logo
শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

নৌকার বিরোধিতা

আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

একটি সূত্রে জানা গেছে, যদি কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপে

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অর্থাৎ নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। বিকালে গণভবনে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নৌকার বিরোধিতাকারী দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের বিভাগীয় জেলাগুলোতে কারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, বিদ্রোহীদের সহায়তা করেছেন তার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পেশ করবেন। এরপর অভিযুক্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

তবে দলের একটি নীতিনির্ধারণী পর্যয়ের অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এমপি-মন্ত্রী, জেলা নেতা বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের আপাতত বিশেষ কোনো শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে না। তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হবে। আর যদি কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপে।

নাম প্রকাশ না করে আওয়ামী লীগের এক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জানান, দলের পক্ষ থেকে এমপি বা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন। দলের অনেক হেভিওয়েট নেতা উপজেলায় নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে, না হয় এ নিয়ে দলের ভেতরেই কথা উঠবে। তবে এ নিয়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোন কোন এমপি-মন্ত্রী বা দলীয় পদধারী নেতা নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তা জানতে চেয়ে তৃণমূলের কাছে প্রতিবেদন চওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্টের আলোকে সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রমাণাদিসহ প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন এবং তা গত ৫ এপ্রিল দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে উপস্থানও করা হয়েছিল। সে সময় নৌকা বিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের শোকজ করার সিদ্ধান্তও হয়। কিন্তু পরে বিভিন্ন কারণে তা আর হয়নি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা তখন বলেছিলেন, আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হুটহাট করে শোকজ করা ঠিক হবে না।

সূত্রমতে, সারাদেশেই দলীয় নেতাকর্মীরা কোনো না কোনো কেন্দ্রীয় নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে রাজনীতি করেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারা সেই নেতার সমর্থনেই হয়েছেন। এক্ষেত্রে শুধু এমপি বা মন্ত্রী নন, দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাই এতে জড়িত। আবার নেতাদের মধ্যেও বিভাজন আছে, রয়েছে সিন্ডিকেট। এসব কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী বা তাদের মদদদাতা নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন বলে মনে করছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৪৩ জন দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে তা-ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে। অনেকটা একতরফা এই নির্বাচনেও বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৫ম ধাপে শেরপুরের নকলা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, মাদারীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ময়মনসিংহের আটটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হেরে যান। খুলনার ছয়টির মধ্যে চারটি, টাঙ্গাইলের চারটি, কুমিলস্নায় দুটিতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি, মুন্সিগঞ্জের দুটিতে, পটুয়াখালীর একটি, ভোলার একটিতে ও ঢাকার একটি। তৃতীয় ধাপে লক্ষ্ণীপুরে তিনটি, কক্সবাজারের চারটি উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা।

সূত্র জানায়, নৌকার বিরোধিতাকারী এসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রে জমা পড়া তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক মন্ত্রী-এমপির তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এসব মন্ত্রী-এমপি কখনও অন্তরালে আবর কখনও সরাসরি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থী এবং তৃণমূল নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেও অভিযোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের আদেশের পরও সরকারদলীয় এমপি-মন্ত্রীদের লাগাম টানা যায়নি।

এ বিষয়ে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান যায়যায়দিনকে বলেন, শুক্রবার দলের কার্যনির্বাহি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। এমপি, মন্ত্রী বা অন্য যে বা যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্থাৎ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছে এ সভায় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে