logo
সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী   ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

১৮৭০ সালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা স্থাপনের পর কর্মীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে ৮২ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হাসপাতালটি বেশ সুনামের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে বর্তমানে সঠিক দেখভাল ও সংস্কারের অভাব এবং জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি থেকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রেলকর্মীরা।

কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এক সময় হাসপাতালটিতে রোগীদের ভিড় লেগে থাকত। তবে এখন বহির্বিভাগে ১২-১৫ জন এবং ভর্তি হয়ে কয়েকজন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। জনবল সংকট, রোগী ও স্বজনদের খাওয়ার সুব্যবস্থা না থাকা ও রোগী পরিবহণে সমস্যার কারণে হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানান রেলকর্মীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে হাসপাতালটিতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৪ জন। এর মধ্যে সহকারী সার্জনের পাঁচটি পদের বিপরীতে আছেন একজন, ফার্মাসিস্ট আট জনের বিপরীতে কাজ করছেন তিনজন, সিনিয়র নার্স সাতজনের বিপরীতে একজন ও তিনজন জুনিয়র নার্সের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন।

এছাড়া, আয়া ও সুইপার পদে ৬৩ জনের বিপরীতে ২৫ জন, খালাসি পাঁচ জনের বিপরীতে একজন, ওয়ার্ড বয় ১৪ জনের বিপরীতে ১২ জন, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) দুই জনের বিপরীতে একজন, চৌকিদার ৪ জনের বিপরীতে দুইজন, আয়া ৬ জনের স্থলে চারজন, কুক ২ জনের বিপরীতে একজন কর্মরত আছেন। অন্যদিকে মেট্রন, স্টোর কিপার, ইউডিএ, স্টেনো টাইপিস্ট, স্যানিটারি পরিদর্শক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক, স্ট্রেচার কেরিয়ার (রোগী বহনকারী), অ্যাম্বুলেন্স ক্লিনার, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ল্যাব অ্যাটেন্ড পদগুলোও শূন্য।

সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় মেডিকেল কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. শামীম আরা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ যেমন পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে, তেমনি রেলওয়ের হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি একাই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) ভারপ্রাপ্ত জয়দুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হলে সংকট কাটতো বলে মনে করেন তিনি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে