logo
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

ঈদে 'ভাগ্যরাজ' নিয়ে ভাগ্য পরীক্ষার অপেক্ষায় খান্নু

ঈদে 'ভাগ্যরাজ' নিয়ে ভাগ্য পরীক্ষার অপেক্ষায় খান্নু
নিবিড় পরিচর্যায় ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার মানিকগঞ্জের দেলুয়া গ্রামের ভাগ্যরাজ -যাযাদি

'রাজাবাবু'র কথা মনে আছে নিশ্চয়? ২০১৮ সালের কোরবানির ঈদের সময় 'রাজাবাবু' নামের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় নিয়ে সারাদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দেলুয়া গ্রামের কৃষক খান্নু মিয়া। সাড়ে ১৮ লাখ টাকায় ঈদের আগের রাতে বিক্রি করেছিলেন 'রাজাবাবু'কে। খান্নু মিয়ার এবারের চমক 'ভাগ্যরাজ'! উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি, বুকের বেড় ১২০ ইঞ্চি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খান্নু মিয়া সনাতন পদ্ধতিতে নিজ সন্তানের মতো যত্নে পেলে-পুষে বড় করেছেন এ ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টিকে। এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন স্থানে আলোচনার শীর্ষে আছে 'ভাগ্যরাজ'। যদিও গত বছরও ঈদের সময় ভাগ্যরাজকে হাটে উঠিয়েছিলেন খান্নু। কিন্তু সঠিক মূল্য না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিক্রি করেননি। এবার আর হাটে নিতে চান না ভাগ্যরাজকে, বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চান। এ বছর মহামারি করোনায় ভাগ্যরাজকে নিয়ে ভাগ্য পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন খান্নু। সঠিক মূল্যে ভাগ্যরাজকে বিক্রি করতে পারলে সেই টাকার একটি অংশ আর্তমানবতার সেবায় তুলে দিতে চান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। সরেজমিন দেখা যায়, ভাগ্যরাজকে নিজ সন্তানের মতো করে যত্ন করছেন খান্নু ও তার স্ত্রী পরিষ্কার বেগম। যত্নের কোনো ত্রম্নটি রাখছেন না। ভাগ্যরাজের সামনে পেছনে ঘুরছে পাকিস্তানি ফাইটার ফ্যান, মাথার ওপরে ঘুরছে তিন পাখাযুক্ত সিলিং ফ্যান। জানা গেছে, সকাল, দুপুর ও বিকাল- এ তিন বেলা নিয়ম করে তাকে গোসল করানো হয় মোটর দিয়ে উঠানো ঠান্ডা পানি দিয়ে। গোসলের পর তাকে নিয়ে রাখা হয় কালো কার্পেটিং যুক্ত পরিষ্কার স্থানে। খান্নুর বাড়ি গিয়ে সেখানেই ভাগ্যরাজকে বিশ্রামরত অবস্থায় দেখা গেল। ভাগ্যরাজের খাবারের তালিকায় রয়েছে দেশি কলা, আপেল, মালটা, পেয়ারা, নালি গুড়, কাঁচা ঘাস আর খড়। খান্নু মিয়া বলেন, আমি দুই বছর ধরে ভাগ্যরাজকে লালন-পালন করছি, তবে আমি এ বছর ভাগ্যরাজকে হাটে নেব না। ভালো কাস্টমার পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করব। খান্নুর স্ত্রী পরিষ্কার বেগম বলেন, ভাগ্যরাজকে পেটের সন্তানের মতো করে বড় করে তুলেছি। রাত-দিন ভাগ্যরাজের পেছনে সময় দিতে হয়। একটিমাত্র আশা আমাদের, কোরবানির ঈদে ভাগ্যরাজের সঠিক মূল্য যেন পাই। কাস্টমার চাইলে ভাগ্যরাজকে বিক্রির পর ঈদ পর্যন্ত লালন-পালন করে আমরা সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দেব। ন্যায্যমূল্য পেলে মহামারি করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ষাঁড় বিক্রির টাকার একটি অংশ দেওয়ারও ইচ্ছা পোষণ করেন এ দম্পতি। উপজেলার দেলুয়া গ্রামের মুবিন বলেন, খান্নু প্রতি বছর বিশালদেহী গরু নিয়ে আসেন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে। ভাগ্যরাজ শুধু আমাদের এলাকায়ই নয়, আশপাশের জেলার মধ্যেও সবচেয়ে বড় গরু। সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনির হোসেন বলেন, খান্নুর ভাগ্যরাজের ওজন আনুমানিক ৩০ মণ। আমরা প্রতিনিয়ত খান্নুর ষাঁড়টিকে (ভাগ্যরাজ) স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। আশা করছি, এ গরুটি ভালো দামে বিক্রি হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে