logo
শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

পিজিআরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বমানে উন্নয়নে সচেষ্ট সরকার

১৯৭৫ সালের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন

সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বমানে উন্নয়নে সচেষ্ট সরকার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পাশে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ -ফোকাস বাংলা
স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা স্বাধীন দেশ। এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। তাই, স্বাধীন দেশের মতো করে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।'

পিজিআর সদস্যদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই রেজিমেন্টের সদস্যরা অত্যন্ত সাহস, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আপনাদের সততা, একনিষ্ঠতা এবং দেশপ্রেম সত্যিই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।'

এর আগে দুপুরে রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে পৌঁছে একদল চৌকষ গার্ডের অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শন বইয়ে সই করার পর তিনি ঘুরে ঘুরে পিজিআর সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সাথে পিজিআর সদস্যরা ফটো সেশনে অংশ নেন।

রেজিমেন্টের যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় মারা গেছেন প্রধানমন্ত্রী সেসব শহীদদের পরিবারের সদস্যদের উপহার ও অনুদান দেন।

১৯৭৫ সালের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিজিআর দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সরকারিভাবে ঘোষিত যে কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা বলেন, গার্ডসরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে নিরাত্তার দায়িত্বে থাকেন। তাই তার পক্ষ থেকেও গার্ডসদের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা সব সময়ই থাকে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠন করার পর পিজিআরের জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু করার কথা উলেস্নখ করেন।

এছাড়া ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর জনবল ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি করা এবং আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা উলেস্নখ করেন তিনি। পিজিআরে কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ প্রীতিভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

পুরস্কার নিলেন

১২ সেরা মেধাবী

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে শিক্ষার্থীদের আহ্‌বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী 'সৃজনশীল মেধা অন্বেষন ২০১৯' এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন সেরা মেধাবীকে পুরস্কার দেয়ার সময় তিনি এ আহ্‌বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, 'দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, মাটি ও মানুষের কথা চিন্তা করে পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে। যেন আমরা আমাদের দেশটাকে নিজেদের মত করে গড়ে তুলতে পারি, কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে। বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। সম্মানজনকভাবে নিয়ে চলতে চাই।'

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদর্শকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সব সময় ভালোবাসবে। দেশের মানুষকে ভালবাসবে এবং দেশকে গড়ে তোলার জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করবে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আমরা বিদু্যৎ চালিত ট্রেন

চালু করব : প্রধানমন্ত্রী

যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নের কথা উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ দেশে আমরা বিদু্যৎ চালিত ট্রেন চালু করব। বাংলাদেশের মানুষ যেন দ্রম্নতগতিতে কম খরচে কম সময়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।

আজ বুধবার বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর 'বেনাপোল এক্সপ্রেস' ট্রেনের এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বর্ধিত বিরতিহীন আন্তঃনগর 'বনলতা এক্সপ্রেস' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বর্ধিত বিরতিহীন আন্তঃনগর 'বনলতা এক্সপ্রেস'কে তিনি কোরবানি ঈদের উপহার বলেও ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাঁশিতে ফু দিয়ে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে নতুন এ ট্রেনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া রেলপথ উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেললাইন উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে