logo
রোববার ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

রিভিউ খারিজ

মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধই রইল

রাজউকের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড বন্যা প্রবাহিত এলাকায় মধুমতি মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্প গ্রহণ করে

সাভারের আমিনবাজারে বিলামালিয়া ও বলিয়ারপুর মৌজার মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে প্রায় সাত বছর আগে দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড ও কয়েকজন পস্নটমালিকের করা আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এর ফলে মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের ভূমি আগের অবস্থায় (জলাশয়) ফিরিয়ে আনার যে নির্দেশ আপিল বিভাগ দিয়েছিলেন, তাও বহাল রইল। এর আগে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট আপিল বিভাগ ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মেট্রো মেকার্স ও কয়েকজন পস্নটমালিক পৃথক পাঁচটি আবেদন (রিভিউ) করেন। এর শুনানি নিয়ে গতকাল রিভিউ আবেদনগুলো খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, এ এম আমিন উদ্দিন, সাইদ আহমেদ কবির। মেট্রো মেকার্সসহ পুনর্বিবেচনার আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আবদুল মতিন খসরু, কামাল উল আলম প্রমুখ।

রাজউকের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড বন্যা প্রবাহিত এলাকায় মধুমতি মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বেলা। এতে ভূমি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়, রাজউক ও মেট্রো মেকার্সকে বিবাদী করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। আর রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৫ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে পস্নটগ্রহীতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ওই প্রকল্পে মাটিভরাট বন্ধ করার বিষয়ে রাজউকের মেট্রো মেকার্সকে দেয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে অপর রিট আবেদনটি করে মেট্রো মেকার্স। এই আবেদনও খারিজ হয়।

আদালত সূত্র জানায়, এসব রায়ের অংশবিশেষের বিরুদ্ধে পক্ষগুলো পৃথক চারটি আপিল ও রাজউক একটি আবেদন করে। এর মধ্যে বেলার রিটে ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে মেট্রো মেকার্স একটি এবং মাটিভরাট বিষয়ে রিট খারিজের বিরুদ্ধে অপর আপিলটি করে। আর পস্নট গ্রহীতাদের স্বার্থ সংরক্ষণের নির্দেশনার বিরুদ্ধে বেলা আপিল করে। রাজউকও এ বিষয়ে একটি আবেদন করে। আর প্রকল্প অবৈধ ঘোষণার অংশবিশেষের বিরুদ্ধে পস্নটগ্রহীতারাও তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি আপিল করেন। এসব আপিল ও আবেদনের ওপর ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। একই বছরের ৭ আগস্ট আদালত রায় ঘোষণা করেন।

২০১৩ সালের ১১ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, বিবাদী (মেট্রো মেকার্স) আপিলের সারসংক্ষেপে বলেছে, ৫৫০ একর ভূমি তারা ক্রয় করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশ, ৯৮ অনুসারে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১০০ বিঘার বেশি জমি রাখতে পারবে না। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বরাবরে ১০০ বিঘার বেশি জমি রাখা যাবে না। ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রায়ের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পরে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মেট্রো মেকার্স ও কয়েকজন পস্নটমালিক পৃথক পাঁচটি আবেদন (রিভিউ) করেন। এর শুনানি নিয়ে আজ রিভিউ আবেদনগুলো খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে