logo
শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০  

দেশে ৬ জেলায় করোনা উপসর্গে ৬ জনের মৃতু্য

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ও নারায়ণগঞ্জে যুবক, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে রিকশাচালক, খুলনায় ষাটোর্ধ্ব নারী, নেত্রকোনার পূর্বধলায় যুবক ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে কৃষিশ্রমিক মারা গেছেন

জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশের ৬ জেলায় সোম ও মঙ্গলবার বৃদ্ধসহ ৬ জন মারা গেছেন। গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলায় ও নারায়ণগঞ্জে যুবক, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে রিকশাচালক, খুলনায় ষাটোর্ধ্ব নারী, নেত্রকোনার পূবর্ধলায় যুবক ও মানিকগঞ্জের সিন্দাইরে এক কৃষিশ্রমিক মারা গেছেন।

আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় 'শ্বাসকষ্টে' আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধ (৬৫) মারা গেছেন। আব্দুল কাইয়ুম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃতু্য হয়।

নিহত আব্দুল কাইয়ুম গাজীপুরের আব্দুল রশিদের ছেলে। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. সঞ্জয় দত্ত বলেন, নিহত আব্দুল কাইয়ুম 'শ্বাসকষ্টে' আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি একাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার সময় তিনি তার পিতা মৃত আব্দুল রশিদ ও বাড়ি গাজীপুরে জানালেও বিস্তারিত বলতে পারেননি। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃতু্য হয়েছে। আব্দুল কাইয়ুমের শ্বাসকষ্ট থাকলেও জ্বর বা সর্দিকাশি ছিল না।

তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, মৃতু্যর প্রকৃত কারণ চিহ্নিত হওয়ার পরই লাশের পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের বিস্তারিত ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জ:প্রচন্ড জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগে নারায়ণগঞ্জে খাইরুল আলম হিরো (৩০) নামে এক যুবকের মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে শহরের দেওভোগ কৃষ্ণচূড়া এলাকায় তার মৃতু্য হয়।

স্থানীয়রা জানান, শহরের দেওভোগ কৃষ্ণচূড়া এলাকার বাসিন্দা খাইরুল আলম হিরো মূলত সংগীত জগতে 'হিরো লিসান' নামে পরিচিত। তিনি বেস গিটারিস্ট। সেই সঙ্গে ঝুটের ব্যবসাও করতেন। গত ৭-৮ দিন আগে তিনি প্রচন্ড জ্বরে ভুগছিলেন। সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্টও ছিল। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে শহরের দেওভোগের বাসায় আনা হয়।

মঙ্গলবার ভোরে তার মৃতু্য হয়। পরে বাসা থেকে তার মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজনের বাধায় মরদেহ ফেলে রেখেই চলে যান চালক। এ সময় পরিবারের লোকজনও মরদেহ ধরতে আসেননি। ফলে মরদেহ পড়ে থাকে বাড়ির গেটের ভেতরেই।

এদিকে সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফরোজা আফরোজ বিভা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তফা আলী শেখ ও ফতুলস্না মডেল থানা পুলিশ। তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে তার পরিবার ও বাড়ির সবাইকে আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়।

কিশোরগঞ্জ: জেলার বাজিতপুরে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিনের মধ্যে এক রিকশাচালকের মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ওই ব্যক্তির মৃতু্য হয়। তিনি ওই উপজেলারই বাসিন্দা। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স সূত্র জানায়, মারা যাওয়া ব্যক্তি অন্তত দশ বছর ধরে শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এই রোগের চিকিৎসা নিতেন। শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে রিকশা চালিয়ে আসছিলেন। সোমবার সকাল দশটার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন। এসে শ্বাসকষ্টের কথা জানান। শ্বাসকষ্টের কথা জানার পর তাকে আইসোলেশন ইউনিটে নেওয়া হয় এবং আইসোলেশন ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়। গতকালই তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিকাল থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে থাকে। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই শ্বাসকষ্টের মাত্রা কমিয়ে আনা যায়নি। মঙ্গলবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

খুলনা: খুলনায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সালেহা বেগম নামে ষাটোর্ধ্ব এক নারীর মৃতু্য হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপতালের মে?ডি?সিন ওয়ার্ডে তার মৃতু্য হয়।

সালেহা বেগম রূপসা উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। তবে তার মৃতু্য নিয়ে দুই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান জানান, জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত ওই বৃদ্ধা সাত দিন আগে তার নাতির সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি তথ্য গোপন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স থেকে চিকিৎসা নেন। সোমবার রাতে তিনি বাড়িতে মারা গেছেন।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদেরকে দ্রম্নত হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে এক যুবকের মৃতু্য হয়েছে। সোমবার রাতে ৩৮ বছর বয়সি এই যুবকের মৃতু্যর পর শ্যামগঞ্জ এলাকায় তাদেরসহ আশপাশের সাতটি বাড়ি 'লকডাউন' করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শ্যামগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ওয়াহীদুর রহমান খান মামুন বলেন, এই যুবক শ্যামগঞ্জ বাজারে একটি খাবার হোটেলে কাজ করতেন। কয়েকদিন ধরে তিনি সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

তিনি আরও বলেন, 'সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতেই তিনি মারা যান।'

পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, যেহেতু মৃতু্যর আগে ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তাই রিপোর্ট এলে মৃতু্যর কারণ জানা যাবে। মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের সাতটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের 'লকডডাউন' সিঙ্গাইর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাড়িতে ফেরার পর করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক কৃষিশ্রমিক মারা গেছেন।

৪৬ বছর বয়সি এই ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্বসাহেব গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মনিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে কৃষিশ্রমিকের কাজ করতেন।

সিঙ্গাইরে তাবলিগ জামাতের এক সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার রাতে সিঙ্গাইর পৌরসভা লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। এছাড়া সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, ৪৬ বছর বয়সি এই কৃষিশ্রমিক ও তার এলাকার এক সঙ্গী সোমবার সিঙ্গাইর থেকে গ্রামের বাড়ি আসেন।

'তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। বাড়ি ফেরার পর সোমবার রাতেই তিনি মারা যান।'

ওই কৃষকের সঙ্গীর নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে