logo
শনিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫

  এসএম মামুন হেসেন   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

বাড়তি দামে আপত্তি পাঠকের

বাড়তি দামে আপত্তি পাঠকের
পাঠক, ক্রেতা ও দশর্নাথীের্দর ভিড়ে জমে ওঠেছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ছবিটি রোববার সোহরাওয়াদীর্ উদ্যানের অংশ থেকে তোলা Ñযাযাদি
এবারের মেলার আয়োজন, প্যাভিলিয়ন, স্টলের নান্দনিকতা, সৌন্দযর্সহ সাবির্ক বিষয় নিয়ে খুশি সকলেই। তবে এত কিছুর মাঝেও অভিযোগ রয়েছে পাঠকের। আর সেটি হলো বইয়ের দাম নিয়ে। পাঠকের অভিযোগ মেলার সাবির্ক বিষয় সুন্দর হলেও মেলার আসল আয়োজন যে বইয়ের জন্য সেটির দাম একটু বেশি। মেলার প্যাভিলিয়ন, স্টল ঘুরে বেড়ানো পাঠকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা একটু কম দামে ভালো বই কিনতে চেয়েছেন। বেশিরভাগ পাঠকই জানান দাম একটু বেশি। আর তাই এ স্টল ও স্টল করে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে প্রকাশকরা জানান বতর্মান বাস্তবতায় এর চেয়ে দাম কম রাখা তাদের জন্যও কষ্টকর। মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি কতৃর্পক্ষ অবশ্য বলছেন কোন স্টল বাড়তি দাম নিলে পাঠকরাই সে প্রকাশনাকে এড়িয়ে চলবে। ফলে তারা আলাদা করে দাম বেঁধে দেয়ার পক্ষে নন।

যুক্ত থেকে বেরিয়েছে খন্দকার স্বনন শাহরিয়ারের উপন্যাস ‘নক্ষত্রের নিচে’। ৩৫৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য লেখা রয়েছে ৯শ টাকা। ঘাসফুল থেকে বেরিয়েছে পারভেজ শিহাবের কাব্যগ্রন্থ ‘পাখির দুঃখ মেঘের মনে’। ৬৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ১৮০ টাকা। পেন্সিল পাবলিকেশন্স থেকে বেরিয়েছে মাহরীন ফেরদৌসের কাব্যগ্রন্থ ‘কঁাচবন্দি সিম্ফনি’। ৮৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য লেখা রয়েছে ২শ টাকা। উড়কি প্রকাশনা থেকে বেরিয়েছে আহমেদ নকীবের কাব্যগ্রন্থ ‘গান গাবো বিজয়নগরে’। ১৩২ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ৫শ টাকা। বেহুলা বাংলা থেকে বেরিয়েছে মাহফুজা অনন্যার কাব্যগ্রন্থ ‘কামাতর্ নগরের কামিজ’। ৭২ পৃষ্ঠার এ বইটির মূল্য ২শ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেলায় আগত একজন পাঠক রূপা হায়দার যায়যায়দিনকে বলেন, ‘মেলার সবকিছ্ইু সুন্দর। মেলার আয়োজন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বইয়ের দামটা বেশিই মনে হচ্ছে। এক দেড়শ পৃষ্ঠার বইয়ের দাম চায় দুই থেকে তিনশ টাকা। এটা একটু বেশিই। আবার ভালো লেখকদের বইয়ের দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। চাহিদা সম্পন্ন বইয়ের দামটাই বেশি।’

মাহফুজ নামে আরেক পাঠক অভিযোগ করেন, ছোট একটি বই তার কাছে চারশ টাকা দাম চেয়েছে। তিনি বলেন, বাড়তি দামের প্রতিবাদ করায় দোকানের এক কমর্চারী তার সঙ্গে দুবর্্যবহার করেছে।

বইয়ের দামের বিষয়ে অনুপম প্রকাশনীর মোহাম্মদ শাহীন বলেন, গত বছরের ২২শ টাকা দামের কাগজ এবার তিন হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। সুতরাং এদিকটি হিসাব করলেই তো দাম বৃদ্ধির বিষয়টি চলে আসে। লাভ করতে না পারলে আমরা ব্যবসা করব কী করে?’

অপর দিকে বিদ্যা প্রকাশের কণর্ধার প্রিয় জানান, বইয়ের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ কাগজের দাম। এর বাইরে লেখক সম্মানীসহ প্রস্তুতি ব্যয় বেড়ে গেছে বলেই দাম বাড়াতে হয়েছে। 

বইয়ের দাম বেশি থাকার কথা স্বীকার করেছেন উড়কি প্রকশনার বিক্রয়কমীর্রা। তারা বলেন, ‘আমাদের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইয়ের লেখার মান ভালো, বইগুলো নব্বই দশকের। সেগুলো আমার পুনরায় প্রকাশ করেছি। তাই দাম বেশি নিতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাইলে বাংলা একাডেমির পরিচালক এবং মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, ‘যদি কোন প্রকাশনা দাম বেশি রাখে তবে পাঠকই তাদেরকে বজর্ন করবে। এ বিষয়ে আলাদা করে ব্যবস্থা নেয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।’

লেখক বলছি কণার্র: প্রথমবারের মতো এ বছর ভালো মানের ৫ জন লেখককে ২০ মিনিট করে নিজের বই নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে মেলা আয়োজক কতৃর্পক্ষ। সোহরাওয়াদীর্ উদ্যানের লেক পাড়ে ‘লেখক বলছি’ কণাের্রর এ আয়োজনে গতকাল রোববার নিজেদের সাহিত্যকমর্ বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন কবি অসীম সাহা (নিবাির্চত কবিতা), কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন (কবিতা সংগ্রহ), শিশুসাহিত্যিক মীম নোশিন নাওয়াল খান (টুপিটুন), কবি ও কথাসাহিত্যিক মাজহার সরকার (নেমকহারাম) ও কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন (বাংলাদেশের গল্প)।

মোড়ক উন্মোচন: গত বছরের মতো এবারও মেলায় রয়েছে মোড়ক উন্মোচন কণার্র। প্রতিদিনই অনেক বই আসলেও মোড়ক উন্মোচন করান গুটিকয়েক লেখক। তবে যারা এ কণাের্র এসে মোড়ক উন্মোচন করাচ্ছেন তাদের বক্তব্য শুনে অনেক পাঠক আগ্রহী হচ্ছেন সে সব বই কিনতে। আর এ কারণে মোড়ক উন্মোচনের আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে। গতকাল রোববারের ১১টিসহ এখন পযর্ন্ত মোট ১৫১টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

নতুন বই: রোববার মেলায় ৯০টি নতুন বই এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ অফিস। এর মধ্যে গল্প ১৪টি, উপন্যাস ১৪টি, প্রবন্ধ ২টি, কবিতা ৩৫টি, গবেষণা ৩টি, শিশুসাহিত্য ২টি, জীবনী ১টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ১টি, বিজ্ঞান বিষয়ক ১টি, ইতিহাস বিষয়ক ১টি, রাজনীতি ২টি, সায়েন্স ফিকশন ২টি, অন্যান্য ১২টিসহ মোট ৯০টি নতুন বই এসেছে। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে কথা প্রকাশ এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘আমার প্রেমের উপন্যাস’, পালর্ পাবলিকেশন্স এনেছে আনিসুল হকের ‘নিষিদ্ধ কৌতুক’, হাওলাদার প্রকাশনী এনেছে নেহাল করিমের বাঙালি ‘জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়’, কালি কলম প্রকাশন এনেছে বুলবুল চৌধুরীর ‘ছোটগল্প’, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এনেছে শবনম মুশতারীর ‘তালিম হোসেন জন্মশতবষর্ ২০১৮’, প্রত্যয়ন এনেছে রাশেদ রউফের ‘বাবারা কি মায়ের মতো হয়’, কলি প্রকাশনী এনেছে দীপু মাহবুবের ‘ফোরফিফটিটুবি’, ও আমীরুল ইসলামের ‘বাংলার গল্প বাঙালির গল্প’, অজর্ন প্রকাশন এনেছে অরুণ কুমার বিশ্বাসের ট্যাঙ্কিতে কালো ভূত’, আহমদ পাবলিশিং হাউজ এনেছে ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ’র ‘পাবলিক ম্যানেজমেন্ট পর লোকাল গভনের্মন্ট ইন বাংলাদেশ’।

মূল মঞ্চের আয়োজন: বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কথাশিল্পী ‘অমিয়ভূষণ মজুমদার :জন্মশতবষর্ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীষর্ক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহীবুল আজিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হোসেন উদ্দীন হোসেন, মাহবুব সাদিক এবং হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং সঞ্জীব পুরোহিত। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর মাসরুর জামান রনি এবং লাবণ্য শিল্পী। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলম দেওয়ান, রণজিত দাস বাউল, মমতা দাসী বাউল, লতিফ শাহ এবং মো. আনোয়ার হোসেন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবতীর্ (তবলা), মো. খোকন (বঁাশি), মো. হাসান মিয়া (বাংলা ঢোল), নওফেল বাদশা (দোতারা)।  

আজকের আয়োজন: একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন আজ। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত।  বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘নৃত্যাচাযর্ বুলবুল চৌধুরী :জন্মশতবষর্ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীষর্ক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে