logo
মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

  দুমকি (পটুয়াখালী) সাংবাদদাতা   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

নদীতে বিলীন দুমকির ঘরবাড়ি

নদীতে বিলীন দুমকির ঘরবাড়ি
পটুয়াখালীতে দুমকি পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দুমকিতে বিলীন অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি -যাযাদি
পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা ও লোহালিয়া নদীর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচশ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংগারিয়া, মুরাদিয়া, পাঙ্গাশিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে আছে লেবুখালীর পুরনো বাজার, আংগারিয়ার বাহেরচর, মুরাদিয়ার কালেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ মুরাদিয়ার মজুমদারের হাট, রাজগঞ্জ ও চান্দখালী গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ওইসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

ভাঙনকবলিত অসহায় পরিবারগুলোর কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অধিকাংশ পরিবারই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। লেবুখালী পুরনো বাজার রাস্তার ওপর অশ্রয় নেয়া ৩০-৩৫টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। বাহেরচর এলাকায় অব্যাহত ভাঙনের মুখে রয়েছে শতাধিক পরিবার। উত্তর মুরাদিয়া ও সন্তোষদির পাউবোর রাস্তায় আশ্রয় নেয়া শতাধিক পরিবার অর্থ ও খাদ্যে সংকটে পড়েছে।

আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার জানান, গত এক সপ্তাহে বাহেরচর গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙছে। ভাঙনের কবলে পড়া আড়াই থেকে তিনশ' মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর উলস্নাহ জানান, লোহালিয়া নদীর জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতের চাপে ভাঙনে উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, কালেখা, দক্ষিণ মুরাদিয়ার কলাগাছিয়া গ্রামের প্রায় দুইশ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন সিকদার জানান, পাংগাশিয়ার রাজগঞ্জ, চান্দখালী, আলগি এলাকা ভাঙনের মুখে আছে। প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা পস্নাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হয়। তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লেবুখালী, ফেরিঘাট, লেবুখালী পুরনো বাজার, পশ্চিম আংগারিয়া, মুরাদিয়ার উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, চরগরবদি, কলাগাছিয়াসহ ১০ গ্রামের প্রায় পাঁচশ পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।

আলগি, চান্দখালী ও লেবুখালীর মানুষ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে। তারা পরিবার নিয়ে ওয়াপদা বেড়িবাঁধে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। আংগারিয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত বাহেরচর গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে