওয়ার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ এই অনির্বাচিত সরকার ও সরকার প্রধানকে বহন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউর

\হভাইস চ্যান্সেলরের দুটি রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা ছিল। একটি নতুন বোর্ড গঠন করে তার সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার রিপোর্ট দেয়া এবং অন্যটি ৩০ নভেম্বর যে নতুন একটা বোর্ড তৈরি করা হয়েছিল সেই বোর্ডে রিপোর্টটি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এই রিপোর্টটি দেয়ায় ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অবমাননা করেছে। এজন্য যে, এটা (রিপোর্ট প্রদান) আদালতের বাধ্যবাধকতা ছিল।

এখন বিএনপি কি করবে এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি অপেক্ষা করবে। ৭ দিনের কথা বলা হয়েছে। এই ৭ দিনের মধ্যে মুক্তি না দিলে কি করবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মুক্তি না দিলে স্থায়ী কমিটি বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

৩০ নভেম্বর চার সদস্যের চিকিৎসকদের সমন্বয়ের গঠিত বোর্ডের রিপোর্টের অংশবিশেষ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, রিপোর্টে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস মেরিটাস রোগে আক্রান্ত, হাইপারটেনশন, রিসোটাইজ আর্থারাইটিস উইথ সেকেন্ডারি সিন্ড্রোম উইথ রেফারেন্স হাইপোনেট্রেনিয়া কাপ ভেরাইন্ট অ্যাজমা। 'সি এজ প্রেজেন্ট এট এ ক্রিপল স্টেইজ, ক্রিপল হচ্ছে পঙ্গু। সি নিড এডভান্স ট্রিটমেন্ট।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই রিপোর্টের ওপরই কিন্তু তার জামিন হওয়ার কথা। তারপরও আনঅফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, গত (বুধবার) রাতেই রিপোর্ট চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার তার জামিনকে বাধা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী গুরুতর অসুস্থ। মারাত্মক রিউমেটিড আর্থারাইটিজে আক্রান্ত। প্রতিদিন অতি দ্রম্নত পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এখনই প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। পিজির চিকিৎসক যারা বোর্ডের সদস্য তাদের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা যে মতামত দিয়েছেন তাই বলা হচ্ছে। খালেদা জিয়া এখন সাহায্য ছাড়া একেবারে চলতে পারেন না, বিছানা থেকেও উঠতে পারেন না কারো সাহায্য ছাড়া। এই মারাত্মক স্বাস্থ্যের অবনতির পরেও সরকার ক্রমাগত তার (খালেদা জিয়া) মুক্তিতে বাধা প্রদান করছে এবং জামিনে বাধা প্রদান করছে। দেশনেত্রী শুধু একজন সাধারণ নাগরিক নন, তিনি এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে সবসময় নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক বলে মনে করে। চলমান ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটে দেশনেত্রীর নেতৃত্ব জাতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ উলেস্নখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে যে, এই বিচার চলাকালীন একটা মামলায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে তিনি যে বক্তব্য দিচ্ছে তা সরাসরিভাবে বিচার বিভাগের ওপরে হস্তক্ষেপের শামিল, আদালত অবমাননার শামিল এবং কিছুটা রায়ের মতোই। এই ধরনের বক্তব্যে প্রমাণ হয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার চান না যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হন। যে মুক্তিটা করুণার ব্যাপার নয়, এটা তার আইনগত প্রাপ্য। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য এসব কাজ করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও আদালত অবমাননার শামিল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গডমাদার উলেস্নখ করার পাশাপাশি বলেছেন যে, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন, আগের থেকেই হুইল চেয়ারে আছেন। সুতরাং এখনো হুইল চেয়ারেই থাকবেন, দেশের বাইরে 'নি রিপেস্নস' করেছেন- এসব কথা বলে প্রধানমন্ত্রী একদিকে বিএসএমএমইউর কর্তৃপক্ষ যারা রিপোর্ট তৈরি করছেন তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্র দায়েরের ঘটনার মিল রয়েছে উলেস্নখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কাকতালীয় কিনা জানি না, বুধবার সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাহেবের মামলার চার্জশিট হয়েছে। একদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতির মামলার চার্জশিট আরেকদিকে প্রধানমন্ত্রীর উক্তি এই দুটি জিনিস মিলিয়ে পরিষ্কার করে বলা যায়, 'ইটস এ থ্রেট টু ইন্ডিপেন্ডেন্ট জুডিশিয়ারি এবং ইটস এ থ্রেট ফর দ্য ডক্টরস' যারা স্বাধীনভাবে একটা রিপোর্ট দেবেন। এর চাইতে অমানবিক আর কিছু হতে পারে না।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে