logo
মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ

জামিন নিয়ে নাটক করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

জামিন নিয়ে নাটক করছে সরকার: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন -যাযাদি
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার 'জঘন্য নাটক' করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শীর্ষ নেত্রীর মুক্তির দাবিতে আজ রোববার ঢাকা মহানগরে থানায় থানায় এবং সারাদেশে জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণাও দিয়েছেন। পাশাপাশি শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে দলের এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবদুল আউয়াল খান, আকম মোজাম্মেল হক এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, আনোয়ার হোসেইন, হুমায়ুন কবির খান, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, মামুন হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, এজিএম শামসুল হক, বেলাল হোসেন, এবিএমএ রাজ্জাক, আহসান উলস্নাহ চৌধুরী, হেলাল খান, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, শাহ নেছারুল হক, সেলিম রেজা, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যৌথ সভার সময়ে কার্যালয়ের সামনে পুলিশসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের অবস্থান দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার জঘন্য একটি নাটক করছে। একজন দেশপ্রেমিক নেতা, গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যার অবদান, পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তার জীবনরক্ষা করার জন্য দয়া করে নাটক বাদ দিয়ে তাকে জামিনে মুক্তি করুন এবং তাকে বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ করে দেন। অন্যথায় এদেশের মানুষ কোনো দিনই আপনাদের ক্ষমা করবে না, কখনোই করবে না। তখন আপনারাই ক্ষমার অযোগ্য হবেন। সেই সময় আসার আগে দয়া করে অতি দ্রম্নত একটু দেওয়ালের লিখনগুলো পড়ুন, একটু মানুষের কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করুন।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আগামী ১২ ডিসেম্বর পেছানোর পর বিএনপি দলীয় আইনজীবীদের বিক্ষোভ নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগকে ২০০৬ সালে ৩০ নভেম্বরের ঘটনার স্মরণ করিয়ে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা সেদিনের আইনজীবীদের বিক্ষোভকে মহা অপরাধ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু তারা এসব কথা বলার আগে নিজেদের পেছনটা কী একবার দেখার চেষ্টা করেছেন? তারা কি একবারো মনে করেছেন তারা কী করেছিলেন? বিএনপির আইনজীবীরা তো একটাও খারাপ কাজ করেন নাই। যারা ছিলেন তারা নিজের জায়গায় বসে থেকে তাদের দাবির কথা উচ্চারণ করেছেন, একটা আবেদনের কথা বলেছেন যে, ন্যায় বিচার চাই, সুষ্ঠু বিচার চাই। অন্যদিকে ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা আদালতে লাঠিমিছিল করেছিলেন। ওই দিন আওয়ামী আইনজীবীদের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছিল প্রধান বিচারপতির এজলাস, তিন দিন বিচারপতিরা কোর্টে আসেননি। এসব ছবি গুগলে গেলেই পাওয়া যাবে। ওই সময়ের আইন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল হাইকোর্ট চত্বরেই। হাইকোর্টের মধ্যে বস্তিও বসিয়েছিল। শুনানি স্থগিত হয়েছিল। ২০০৬ সালে নভেম্বরে চিফ জাস্টিসের কক্ষসহ সুপ্রিম কোর্টে ভাঙচুরের ঘটনার ছবি এসেছে গণমাধ্যমে। যাদের ছবি এসেছে তারা পরবর্তীকালে অনেকে বিচারপতিও নিয়োগ পেয়েছেন এবং এখনো বিচারপতি আছেন। এসব ঘটনা সকলের জানার কথা। এখন হুমকি দিচ্ছেন আইনজীবীদের হট্টগোল ক্ষমার অযোগ্য। তাহলে আপনাদের ওই সমস্ত তান্ডব ক্ষমা পেলো কীভাবে?

তিনি বলেন, কী দুর্ভাগ্য আজকে দেশের মিডিয়া এই কথা বলতে পারে না, লিখতে পারে না। কারণ তাদের সেই স্বাধীনতা নাই। মিডিয়ার অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, সরকারকে বলতেও হয় না। সেলফ সেন্সরশিপ করে। কারণ তাদের টিকে থাকতে হয়, বেঁচে থাকতে হয় এবং সত্য কথাটা তারা বলতে পারেন না, লিখতে পারেন না। দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব মিডিয়ার। এদেশে মিডিয়া সব সময়ই সেই দায়িত্ব পালন করেছে। জনগণের অধিকারকে রক্ষা এবং তাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব তারা পালন করেছেন।

ভারতের এনআরসি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, চিন্তা করে দেখেন। ভারত বর্ষে যে এনআরসি বা নাগরিক পুঞ্জি হচ্ছে- এটা সম্পর্কে নাকি কথাই বলা যাবে না। শুক্রবারও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কোনো চিন্তার কারণ নেই, উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তারা এত ভালো বন্ধু যে, কোনো ক্ষতি করবে না। আরে ইতোমধ্যে যেটা হয়ে গেছে সেটার কী হবে? কিছু লোক নাকি চলে এসেছে পুশ ইন। এটা মিডিয়ার কথা। বিজেবির কথা-কিছু লোককে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আইন পাস হচ্ছে যেটা হবে যেটা হচ্ছে যে, যারা এনআরসির বাইরে তাদের মধ্যে যারা অমুসলিম অর্থাৎ খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ-জৈন-হিন্দু সম্প্রদায়ের তাদের তারা নাগরিকত্ব দেবেন। আর যারা মুসলিম তাদের নাগরিক পাওয়ার কোনো সুযোগ নোই। প্রশ্ন করলে বলা হচ্ছে, তাদের নাকি যাওয়ার জায়গা আছে।

তিনি বলেন, এখন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয় না। চারপাশের অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা পাওয়া যায় না। সেখানে সম্পূর্ণভাবে সরকার ব্যর্থ। তবে একটা দিকে সফল তা হচ্ছে- মানুষের সম্পদ লুট করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করা। রাষ্ট্রীয় লুট করে এদেশকে তারা ফোকলা করে দিয়েছেন। টাকা পাচার যা হয়েছে। তা গত কয়েক বছরে কখনো কোন দেশে হয়েছে কি না জানা নেই। কানাডায় একটা পলিস্ন হয়েছে- নাম হচ্ছে বেগমপাড়া। সেখানে এদেশের বিশিষ্টজনদের বেগম সাহেবদের নামে বাড়ি তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত কস্টলি বাড়িঘর। মালয়েশিয়া, লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রে-প্রায় সব জায়গায়। টাকা দেশে থাকছে না, সব বাইরে চলে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে পতন তাদের হবেই। তাই তারা সব টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, পেঁয়াজের দাম কমে তো নেই, আরও বাড়তে শুরু করেছে, চালের দাম বাড়ছে। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ সরকারের নেই। কিন্তু মুখে তারা তুবড়ি ফুটিয়ে বেড়াচ্ছেন যে, অত্যন্ত ভালো চলছে। উন্নয়ন উন্নয়ন আর উন্নয়ন। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, প্রত্যেকটা সূচক নিচের দিকে নামছে। কোনো সূচক উপরের দিকে নেই। গার্মেন্টের সংখ্যা কমে গেছে, রপ্তানি কমে গেছে, রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, ভ্যাট যেটা করেছিল সেটা হচ্ছে না। এখন দুর্বুত্তদের কবলে দেশ পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সকলকে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়' উদ্ধুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, জনগণকে আর ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। দেশের মানুষ জেগে উঠতে শুরু করেছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের অধিকারকে আদায় করে নিয়ে আসবে। সেজন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বুদ্ধিজীবী ও মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কর্মসূচিসমূহ হচ্ছে- ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, সকালে মিরপুরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১৫ ডিসেম্বর বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পরে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয়র্ যালি এবং স্থান নির্ধারণে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা।

বিজয় দিবসের দিন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় অফিসে আলোকসজ্জা হবে। দিবসটি উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ করবে বিএনপি। দলীয় উদ্যোগে আলোচনা ও মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে। তবে স্থান ও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে সারাদেশে জেলা ইউনিটগুলোও নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ কাল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোমবার স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে