logo
রোববার ২৬ মে, ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

নদীর ভূমি বরাদ্দ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

নদীর ভূমি বরাদ্দ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
দেশের নদ-নদী দখলমুক্তসহ আট দফা দাবিতে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুক্রবার মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন -যাযাদি
দেশের নদ-নদীকে দখলমুক্ত ও রক্ষা করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অথচ এই সরকারেরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশের বেশ কয়েকটি নদীর ভূমি বরাদ্দ দিয়ে রেখেছে। এভাবে নদীগুলোর ভূমি বরাদ্দ বাতিল এবং সারা দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে নদী বিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মানববন্ধন শুরু হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ), পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, ছায়াতল বাংলাদেশ, সম্ভব বাংলাদেশ ও সুবন্ধন সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে পরিবেশবিদ নাসির খান বলেন, সরকার বিভিন্ন সময় নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরে কোনো সময়ই নদীর জায়গায় নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। বারবার উচ্ছেদ অভিযানের পর পরই অধিকাংশ জায়গা অবৈধভাবে পুনর্দখল হয়ে যায়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর উদ্ধার করা জায়গা খনন না করলে, পুনর্দখলের আশঙ্কা এবং সঙ্কোচিত নদী সঙ্কোচিতই থেকে যায়।

হাবিব নামে এক বক্তা বলেন, সরকারের উচ্ছেদ অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান হুট করে থামিয়ে দেবেন না। এটাকে অব্যাহত রাখবেন। তাহলেই আমরা আবার নদীর বহমানতাকে ফিরে পাব।

দেশের নদী রক্ষায় সরকারের চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানই যথেষ্ট নয়, উদ্ধার করা নদীর জায়গায় নদীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও মানববন্ধনে জানানো হয়।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, সরকার বর্তমানে নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে, তা আরও জোরদার ও বেগবান করা। নদী দখলকারীদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খরচ, নদীকে নদীর জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার খরচ ও নদী ভরাটমুক্তের খরচ বহন করতে হবে। নদী দখলকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানান বক্তারা।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় সিএস/আরএস রেকর্ড অনুসারে, নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে স্থায়ী পিলার স্থাপন করা, যা নদীকে সংকোচিত করবে না, বরং প্রশস্থ করবে। নদী দখল ও দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

নদীর নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে ম্যানুয়েল পদ্ধতি বা এসকেবেটরের মাধ্যমে খনন করে নদীর গতি প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া মানববন্ধন থেকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নদী ও জলাশয়ে শিল্প ও পয়ঃবর্জ্যসহ অন্যান্য আবর্জনা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে