logo
শনিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫

  ফয়সাল খান   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

আওয়ামী লীগ

মনোনয়ন বঞ্চিতদের মাঠে নামানোর বিশেষ উদ্যোগ

মনোনয়নে বঞ্চিত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ নেতা। বাদ পড়ার এই তালিকায় কেন্দ্রীয় নেতাসহ জেলা ও মহানগর পযাের্য়র বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও রয়েছেন

ভোটে জেতার কৌশলের কারণে অনেক হেভিওয়েট প্রাথীের্কও মনোনয়ন দিতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাসহ বাদ পড়েছেন তৃণমূল পযাের্য়র অনেক জনপ্রিয় প্রাথীর্ও। তবে তাদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে না পারলে নিবার্চনী ছক পাল্টে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। তাই এবার তাদেরকেও মাঠে সক্রিয় রাখার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন এ দলটি।

‘দল ক্ষমতায় গেলে তাদের মূল্যায়ন করা হবেÑ খোদ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়নবঞ্চিতদের ডেকে এ আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ যেসব নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন ক্ষমতায় গেলে তাদের গুরুত্বপূণর্ পদ দেওয়ার মৌখিক অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

সূত্র জানায়, সারাদেশে মনোনয়ন প্রাপ্তির দৌড়ঝঁাপে ৫ হাজেরর বেশি নেতা তৎপর ছিলেন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৪ হাজার ২৩ জন। বঞ্চিত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ নেতা। বাদ পড়ার এই তালিকায় কেন্দ্রীয় নেতাসহ জেলা ও মহানগর পযাের্য়র বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও রয়েছেন।

দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের পক্ষে কাজ করলে কাউকেই নিরাশ হতে হয় না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। যারা মনোনয়ন না পেয়েও দলীয় প্রাথীর্র পক্ষে কাজ করেছেন তারা অতীতেও পুরস্কৃত হয়েছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নিবার্চনে দলের অন্যতম হেভিওয়েট প্রাথীর্ ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান। প্রচার-প্রচারণা, জনপ্রিয়তা ও একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু দলের বিশেষ বিবেচনায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ওই নিবার্চনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও দলের বিজয়ের জন্য কাজ করেন তিনি। এর পুরস্কারস্বরূপ আজমত উল্লাহ খানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাযির্নবার্হী সংসদের সদস্য করা হয়। তাছাড়া বিগত সময়ে সিটি নিবার্চনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নিবার্চনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দল মনোনীত প্রাথীর্র পক্ষে যারা কাজ করেছেন তাদেরকেও বিশেষ মূল্যায়ন করেছে আওয়ামী লীগ। এবারও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, সারাদেশের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গতিবিধি লক্ষ করার জন্য কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। যেখানে সমস্যা মনে হচ্ছে সেখানে জেলা পযের্য়র নেতাদের দিয়ে কথা বলানো হচ্ছে। তাতে কাজ না হলে দলের যুগ্ম সম্পাদক ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাছে রিপোটর্ করা হচ্ছে। ওই রিপোটর্ অনুযায়ী প্রাথীর্র সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। বিশেষ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতারা সংশ্লিষ্ট এলাকা সফরও করবেন। বেশিরভাগ আসনেই কমবেশি সমস্য থাকলেও তবে নিবার্চনের আগে আসন ওয়ারি সফর কারা কঠিন বলে জানায় সূত্রটি।

দলের চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকায় প্রত্যেকে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়ে দু’টি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান নওফেল। সিলেট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। রংপুর বিভাগে দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। খুলনা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন। বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাউদ্দিন সিরাজ।

তাছাড়া মনোনয়ন না পাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদরে নিয়ে জাতীয় নিবার্চন পরিচালনা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের নিবার্চনী কাযর্ক্রম সাবর্ক্ষণিক তদারকি করতে এরই মধ্যে কাজ শুরুও করেছেন তারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের হেভিওয়োট প্রাথীের্দর নিয়ে এবারই প্রথম একটি শক্তিশালী নিবার্চন পরিচালনা মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে তারা সকল নিবার্চনকেন্দ্রে মনিটরিং করবেন কেন্দ্রীয় কাযার্লয় থেকে। এই টিমে যারা আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, একটি নিবার্চনী টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমের মাধ্যমে নিবার্চন পরিচালনার সাবির্ক কাযর্ক্রম মনিটরিং করবে। সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মধ্যে স্বতন্ত্রী প্রাথীর্ থাকলে তাদের প্রত্যাহার করতে বলব। পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচার রোধে কাজ করব। দলের মধ্যে কোনো বিষয়ে ঘাটতি থাকলে সমন্বয় করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশলে কাজ করা হবে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় এলে মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা দলের গুরুত্বপূণর্ পদে দায়িত্ব পাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, বতর্মান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানকে সভাপতিমÐলীর সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, বিএম মোজাম্মেল হক ও আহমদ হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকে সাংগঠনিক সম্পাদক। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুরকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হতে পারে। এছাড়া জাহাঙ্গীর কবির নানককে দলের সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। তবে এসব বিষয় নিভর্র করেবে দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র জানায়, প্রাথীর্ মনোনয়ন দেয়ার পর দলের মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গণভবনে ডেকে নেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডাক পাওয়াদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। এ সময় গণভবনে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আ খ ম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোটের মাঠে সাংগঠনিক লোক দরকার হয়। তা না হলে ভোটের ফলাফল পাওয়া যায় না। দলকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনতে তোমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। নিয়মিত ধানমন্ডীর কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে বসে সারাদেশে দলীয় প্রাথীের্দর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে সেগুলো সমাধান করবে।

দলের নেতা-কমীের্দর ঐক্যবদ্ধ থাকার আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতা-কমীের্দর ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলে অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিল। সবার মধ্য থেকে যিনি যোগ্য আমি তাকেই প্রাথীর্ করেছি। সবাইকে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কারণ স্বাধীনতাবিরোধীরা, দলছুট নেতারা এক হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কাজেই আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা সফল হতে পারবে না।’
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে