logo
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

ঘরে-বাইরে তোপের মুখে মির্জা ফখরুল

ঘরে-বাইরে তোপের মুখে মির্জা ফখরুল
ফখরুল ইসলাম আলমগীর
হাসান মোলস্না

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ইসু্যতে ঘরে-বাইরে তোপের মুখে পড়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আন্দোলনের মাধ্যমে নেত্রীকে মুক্ত করার দলীয় সিদ্ধান্ত পাশ কাটিয়ে এই ইসু্যতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি অনেকেই পছন্দ করেনি। এ নিয়ে দল ও মিত্ররা প্রকাশ্যেই সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না। অন্যদিকে এ আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী তা নিয়েও নানা চাপে আছেন বিএনপি মহাসচিব।

চলতি মাসের শুরু থেকে জিয়া পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে নতুন করে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তৎপরতা শুরু করে। রাজনৈতিক এবং আইনি এ দুই প্রক্রিয়াই সমানতালে তৎপরতা চলে। বিষয়টি নিয়ে পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে দীর্ঘদিন গুঞ্জন থাকলেও গত শুক্রবার তা সবার সমানে পরিষ্কার হয় ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে ফোন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার সঙ্গে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের টেলিফোনে কথা হয়েছে।

সূত্রমতে, ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য পরে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নতুন দিকে মোড় নেয়। আর বেকায়দায় পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চারদিক থেকে জবাবদিহিতার মধ্যে পড়তে হয় তাকে। দলীয় নেতাকর্মী ও মিত্ররা বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চান, কেন ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করা হলো, প্যারোল বা সমঝোতার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হলে তাহলে দুই বছর আগে কেন হলো না। সমঝোতা যদি করতেই হয় তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্তে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিতদের সংসদে যোগ দেওয়ার শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যেত। এসব বিষয়ও এখন সামনে আসছে।

ওবায়দুল কাদের ও মির্জা আলমগীরের ফোনালাপের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নিজ দলীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দুই বছর আগেই প্যারোলের বিষয়ে মত দিয়েছিলেন। তখন নেতারা তার কথা শোনেননি। এখন আইনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়াটাও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু রাজনৈতিক চিন্তার ঊর্ধ্বে, ম্যাডামকে বাঁচানোর জন্য তার উন্নত চিকিৎসা করা দরকার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে মির্জা ফখরুলের ফোন করার সমালোচনা করে এ অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বলছেন, আপনারা বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা চান এবং নিঃশর্ত মুক্তি চান। সত্যিই কি আপনারা নিঃশর্ত মুক্তি চান? তাহলে ফোন করলেন কেন? কী কথা হয়েছে ফোনে?

ফোন দিয়ে নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে গুরুত্ব দিয়ে মান্না বলেন, লড়াই ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। লড়াইয়ের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপি সূত্রমতে, প্রকাশ্যে এমন বেকায়দায় থাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরে আরও বেশি সমস্যায় আছেন মির্জা ফখরুল। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনা অগ্রগতি কী? কোন ফল কী আসবে? এমন প্রশ্নবানে জর্জরিত। ফোনালাপের পর গত কয়েকদিনে নানামুখী চাপে সংবাদ মাধ্যমকে মির্জা ফখরুল বলতে বাধ্য হন, প্যারোল নিয়ে তার দল কারও সঙ্গে কথা বলেননি। আর এ বিষয়ে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত যৌথ সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ফোনে তাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কথা বলি। ব্যাপারটি এখন মির্জা ফখরুল অস্বীকার করলে তা প্রমাণ করারও সুযোগ রয়েছে। ফোনের কথার রেকর্ড আছে।

এদিকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেলিফোন আলোচনা ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ। সমঝোতা করার মতো যতটুকু বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা প্রয়োজন তা বিএনপি নেতারা বারবার দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেও অনেকে মত দেন। নেতাকর্মীদের বেশিরভাগ মনে করেন, মুক্তি হলে শেষ পর্যন্ত প্যারোলেই মুক্ত হতে হবে নেত্রীকে। সেক্ষেত্রে পরিবার যে উদ্যোগ নিয়ে এগুচ্ছিল সেই পথেই বিএনপি নেতাদের থাকা উচিত ছিল। মাঝখানে অবিবেচকের মতো ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যে প্রক্রিয়ায় বিএনপি নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করেছেন তা আরও একটি ভুল পদক্ষেপ। এজন্য আবারও নতুন করে আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্ব করা হলো।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে