logo
সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

চার জেলার ৭৭ গ্রামে আজ ঈদ

যাযাদি ডেস্ক

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের চার জেলার বিভিন্ন গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের অর্ধশত গ্রামে, চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে, মাদারীপুরের ৩০ গ্রামে ও ভোলার ৭টি পৃথক ঈদ জামাতের মধ্য দিয়ে ঈদ

উদযাপিত হবে। ঈদের নামাজ আদায় শেষে তারা পশু কোরবানি করবেন। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা প্রেরিত খবর :

চট্টগ্রাম : আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশত গ্রামের মানুষ। সাতকানিয়ার মির্জারখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও একদিন আগে পশু কোরবানি করবেন। জানা গেছে, সূফি সাধক মাওলানা মোখলেছুর রহমান (র.) ২শ' বছর আগে এ নিয়ম প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে দরবারের মুরিদরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

ইতোমধ্যে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় ও কোরবানির জন্য প্রস্তুতি শেষ করেছে দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ। মির্জারখীল দরবার শরীফের মাঠে সকালে ঈদের নামাজ আদায় করবেন অনুসারীরা।

দরবার সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, চরতি, পুরানগড়, মৈশামুড়া, গাটিয়াডেঙ্গা, মাদার্শা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারলা, বাইনজুরি, কানাইমাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিজুরি, বাঁশখালীর কালীপুর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, ছনুয়া, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, লোহাগাড়ার পুটিবিলা, কলাউজান, বড়হাতিয়া, চুনতি, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, রাউজান, ফটিকছড়ির কয়েকটি এলাকা এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও হ্নীলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ রোববার ঈদুল আজহার নামাজ আদায় এবং পশু কোরবানি দিবেন।

চাঁদপুর : মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের কয়েকটি উপজেলার ৪০টির মতো গ্রামে রোববার ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। মধ্যপ্রাচ্য তথা সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের লোকজন রোজা, দুটি ঈদ, শবে বরাত, শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক জানান, ১৯৩২ সালে সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা পালনসহ দুই ঈদ উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। আগাম ঈদ পালনকারী গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে : হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, বলাখাল, মনিহার, জাক্‌িন, প্রতাপপুর, বাসারা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্ণীপুর, কামতা, গলস্নাক, ভূলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলী, মুন্সীরহাট, মূলপাড়া, বদরপর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোলস্না, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলবের দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অংশবিশেষ।

মাদারীপুর : ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাদারীপুর জেলার ৩০ গ্রামে সুরেশ্বর পীরের লক্ষাধিক মুরিদান আজ রোববার ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে প্রায় ১৪৮ বছর ধরে এসব গ্রামে আগাম রোজা রাখেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।

সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের গদীনশীন পীর আলহাজ খাজা শাহ্‌ সূফী সৈয়ে্যদ নূরে আখতার হোসাইন বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তালস্নুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর, আঙুলকাটা, হাজামবাড়ী ও শিবচর উপজেলার বাহেরচর, কেরানীরবাট, কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট, রমজানপুরসহ ৩০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ কোরবানির ঈদ উদযাপন করছেন। রোববার সকালে মাদারীপুর জেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৩০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে সদর উপজেলার তালস্নুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালকিনির খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।

বোরহানউদ্দিন (ভোলা) : সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ভোলা জেলার ১৩ হাজার মুসুলিস্ন একদিন আগেই আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন ও পশু কোরবানি দিচ্ছেন। এরা শুরেশ্বর ও সাতকানিয়া দরবার শরীফের অনুসারী। শরিয়তপুরের নরীয়া শুরেশ্বর দরবার শরীফ ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীগণ প্রতি বছর সৌদির সাথে একই দিনে রোজা রাখেন ও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। শুরেশ্বর দরবার শরীফের এক অনুসারী জানান, ভোলার সব ক'টি উপজেলায় তাদের অনুসারী আছে এবং তাদের সংখ্যা ১০ হাজারের কম নয়। ভোলায় তাদের ৬টি ঈদের জামাত হয়। ওই ঈদ জামাত হচ্ছে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মনিরাম ও খাসেরহাট, কাচিয়া ইউনিয়নের মুলাইপত্তন, লালমোহন উপজেলার পৌর এলাকায় মফিজ পাটোওয়ারী বাড়ির জামে মসজিদ, চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের জালাল মহাজন বাড়ীর জামে মসজিদ ও মনপুরা উপজেলায় হাজিরহাটে একটি। অন্যদিকে সাতকানিয়ার অনুসারীদের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। তাদের একমাত্র ঈদের জামাত হয়েছে টবগী ইউনিয়নের চৌকিদারবাড়ী জামে মসজিদে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকারী অনুসারীরা ওই মসজিদে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে তারা পশু কোরবানি দেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে