logo
রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকুন, সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতি

নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকুন, সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শনিবার মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কেক কাটেন -আইএসপিআর
নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থাকতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শনিবার মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে সরকার গৃহীত ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর কথা উলেস্নখ করে বলেন, 'এ কর্মপরিকল্পনা সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও গতিশীল করবে। যে-কোনো বাহিনীর উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, পেশাগত দক্ষতা এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলা, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে তাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।'

মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আপনারা জানেন, ২০২০ ও ২০২১ সাল আমাদের জাতীয় জীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ

বছর। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেছেন। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ইউনেস্কোও বাংলাদেশের সাথে মুজিববর্ষ পালন করবে। এটি অত্যন্ত গৌরবের। মুজিববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ বিশেষত তরুণ সমাজ আমাদের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।'

তিনি আরও বলেন, 'মুজিববর্ষসহ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সাড়ম্বরে উদযাপনের জন্য জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সশস্ত্র বাহিনীর সকল ইউনিট এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।'

আবদুল হামিদ বলেন, 'আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১-এর আলোকে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ায় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।'

বিভিন্ন ক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, 'মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্রবাহিনী জাতির অহংকার ও গর্বের প্রতীক। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে-কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ জাতিগঠনমূলক কর্মকান্ডে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। কেবল দেশেই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন।'

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনডিসি কমাডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধানসহ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা এবং এনডিসি বিভিন্ন কোর্সের অ্যালামনাইরা উপস্থিত ছিলেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে