logo
  • Sun, 18 Nov, 2018

  ফয়সাল খান   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

২৯ মিন্টো রোড

এবারও বিরোধী নেতার দেখা পেল না বাড়িটি

চার বছর আগে সংস্কারের জন্য চিঠি দিয়েও বাড়িটি বুঝে নেননি রওশন এরশাদ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়নের পরামশর্ বিশেষজ্ঞদের

এবারও বিরোধী নেতার  দেখা পেল না বাড়িটি
রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সরকারি বাসভবন Ñযাযাদি
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিবার্চনী বাতাস বইছে। সব রাজনৈতিক দল নিবার্চনী প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রায় সারাদিনই এমপি-মন্ত্রীসহ নেতাদের বাসাবাড়ি ও অফিসে মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু এত ব্যস্ততার মাঝেও ২৯, মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাড়িটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। কেননা, চলতি মেয়াদের শুরুতে গণপূতর্ বিভাগে সংস্কারের জন্য চিঠি দিয়েও বাড়িটিতে ওঠেননি বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ।

এদিকে, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সবর্ত্রই উন্নত হচ্ছে। রাজধানীর টয়লেট এবং ফুটপাতেও টাইলস লাগানো হয়েছে। সড়কে এলইডি বাতির ঝলমলে আলো। ড্রেন, রাস্তাঘাট, কমর্চারীদের বাসভবন, এমনকি ক্লিনারদের জন্যও বহুতলবিশিষ্ট অট্টালিকা নিমার্ণ করা হচ্ছে। সব জায়গায় আধুনিকতার ছেঁায়া লাগলেও যুগ যুগ ধরে অবহেলিতই রয়ে গেছে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য স্থায়ীভাবে বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবন। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কতৃর্ক নিমির্ত ভবনটির অবস্থা এতই বেহালদশা যে, বিরোধীদলীয় নেতার মতো একজন গুরুত্বপূণর্ পদধারীর এই বাড়িতে বসবাস করা অনেকটাই কঠিন। তাই বেশিরভাগ বিরোধীদলীয় নেতাই বাড়িটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। এ অবস্থায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার এই বাসভবনটি আধুনিকায়ন করার পরামশর্ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারির নিবার্চনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে বিরোধীদলীয় নেতা নিবাির্চত হন জাতীয় পাটির্ নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ।

এর এক বছর পর বাড়িটি সংস্কারের জন্য আবেদন করেন তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূতর্ বিভাগের তথ্যমতে, রওশন এরশাদ ২০১৪ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি বাড়িটি বুঝে পেতে গণপূতর্ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদন করেন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বিরোধীদলীয় নেতার বসবাসের জন্য ওই বছর ৭ এপ্রিলের মধ্যে বাড়িটির দখল বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এরপর কিছু আনুষঙ্গিক সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে ওই বছর ২১ এপ্রিল বাড়িটি বুঝে নিতে রওশন এরশাদকে চিঠি দেয় নগর গণপূতর্ বিভাগ। কিন্তু এরপর বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে আর কেউ যোগাযোগ করেননি।

অপরদিকে, বতর্মান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও বাড়িটিতে উঠেননি বিরোধীদলীয় নেতা। দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ থাকাকালীন সময়ও এই বাড়িতে তার ওঠার কোনো সম্ভাবনাই নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় পাটির্র নেতারা। তাই এই মেয়াদেও বিরোধীদলীয় নেতার দেখা পেল না ২৯, মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার এই বাড়িটি। ফলে লাল রঙের ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটির অপেক্ষা বাড়ল পরবতীর্ সরকার গঠন হওয়া পযর্ন্ত।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য জাতীয় পাটির্র একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শতের্ জাতীয় পাটির্র এক নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, ‘উনার (রওশন এরশাদ) নিজস্ব বাড়ি আছে, একাধিক অফিসও আছে। তাই সরকারি এই বাড়িটি ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। এ জন্য ২৯, মিন্টো রোডের এই বাড়িতে ওঠেননি তিনি।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পাটির্র মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এটা ম্যাডামের বিষয়। এ বিষয়ে তার তেমন কিছু জানা নেই।

শুধুমাত্র বতর্মান বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদই নয়, অতীতের বেশিরভাগ বিরোধীদলীয় নেতাই বাড়িটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। কেউ কেউ নিজে বসবাস না করে বাড়িটি দখলে নিয়ে দলীয় কমর্কাÐ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু বাড়িটির অবস্থা এতই খারাপ যে, বিগত এক যুগ ধরে বাড়িটি কেউ দখলেও নিতে চাচ্ছেন না।

খেঁাজ নিয়ে আরও জানা গেছে, এই বাড়িতে সবের্শষ তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বতর্মান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন মেয়াদে স্থায়ীভাবে থেকেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ এবং ২০০১ সালে অষ্টম সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে এই বাড়িতে বসবাস করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে এই বাড়িতে স্থায়ীভাবে না থাকলেও এখান থেকে রাজনৈতিক কমর্কাÐ পরিচালনা করেছেন। ২০০৮ সালে ফের বিরোধীদলীয় নেত্রী হওয়ার পর সেনানিবাসের বাসভবন ছাড়তে বাধ্য হলেও এই বাড়িতে ওঠেননি তিনি। একযুগের বেশি সময় কেউ না থাকায় বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নিদির্ষ্ট বরাদ্দকৃত এই বাড়িটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু কমর্কতার্-কমর্চারীরা মিলে গোপনে বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দিচ্ছে। এতে করে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার মতো গুরুত্বপূণর্ পদের অমযার্দা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান যায়যায়দিনকে বলেন, যেকোনো জিনিস দীঘির্দন ব্যবহার না করলে নষ্ট হয়ে যায়। বিরোধীদলীয় নেতার এই বাড়িটির ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়িটি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। বিরোধীদলীয় নেতা যে লেভেলের বাড়িতে বসবাস করেন, সেই স্ট্যান্ডাডর্ অনুযায়ী বাড়িটি সংস্কার করলে হয়তবা পরবতীর্ বিরোধীদলীয় নেতারা বাড়িটির প্রতি আগ্রহী হবেন।

সরেজমিন বাড়িটি ঘুরে দেখা যায়, লাল রঙের বাড়িটির দেয়ালের বিভিন্ন জায়গার রং ফেকাসে হয়ে গেছে। বারান্দাসহ আশপাশে মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। সামনের মাঠে কাগজের টুকরাসহ নানা ময়লা-আবজর্না জমে আছে। নেই কোনো নিরাপত্তারক্ষী। নিরাপত্তারক্ষী বসার জায়গাটাও গাছের পাতা দিয়ে ভরা। গেটও খোলা থাকে সবসময়। পূবর্ পাশের খালি জায়গায় বেশ কয়েকটি টিনশেড ঘর নিমার্ণ করে বসবাস করছেন গণপূতর্ বিভাগের কমর্চারীরা। তবে কতৃর্পক্ষের দাবি, তারা ক্লিনার। বাড়িটি দেখভাল করার জন্য থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় মূল ভবনের ভেতরও দুই-একটি পরিবারকে বসবাস করতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯০৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কতাের্দর বসবাসের জন্য ভবনটি নিমার্ণ করা হয়। প্রায় ২.৫ একর জমিতে দোতলা মূল ভবনের প্রত্যেক তলায় চারটি করে মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। মিন্টো রোড এলাকায় যে পঁাচটি বাড়ির সুনিদির্ষ্ট বরাদ্দ রয়েছে, এটি তার একটি। এ ছাড়া ডিসির বাংলো, বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন, জেলা দায়রা জজের বাসভবন এবং দুদক চেয়ারম্যানের বাসভবনও সুনিদির্ষ্টভাবে বরাদ্দ রয়েছে। এসব ভবনে নিধাির্রত ব্যক্তি না থাকলেও অন্য কাউকে বরাদ্দ দেয়ার নিয়ম নেই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে